কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পর্যবেক্ষনে’র উপর নাগরিক সংলাপ

দেলোয়ার জাহিদ :

দেলোয়ার জাহিদ
গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থা হলো স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক, যা নাকি গণমানুষের মতপ্রকাশের সাথে সংসৃষ্ট। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় আইনে সংখ্যাগরিষ্ট প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর মতামতে বা ভোটে নির্বাচিত হয় গণতান্ত্রিক সরকার, যাহা জাতিসংঘ মানবাধিকার ঘোষনা’র ধারা ২১ এ সন্নেবিশিত আছে। বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠ, এবং সন্ত্রাসমুক্ত নির্বাচনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিভিন্ন দাতাগোষ্টীর গভীর আগ্রহ রয়েছে। ভোটাধিকার হলো নাগরিক অধিকার যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি মানবাধিকার। গণতান্ত্রিক আইন কাঠামো ও নির্বাচনে প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্ধিতার মধ্যদিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সংখ্যাগরিষ্টের মতামতে পরিচালিত হয় সরকার বা এর প্রতিষ্ঠানসমূহ। জনগনের মতে, জনগনের নামে এবং জনগনের স্বার্থে কাজ করে যে সরকার তা’ই হলো গণতান্ত্রিক সরকার।

একটি গণতান্ত্রিক সরকারের অর্জন স্থানীয় সরকার বা এর প্রতিষ্ঠানসমূহকে স্বাতন্ত্রতার সাথে শক্তিশালীকরণ। বাংলাদেশে কুমিল্লা পৌরসভা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিন পৌরসভাকে নিয়ে গত ১০ জুলাই ২০১১ ইংরেজী বর্ষে গঠিত হয়েছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন। কুমিল্লা সমবায় আন্দোলন ও পল্লী উন্নয়নের পথিকৃৎ। এখানে অনুষ্ঠিত নির্বাচন হতে পারে অন্যান্য সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোর জন্য একটি মডেল। ’৬০ এর দশক থেকে স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন প্রশাসনের সুতিকাগার এ কুমিল্লায় গবেষনালব্ধ জ্ঞান ও মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমাদের ঘরে উঠে এসেছে অনেক সূর্য্য ফসল।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মেরুকরন, শুরু হয়েছে পেশাজীবিদের মধ্যে একধরনের উত্তাপ, উত্তেজনা।কুমিল্লা রাজনৈতিকভাবে খুবই সংবেদনশীল একটি স্থান। ইতিমধ্যে ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক সভা সমাবেশে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের স্বীয় মনোনয়ন বা দলীয় সমর্থন প্রাপ্তিতে সম্ভাবনার কথা জানান দিচ্ছেন। ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার বদৌলতে ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ সম্পর্কে সাধারন মানুষের মনে অনেক ইতিবাচক ধারনার সৃষ্টি হয়েছে। মূলতঃ এ অর্জন বহু সম্ভাবনার এবং বহু প্রতিক্ষার।

সিটি করপোরেশন হলো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান কিন্তু এ অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উৎসাহের এতটুকু কমতি নেই। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত নাগরিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তা আইন বিধি দ্বারা পরিচালিত। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের মতোই অতি পুরাতন সিটি করপোরেশনের ইতিহাস। বিভিন্ন দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে এগুলো ক্রমশ শক্তিশালী ও যুগ-উপযোগী হচ্ছে এবং গণমানুষের ক্ষমতায়নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হচ্ছে।

“অন্যান্য পলিটিক্যাল ইন্সটিটিউশনের মতো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও মধ্যযুগীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে এসেছে। দি সিটি অব ওয়েনচেষ্টার ১১৮৫ সালে যে চার্টার ঘোষনা করেছিলো সেখানে প্রদত্ত অধিকারগুলো ম্যাগনাকার্টায় অনুমোদিত হয়েছে। ১৭৮৫ সালে কানাডার সেন্ট জন ও নিউব্র্যান্স উইক এর স্থানীয় সরকার রয়েল অনুমোদন লাভ করে । ১৮৪৯ সালে লেজিসল্যাটিভ এ্যাসেম্বলী অব কানাডা স্থানীয় সরকার কর্পোরেশন এ্যাক্ট কে অনুমোদন দান করে। ফলশ্রুতিতে স্থানীয় সরকার প্রতিভিযোজন বা ডেলিগেটেড ক্ষমতা লাভ করে। ট্যাক্স বৃদ্ধি, বাইল’জ (উপবিধি) বা পাবলিক রেজুলেটরী আইন প্রনয়ণ ও কার্য্যকরনে স্থানীয় সরকার ক্ষমতা প্রাপ্ত। কানাডার স্থানীয় সরকার বা মিউনিসিপাল উপবিধি লংঘন পাবলিক জাষ্টিস সিষ্টেমে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রচলিত উপবিধিগুলোর মধ্যে গাড়ি পার্কিং, জোনিং, বিজনেস রেগুলেসন্স, শ্রান্তি-বিনোদনের স্থানসমূহের ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষন সিটি কর্পোরেশনগুলো’র আওতাধীন”।

স্থানীয় পর্যায়ে সেবা’র প্রবেশদ্বার এ সিটি করপোরেশনকে ঘিরে নাগরিক প্রত্যাশা অনেক। তাই নাগরিক সংলাপের মাধ্যমেই বের হয়ে আসতে পারে একে কিভাবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং সন্ত্রাসমুক্ত নির্বাচন করা যায়। নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসন,পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক দল,এবং জনসাধারনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নানাহ পর্যায়ে ভোটব্যবস্থার উপর সচেতন নাগরিকদের দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।

নির্বাচন পর্যবেক্ষন বর্তমানে একটি লোকপ্রিয় ধারণা। এক বা একাধিক ব্যক্তি, এনজিও বা সংগঠন দ্বারা এ পর্যবেক্ষন পরিচালিত হয়। জাতীয় বা আন্তর্জাতিক আইন মেনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষন করা নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুষ্পষ্ট কতগুলো নীতি রয়েছে যা নিম্নে আলোচনা করা হলো:

়নির্বাচনে কোন কারচুপি হলে এর প্রতিবাদ বা প্রতিহত করা পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব নয় বরং এ কারচুপি’র তথ্য প্রমান সংগ্রহ ও ঘটনাবলীকে লিপিবদ্ধ করা,

নির্বাচন পর্যবেক্ষন স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। নির্বাচনের গ্রহনযোগ্যতা নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সমালোচনা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এজন্য পর্যবেক্ষকদের সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত থাকা বাঞ্ছণীয়। যাদের নিজদের স্বতন্ত্রতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন আছে তাদের পর্যবেক্ষক হিসাবে কাজ করা মোটেই সমীচিন নয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষন’র ধারনা মূলতঃ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যেখানে গণতান্ত্রিক ভিত্তিগুলো দূর্বল সেখানে নির্বাচন পর্যবেক্ষনের প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে অনুভুত হয়। বৃটেন, আমেরিকা, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের মতো দেশেও নির্বাচন পর্যবেক্ষন হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে মানবাধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ ফাদার আর ডব্লিও টীম, জাষ্টিস কামাল উদ্দিন হোসেন, কয়েকজন প্রথিতযশা আইনজীবি ও সাংবাদিক এর সাথে আমি ও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছিলাম। বাংলাদেশে মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা (কুমিল্লা জেলা শাখা), বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, কুমিল্লা প্রেসক্লাব, ’৮০ এর দশক থেকে বেশ কয়েকটি প্রশিক্ষন কর্মশালার আয়োজন করেছে । বাংলাদেশ পল্লীউন্নয়ন একাডেমী’র তদানিন্তন মহাপরিচালক সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ, মরহুম টিপু সুলতান, মরহুম আঃ মান্নান, খায়রুল কবীর, ড তোফায়ল আহমেদ সহ বার্ডের অনুষদবৃন্দ ও কর্মচারীগন এ’সকল অনুষ্ঠান সফল করতে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। এছাড়াও মরহুম এডভোকেট আলী ইমাম,এডভোকেট (বর্তমানে জাষ্টিস) এম ফারুক,এডভোকেট আঃ মতিন খসরু, এডভোকেট শামসুন নাহার সহ কুমিল্লা জেলা আইনজীবি সমিতি’র সদস্যবর্গ, রপসী বাংলা সম্পাদক মরহুম আবদুল ওহাব ও পেশাজীবি গোষ্টীগুলোর সহযোগিতা প্রাপ্তি অবশ্যই উল্লেখ্য। সে থেকে বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষনে কুমিল্লা ও পথিকৃৎ’র ভুমিকা রেখে আসছে।

আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষন’র নীতিমালাকে অনুসরন করে সারা বিশ্বে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে নির্বাচন পর্যবেক্ষন টীমগুলো কাজ করে থাকে। যারা নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদী সংস্কারের বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সুপারিশ করে থাকে। অতীতের লব্ধ অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের উপর ভিত্তি করে আসন্ন কুসিক নির্বাচন পর্যবক্ষনে আমাদের করণীয় কিছু মৌলিক বিষয় এখানে উপস্থাপন করা হলো যা এ নাগরিক সংলাপে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।

এ নির্বাচনে ভোটার ও পর্যবেক্ষকদের এবার নতুন কিছু পরিস্থিতি এবং ব্যতিক্রমধর্মী চ্যালেন্জ মোকাবেলা করতে হবে এর প্রধান কারন হলো ইলেক্ট্রোনিক ভোটার মেশিন (ইভিএম) এর ব্যবহার। নাগরিক সমাজের এ কথা অজানা নয় যে,-

কেন- গুড গাভারন্যান্স বা ভাল শাসনের মূল কথাই হলো গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা,
কখন-নির্বাচন পর্যবেক্ষনে ঝুকিপূর্ণ বিষয়গুলো চিহ্নিত করা, পূর্বাবস্থা বিবেচনা ও নীতিমালা কঠোরভাবে লক্ষ্য রাখা,
কিভাবে-দায়িত্বশীলতার সাথে পর্যবেক্ষন এবং চ্যালেন্জগুলোকে মোকাবেলা করা
কে-কারা এ দায়িত্ব পালন করবে এবং তাদের ভুমিকা কি হবে?

কুমিল্লা’র আপামর জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর নির্বাচন সংক্রান্ত কাজগুলোর সমন্বয় সাধনের প্রচেষ্টা নেয়া দরকার, দরকার পর্যবেক্ষকদের জন্য প্রনীত খসড়া ঘোষনাপত্রের পর্যালোচনা, এর অনুমোদন এবং পর্যবেক্ষকদের সম্মতি গ্রহন, স্থানীয় লোকদের অংশ গ্রহনের সম্ভাবনা ও ঝুকিগুলো পর্যালোচনাক্রমে মাঠ পর্যায়ে কর্মপন্থা নির্ধারন।

৴নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে প্রয়োজন পর্যবেক্ষনের জন্য একটি নাগরিক ফোরাম/কমিটি গঠন
৴কার্য্যপ্রনালী নক্সা তৈরী বা ট্যাকটিক্যাল ম্যাপিং

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মানকে বিচার বিশ্লেষন করে পর্যবেক্ষকদের মতামত প্রদান, সমাজের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিদের অভিব্যক্তি সারা বিশ্বেই সমাদৃত। গণতন্ত্রের ভিতকে শক্তিশালী ও মজবুত করতে নির্বাচন পর্যবেক্ষন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে আসছে। এ ব্যাপারে নির্বাচনে বিভিন্ন পদ-প্রার্থীদের ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার দেশে তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করেছে। ভোটধিকার ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। কাজেই জনগণ তাদের তথ্য জানার অধিকার থেকে যেন বঞ্চিত না হয়- সেদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্তাদের দৃষ্টি দিতে হবে। নির্বাচন পর্যবেক্ষনের ধারনা তথ্য অধিকার আইনেরই অনুসরণ। পর্যবেক্ষন কাজে-

প্রথমতঃ নির্বাচনকে একটি বড় ব্যবস্থার অংশ মনে করা,
দ্বিতীয়তঃ নির্বাচনে বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত ঘটনাবলী যেমনঃ দলীয় মনোনয়ন বা সমর্থন প্রাপ্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, গণসংযোগ ও প্রচার প্রক্রিয়া, হ্মণ খেলাপ, নির্বাচনী ব্যয়, নির্বাচন আচরনবিধি মান্যতা, ভোটিং ও কাউন্টিং এবং ফলাফলের উপর পর্যালোচনা,

তৃতীয়তঃ ভবিষ্যত নির্বাচনের মানোন্নয়নকে মাথায় রেখে একটি বস্তুনিষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশ,

নির্বাচন হলো গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের মাঝে এক সেতুবন্ধন। কাজেই অবাধ, সুষ্ঠু ও সন্ত্রাসমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের নাগরিক দায়িত্বশীলতাগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে। ভোটাধিকার হলো নাগরিক অধিকার এবং পর্যবেক্ষন হলো মানুষের তথ্য জানার অধিকার। ভোট ব্যবস্থায় অংশ গ্রহন এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোটদানের অধিকারকে সমুন্নোত রাখতে পর্যবেক্ষনের কাজ করা হয়। এজন্য দেশের নির্বাচনী আইনগুলো পর্যালোচনা এবং পর্যবেক্ষন কেন্দ্রে সংরক্ষন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন পর্যবেক্ষনের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুলসগুলো যথাযথ প্রয়োগে ব্যর্থ হলে এর খুব খারাপ বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা রয়েছে। কাজেই নির্বাচন পদ্ধতি বা ব্যবস্থার উপর জনগনের আস্থা সৃষ্টিতে গণমাধ্যমের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও প্রয়োজন।

সঠিক তথ্য জানা গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর দু’টো কারনঃ

প্রথমতঃ নাগরিকরা সত্য তথ্য দ্বারা দায়িত্বশীল হয়। অজ্ঞতা, ভুল বা মিথ্যা তথ্য দ্বারা প্রভাবিত হবার সম্ভাবনা হ্রাস পায়,
দ্বিতীয়তঃ সত্য বা সঠিক তথ্য দ্বারা (এ ক্ষেত্রে নির্বাচনে প্রার্থী’র) যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ পাওয়া যায় এবং নির্বাচিত হলে গণ আকাঙ্খা পূরণে প্রার্থী’র আন্তরিকতার বিষয়ে ও আস্থা সৃষ্টি হয়।

গণমাধ্যম হল জাতির জীবনরেখা। গণমাধ্যম শুধুমাত্র দৈনন্দিন জীবনের তথ্যই সরবরাহ করেনা বরং জাতীয়-আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর পর্যালোচনা ও আলোকপাত করে। সমাজে দুষ্টের পালন আর শিষ্টের দমনের অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে এখনো সোচ্চার বিবেক সৈনিক -সাংবাদিকেরা। ব্যক্তি’র ইচ্ছা-অনিচ্ছা বা করপোরেট সংস্কৃতি এখনো শিকল দিতে পারেনি পেশাদার নিষ্ঠাবান সাংবাদিকদের পায়ে। আজো সমাজ বদলে কলম সৈনিকেরা অকুতভয় ও সোচ্চার। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সাংবাদিকেরা শতভাগ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিবেন এ প্রত্যাশা কুমিল্লা’র তথা দেশবাসীর।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন উন্নয়নের জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরী, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা, সিটি পুলিশ গঠন ও পার্কিং বাই’লজ তৈরী, সুচিকিৎসা,যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন,জলাবদ্ধতা নিরসন, পয়ঃনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার, মসজিদ,মন্দির, মাদ্রাসা, কবরস্থান, শ্মশানঘাট, গির্জা এসবের সংস্কার, নদী ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও শিল্প বান্ধব পরিবেশ উন্নয়ন, বেদখল হয়ে যাওয়া ভূমি উদ্ধার, খেলাধুলার মাঠ নির্মাণ, বিনোদনের জন্য পার্ক ও ঐতিহ্যবাহী স্থানসমূহ সংরক্ষন এছাড়াও দুর্নীতি, সন্ত্রাস, অস্ত্র ও চাদাবাজির বিরোদ্ধে অব্যাহতভাবে জনমত গঠন ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করার মতো যথাযোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচিত করার প্রত্যাশায় কুমিল্লার নাগরিক সমাজ। সে প্রত্যাশা পূরনে দলমত নির্বিশেষে শান্তিপ্রিয় কুমিল্লাবাসী দেশ ও বিদেশে এ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এ নাগরিক সংলাপের মাধ্যমে বিদগ্ধজনের চিন্তা ও চেতনার সন্মিলনে এ পর্যবেক্ষন প্রচেষ্টা’র পথ চলা সমৃদ্ধ হোক।

মুক্ত আলোচনা-***লেখকঃ দেলোয়ার জাহিদ, রিসার্চ ফেলো, সেন্ট পলস কলেজ, ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবা ও নোটারী পাবলিক অব সাস্কাচুয়ান, কানাডা। একজন প্রাবন্ধিক, লেখক ও তৃণমূলে মানবাধিকার সংগঠক, এবং সাবেক সভাপতি, কুমিল্লা প্রেসক্লাব ও কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়ন ***

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply