সরাইলে হত্যা মামলার আসামিরা রাজপথে

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ॥

পথসভায় বক্তব্য রাখছেন রফিক উদ্দিন ঠাকুর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে হত্যার বিচার ও আসামিদের ফাঁসির দাবিতে রাজপথে নেমেছেন খোদ হত্যা মামলার আসামিরা। সরাইল আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর লিলু হত্যার এজাহারভুক্ত আসামি। অপরদিকে সরাইল আ’লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুর রাশেদ আনিছ হত্যার এজাহারভুক্ত আসামি। তারা দু’জনেই হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে এখন রাজপথে। আসামিদের ফাঁসির দাবিতে তারা পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে চলেছেন। বিষয়টিকে ঘিরে সরাইলের নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। জানা গেছে, গত ৭ ডিসেম্বর আনিছ হত্যার বিচার ও আসামিদের ফাঁসির দাবিতে উপজেলা সদরে এলাকার লোকদের নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন রফিক উদ্দিন ঠাকুর। এর জের ধরে ১১ ডিসেম্বর লিলু হত্যার বিচার ও আসামিদের ফাঁসি দাবি করে এলাকার লোকজন নিয়ে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন আবদুর রাশেদ। পৃথক সমাবেশে বিক্ষুব্ধ জনতা দু’টি হত্যাকান্ডেরই বিচার দাবি করেন।
পথসভায় বক্তব্য রাখছেন আব্দুর রাশেদ
এলাকাবাসী জানান, সরাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ১২ জুন সকালে সশস্ত্র হামলায় কুট্টাপাড়া গ্রামের আনিছ উদ্দিন ঠাকুর ও গ্রামের জামাতা মো. লিলু মিয়া খুন হন। জোড়া খুনের ঘটনায় থানায় পৃথক মামলা হয়। সরাইল থানা পুলিশ আনিছ হত্যা মামলাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবং লিলু হত্যা মামলা কুমিল্লায় অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সি আই ডি) হস্তান্তর করেন। ইতিমধ্যে আনিছ হত্যা মামলার তিন জন আসামি গ্রেপ্তার হলেও লিলু হত্যার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী রফিক উদ্দিন ঠাকুর বলেন, আবদুর রাশেদ ও মনির উদ্দিন সহ অন্যান্য আসামিরা ১২ জুন সকালে আমার ছোট ভাই আনিছ উদ্দিন ঠাকুরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আনিছ হত্যাকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার জন্য তারা লিলু মিয়াকে হত্যা করে নাটক সাজিয়েছে। উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুর রাশেদ বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আমাকে আনিছ হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। আমি এই হত্যাকান্ডের ব্যাপারে কিছুই জানি না। লিলু হত্যার আসামিরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদিকে আনিছ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক লিটন চৌধুরী বলেন ওই মামলার ১১ জন আসামির মধ্যে ইতি মধ্যে তিন জনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। লিলু হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিলা সি আই ডি পুলিশের (অপরাধ তদন্ত বিভাগ) উপ-পরিদর্শক রফিক আহমেদ বলেন, মামলাটি বির্তকিত। তাই বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করছি। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply