মুরাদনগরে চাঞ্চল্যকর জাকির হোসেন হত্যা মামলা ঠেকাতে একের পর ক মামলা !

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :

জাকির হোসেন
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আন্দিকোট ইউনিয়নের জারেরা (জাড্ডা) গ্রামের চাঞ্চল্যকর জাকির হোসেন হত্যা মাামলাটি ঠেকাতে বাদী পক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে ধর্ষনের চেষ্টা, চাঁদাবাজি, হামলা, ভাংচুর ও লটতরাজের একের পর এক অভিযোগ এনে অহেতুক হয়রানী করে প্রকৃত হত্যা মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে গুরতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ দিকে জাকির হোসেন হত্যাকারীদের গ্রেফতার পূর্বক ফাঁসির দাবিতে এলাকায় সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অব্যাহত রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জারেরা গ্রামের মৃত আবুল কাশেম মোল্লার ছেলে শেখ সাদী ও সালাউদ্দিনের সাথে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাদের চাচা মৃত ওয়ারিশ মোল্লার ছেলে ইব্রাহিম মোল্লার দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য গত ১১ নবেম্বর শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় প্রাইমারী স্কুল মাঠে এক সালিশ বসে। উক্ত সালিশে একই গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে জাকির হোসেন সঠিক সাক্ষী দেয়ায় প্রতিপক্ষের লোকজন ক্ষীপ্ত হয়ে উঠে। সালিশ শেষে সন্ধ্যা অনুমান সাড়ে ৬টায় জাকির হোসেন বাড়ি ফেরার সময় তার পথ গতিরোধ করে প্রতিপক্ষের লোকজন দা, ছুরি, লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে পরিকল্পিত ভাবে আক্রমন চালায়। এতে জাকির হোসেনের মাথাসহ সমস্ত শরীর ছেচাফুলা ও কাটা রক্তাক্ত জখম করে এবং হাতুরী দিয়ে দাঁতগুলো ভেঙ্গে দেয়। খবর পেয়ে এলাকার লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কুমেক হাসপাতাল হয়ে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৯ নবেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় জাকির হোসেন মারা যায়। চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় জাকির হোসেনের চাচা মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে শেখ সাদীসহ নামধারী ১৭ জন ও অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে গত ১৩ নবেম্বর রোববার মুরাদনগর থানায় একটি মামলা রুজু করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

অপর দিকে মাামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষে উক্ত হত্যা মামলার স্বাক্ষী আবুল বাশারের পুত্র জামাল মিয়া, তার চাচা আবুল খায়েরের ভাই আবু বকর, মফিজ মিয়ার পুত্র হাছান মিয়া ও ওয়াদুদ মিয়ার পুত্র বাছির মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যা মামলার ৬নং আসামী পাখি আক্তার গত ১৬ নবেম্বর বুধবার কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ১২ নবেম্বর রাত অনুমান সাড়ে ১০টায় অভিযুক্তরা পাখি আক্তারকে ধর্ষনের চেষ্টা করেন। বিজ্ঞ বিচারক অভিযোগটি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেয়ার জন্য মুরাদনগর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। এদিকে উক্ত হত্যা মামলার স্বাক্ষী আবুল বাশারের পুত্র জামাল মিয়া, বজলুর রহমানের পুত্র আবু মুছা, বাশার মিয়ার পুত্র মহসিন মিয়া, আবুল খায়েরের পুত্র আল আমিন ও রূহুল আমিনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার ১নং আসামী শেখ সাদীর স্ত্রী মলিনা বেগম বাদী হয়ে গত ৪ ডিসেম্বর রোববার কুমিল্লার জুডিশিয়াল আদালতের ২নং আমলী আদালতে আরেকটি অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ১৫ নবেম্বর মঙ্গলবার দুপুর অনুমান ১ টায় অভিযুক্তরা শেখ সাদীকে চাঁদার দাবিতে মারধর করে লুটপাট করেন। বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আব্দুল হান্নান বিষয়টি সত্যতার ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ওসি মুরাদনগরকে নির্দেশ দেন।

ঘটনার পর থেকে হত্যা মামলার আসামী শেখ সাদী ও পাখি আক্তারসহ সকলে পলাতক রয়েছেন বলে এলাকাবাসী জানায়। এর মধ্যে ধর্ষন চেষ্টা, চাঁদার দাবিতে মারধর ও লুটপাট কিভাবে হলো তা’ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এবং একের পর এক মিথ্যা অভিযোগের সংবাদে এলাকার সর্বমহলে তোলপাড় চলছে। ফলে এলাকাবাসী তথাকতিথ, মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্য প্রনোদীত ও ষড়যন্ত্রমূলক ধর্ষন চেষ্টা, চাঁদার দাবিতে মারধর ও লুটপাটের মিথ্যা অভিযোগ থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে জাকির হোসেন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও থানার এসআই হাবিবুর রহমান জানান, আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ দিকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মুরাদনগর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম তালুকদার জানান, ঘটনাটি সঠিক কিনা তা’ যাচাই-বাছাইসহ স্বাক্ষী-প্রমানাদি সাপেক্ষে প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হবে।

Check Also

দেবিদ্বারের সাবেক চেয়ারম্যান করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মৃত্যু: কঠোর নিরাপত্তায় গ্রামের বাড়িতে লাশ দাফন

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ভাণী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান (৫৫) করোনায় আক্রান্ত ...

Leave a Reply