৪০ বছর পর স্মরণ !

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ॥
১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে পাক হানাদার বাহিনী তাদের এদেশীয় দোসরদের সহায়তায় ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর গ্রামের কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাসহ নিরীহ নিরস্্র ৭৪ জন গ্রামবাসীকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে। সেই সাথে বিটঘর,বড়ইবাড়ি,পানিশ্বর ও সাখাইতি গ্রামে অগ্নিসংযোগ করে কয়েকশ বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেয়।

স্বাধীনতার ৪০ বছরের মধ্যে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ ওই সব ৭৪ পরিবারের কোনো সদস্যকে সরকার বা কোনো সংস্থা খোঁজ খবর নেননি। এবারই প্রথম গত শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান স্বাধীনতার ৪০ তম বিজয় দিবসে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ওই সব ৭৪ শহীদ পরিবারের সদস্যদেরকে হাজির করা হয় উপজেলা সদরের সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম অডিটোরিয়ামে। মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি তাদেরকেও দেওয়া হয় সংবর্ধনা।

সংবর্ধনায় অংশ নেওয়া বিটঘর গ্রামের বাসিন্দা মো. বকুল মিয়া (৪৭) বলেন, ওই দিন ৭৪ জনের মধ্যে আমার দুই চাচাও শহীদ হয়েছিল । ৪০ বছরের মধ্যে আমাদের পরিবারের খোঁজ খবরও নেয়নি কেউ। আজ আমরা নিজেদেরকে সম্মানিত বোধ করছি। আমজাদ হোসেন (৪৫) বলেন আমার ছোট চাচা ওই সময়ে শহীদ হলেও এখনো আমরা এর স্বীকৃতি পায়নি।

এ ব্যাপারে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সাফায়াৎ মুহম্মদ শাহে দুল ইসলাম বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিটঘর গ্রামের যারা আতœত্যাগ করেছে তাদের স্বীকৃতি স্বরূপ ওই সব পরিবারের সদস্যদেরকে সম্মান দেওয়া হয়েছে। এধরনের উদ্যোগ আগেই নেওয়া উচিত ছিল।

সরাইল উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর বলেন এখন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি ওই সব পরিবারের সদস্যদেরও সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সেই সাথে তাদের খোঁজ খবর নেওয়া হবে। পুরো অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন, সরাইল সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম খাঁন।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply