কসিক নির্বাচনে ৩ মেয়র প্রার্থী পূর্ব অভিজ্ঞতা নিয়ে এগুচ্ছে অন্যরা নির্বাচনে এসেছে পরিচয়ের জন্য

কুমিল্লা প্রতিনিধি :

১৬২ জন সন্ত্রাসী গ্রেফতারে কঠোর নজরদারী: ২৭ ওয়ার্ডে ৯ ম্যাজিষ্ট্রেট তৎপর
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্ধের পর জমে উঠেছে প্রচার প্রচারণা। শীতকে উপেক্ষা করে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনী মাঠ এখন সরগরম। প্রতীক নিয়ে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী মহানগরীর বিভিন্ন আনাচে কানাচে পোষ্টারে পোষ্টারে ছেয়ে গেছে। নির্বাচনী আমেজে ভাসছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এলাকা। নতুনরূপে সেজেছে নগরীর হাট-মাঠ-ঘাট। দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলছে মাইকিং, পোষ্টার, লিফলেট, সমর্থিতদের উঠান বৈঠক, গণসংযোগসহ সব মিলিয়ে চলছে মহানগরীতে এক আমেজে ভরপুর। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য ৯ জন মেয়র, ২৮৬ জন সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীরা এখন ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। ব্যস্ত হয়ে পড়েছে মহানগরের বিভিন্ন ছাপাখানা ও কাগজ বিক্রেতারা। শীতের কুয়াশার কারণে অনেক প্রার্থী ভিন্ন রূপে পোষ্টার টাঙ্গিয়েছেন। পলিথিন বিক্রি সরকারের নিষিদ্ধ থাকর পরও কতিপয় ব্যবসায়ী এই সুযোগে পলিথিন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কুয়াশা ভিজতে না পারে সে জন্য ভিন্ন কৌশল হিসেবে পলিথিনের ভিতরে পোষ্টার টুকিয়ে টাঙ্গানো হচ্ছে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার লক্ষে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার সাড়াশী অভিযান ইতিমধ্যে চলছে আর আচরণ বিধি পর্যবেক্ষণ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ৯ ম্যাজিষ্ট্রেট মাঠে নেমেছেন। নগরীর ২৭টি ওয়ার্ড দিনভর ম্যাজিষ্ট্রেটরা আচরণ বিধি পর্যবেক্ষণ করছেন। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আচরণ বিধি পর্যবেক্ষণ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ৯ ম্যাজিষ্ট্রেট মাঠে নেমেছেন। ২৭টি ওয়ার্ডে তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। এদের মধ্যে ১-৩ নং ওয়ার্ডের দায়িত্বে রয়েছেন মোঃ নুর হোসেন, ৪-৬নং ওয়ার্ডে মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ, ৭-৯নং ওয়ার্ডে মোহাম্মদ শামসুজ্জামান, ১০-১২নং ওয়ার্ডে জয়নাল আবেদিন, ১৩-১৫নং ওয়ার্ডে ফিজনূর রহমান, ১৬-১৮নং ওয়ার্ডে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ১৯-২১ নং ওয়ার্ডে রেজাউল করিম, ২২-২৪নং ওয়ার্ডে শেখ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং ২৬-২৭নং ওয়ার্ডে মুহাম্মদ আব্দুল হাই মিল্টন দাায়িত্ব পালন করছেন। আচরণ বিধি রক্ষায় সহকারী নির্বাচন কমিশনার নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেটদের টহল দান অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসন পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নজরদারী করছেন।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভায় তাগিদ দেয়া হয়েছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারী করছে। সভায় নগরীর ১৬২ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধারে র‌্যাব-পুলিশ শিগগিরই অভিযান চালাবে বলে সভায় জানানো হয়। নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলার কোতোয়ালি ও সদর দক্ষিণ মডেল থানা এলাকার অন্তর্ভুক্ত নগরীর ১৬২ জন সন্ত্রাসীর নাম তালিকাভুক্ত করা হয়। পুলিশের এ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে ইসি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাগাদা দেয়া হলেও পুলিশ এ পর্যন্ত নেহাল নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া উদ্ধার হয়নি কোন অস্ত্র। কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ নগরীতে ১৩৪ জন ও সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ ২৮ জন সন্ত্রাসীর তালিকা করেছে। এ তালিকায় রয়েছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের নাম। তালিকার বাইরেও বর্তমানে অনেক সন্ত্রাসীর আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে নগরীতে। রাতদিন নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে ২৭টি চেক পোষ্ট ১৬টি টহল দল পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে।

আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট আফজল খান, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু এবং জাতীয় পার্টির এয়ার আহমেদ সেলিমের উপজেলা ও পৌরসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। অপরদিকে সাবেক দুই ছাত্রনেতা নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম ও আনিসুর রহমান মিঠুর কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার অভিজ্ঞতা থাকলেও এবারই তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। মেজর (অব.) মামুনুর রশিদ, সালমান সাঈদ, চঞ্চল কুমার ঘোষ ও শিরিন আক্তার প্রথম নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। জানা গেছে, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আফজল খান স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে কুমিল্লা পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৮ সালে আদর্শ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বিএনপি থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাবেক পৌর মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ২০০৫ সালে পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। ১৯৯২ সালে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার আহমেদ সেলিম পৌর চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন। নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদে ১৯৯২ সালে জিএস ও ১৯৯৭ সালে ভিপি পদে নির্বাচিত হন। আনিসুর রহমান মিঠু ২০০১ সালে কুমিল্লা আইন কলেজের ভিপি নির্বাচিত হন। তবে ১৯৮৯ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস পদে এবং ১৯৮৮ সালে বহিঃক্রীড়া সম্পাদক পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর মেয়র প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকরা গণসংযোগে নেমে পড়েছেন। পোস্টার শোভা পাচ্ছে নগরীর বিভিন্ন এলাকায়। শীতের তীব্রতা থাকলেও নগরীতে বেড়ে গেছে ভোটের উত্তাপ। এর সঙ্গে বেড়েছে নগরীর ভোটারদের কদরও। প্রতিটি পাড়া-মহল্লা প্রার্থীদের পদচারণায় মুখোরিত হয়ে উঠছে। মাইকিং চলছে নগরীর অলি-গলিতে। আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী অধ্যক্ষ আফজল খান’র পক্ষে কাজ করছেন ১৬টি উপজেলার ৯ এমপি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply