ঘুরে ফিরে আসছে দুই প্রার্থীর নাম : অন্যরাও কম যান না

কুমিল্লা, ০৪ ডিসেম্বর ২০১১ (কুমিল্লাওয়েব ডট কম) :

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ১০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও ঘুরে ফিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই হেভিওয়েট প্রার্থীকে নিয়েই চলছে নগরজুড়ে আলোচনা। বর্ষীয়ান নেতা ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট অধ্যক্ষ আফজল খান এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিলুপ্ত পৌরসভার মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চলছে অত্যন্ত কৌশলে। তাদের মধ্যে একজন দলীয় সমর্থন পেলেও অপরজন দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মাঠে রয়েছেন।

দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে মনোনয়ন জমা দিচ্ছেন আওমিলীগ প্রার্থী এডভোকেট আফজাল খান
দুই বড় রাজনৈতিক দলের এ দুই নেতার একদিকে যেমন রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, একইভাবে নানা অপকর্মেও বিভিন্ন সময়ে তাদের নাম জড়িয়ে ছিল বলে নগরবাসী মনে করে । নানা ধরনের নির্বাচনে এদের দুজনেরই রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা । একাধিক নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং জয়-পরাজয়ের অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে। কুসিক নির্বাচন সামনে রেখে আবার নতুনভাবে তাদের ‘আমলনামা’ বিচার-বিশ্লেষণ করছেন কুমিল্লার ভোটাররা।
দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে মনোনয়ন জমা দিচ্ছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু
কোনো কারণে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে মেয়র পদের মূল লড়াইটা যে এ দু’জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এ নিয়ে কারও যেন কোনো সন্দেহ নেই।

দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিএনপি নেতা সাক্কু প্রার্থী হলেও বিএনপির কোন বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় সাক্কু আছেন সুবিধা জনক অবস্থানে । দলের সাধারণ সম্পাদক হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিনের প্রার্থী হওয়ার কথা থাকলেও ইভিএম পদ্ধতি বাতিল ও সেনা মোতায়েন দাবির অজুহাতে তিনি নির্বাচনে অংশ নেননি। এছাড়াও জামায়াত নির্বাচন বর্জন করায় সুবিধাও পেতে যাচ্ছেন সাক্কু। অপর প্রার্থী সঙ্গীত শিল্পী আসাফ আকবরও সমর্থন জানিয়েছেন মনিরুল হক সাক্কুকে।

শুভাকাঙ্খীদের সাথে নিয়ে মনোনয়ন জমা দিচ্ছেন আওয়ামিলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নূর উর রহমান তানিম
এদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থনের বাইরে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের দুই সাবেক নেতা নুর উর রহমান মাহমুদ তানিম ও আনিসুর রহমান মিঠু। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে এ নির্বাচনে তাঁদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় দলেটির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে মনোনয়ন জমা দিচ্ছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী এয়ার আহমেদ সেলিম
অপরদিকে দুই বিদ্রোহী ছাড়াও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী শরিক জাতীয় পার্টির প্রার্থী।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট আফজল খান কুমিল্লার রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বর্তমানে বয়োজ্যেষ্ঠ। ষাটের দশকে তিনি ছিলেন ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা। ওই সময় তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ভিপি নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধেও তার অবদান উল্লেখ করার মতো।

১৯৭২ সালে তিনি কুমিল্লা শহর ও কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া তিনি জেলা মহাজোটের আহ্বায়ক ও ১৪ দলের সমন্বয়ক। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কুমিল্লা শহরে প্রতিষ্ঠা করেন প্রায় ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু এক সময় যুব রাজনীতির মাধ্যমে লাইমলাইটে এলেও মামাতো ভাই সাবেক মন্ত্রী বিএনপির অন্যতম নীতি নির্ধারক লে. কর্নেল (অব.) আকবর হোসেনের মৃত্যুর পর অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েন।

ওই সময় তিনি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে দু’দফায় তিনি কুমিল্লা পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়ে শহরের উন্নয়নে কাজ করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, পুরনো বিরোধের কারণে দলের কেউ অন্তর্ঘাতী কাজ করলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জন্য বিপদ হতে পারে। বিএনপির প্রার্থী ভেতরে ভেতরে দলীয় ও জামায়াতের সমর্থন পেলে তাকে ঠেকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

এদিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সম্ভাব্য ১০ মেয়র পদপ্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনই ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে । শুক্রবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হলফনামা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সম্ভাব্য ১০ প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনই হলফনামায় লিখেছেন, তাঁদের পেশা ব্যবসা। কিন্তু তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তাঁদের প্রধান পেশাই ঠিকাদারি।

এদের মধ্যে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দলীয় সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী আফজল খান সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), সাবেক কুমিল্লা পৌরসভা ও জেলা পরিষদে ঠিকাদারি করেন।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য বিলুপ্ত কুমিল্লা পৌরসভার মেয়র মো. মনিরুল হক সওজ, পাউবো, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিভাগে;

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার আহমেদ গণপূর্ত এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ;

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান পাউবো ও সওজ এবং

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূর-উর রহমান পাউবো, সওজ, সাবেক কুমিল্লা পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বিভাগে ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে যুক্ত।

এ ছাড়া অন্য পাঁচজনের মধ্যে চঞ্চল কুমার ঘোষের রয়েছে মিষ্টির ব্যবসা, মো. সালমান সাঈদের পেশা মৎস্য চাষ, মো. হাসানুল আলমের পেশা সাংবাদিকতা/ লেখালেখি। শিরিন আক্তার পেশার ঘরে লিখেছেন গৃহিণী ও মো. মামুনুর রশীদ লিখেছেন ‘অবসরযাপন’।

শিক্ষাগত যোগ্যতা:
হলফনামা থেকে জানা যায়, আফজল খানের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ, এলএলবি। মো. মনিরুল হক এসএসসি পাস, এয়ার আহমেদ অষ্টম শ্রেণী পাস, আনিসুর রহমান বিএ, এলএলবি এবং নূর-উর রহমান বিএসএস।
অন্য পাঁচ মেয়র পদপ্রার্থীর মধ্যে মো. মামুনুর রশীদ এমবিএ, শিরিন আক্তার এসএসসি, মো. সালমান সাঈদ বিবিএ, চঞ্চল কুমার ঘোষ এইচএসসি ও মো. হাসানুল আলম স্নাতক (সম্পূরক)।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply