কুসিক নির্বাচন বর্জন প্রসঙ্গে জামায়াতের মেয়র প্রার্থীর সাংবাদিক সম্মেলন

কুমিল্লায় কর্মরত জাতির বিবেক ইলেট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক ভাইয়েরা,আসসালামু আলাইকুম,

কুমিল্লা বাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হবার পর মহানগরীর সামগ্রিক উন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহনের এক বাস্তব প্রক্রিয়ায় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য গত ২২ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন সিডিউল ঘোষনা করে। নির্বাচনের সিডিউল ঘোষনার পর কুমিল্লার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে এক উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। নগরবাসী আশা করেছিল একটি অবাধ ও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে তারা তাদের পছন্দনীয় একজন সৎ ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিকে তাদের মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করবে। যিনি নির্বাচিত হয়ে কুমিল্লার সার্বিক উন্নয়ন ও জনগনের সুখ দুঃখের সাথী হয়ে তাদের পাশে দাড়াবেন।

সচেতন সাংবাদিক ভাইয়েরা…..

ইতোমধ্যে অন্যান্য অনেক মেয়র প্রার্থীদের মত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার লক্ষ্যে আমি ব্যাপক গনসংযোগ শুরু করি এবং জনগনের পক্ষ থেকেও ব্যাপক সাড়া লাভ করি। যা ছিল অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক ও সম্ভাবনাময়। নির্বাচনে প্রচারনার শুরু থেকেই আমি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাষায় নির্বাচন কমিশনের কাছে দুটো দাবী পেশ করেছিলাম। একটি হল আইনশৃংক্ষলা পরিস্থিতি সুষ্ঠ ভাবে রক্ষার জন্য নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী নিয়োগ আরেকটি হল জটিল ইভিএম পদ্ধতি বাদ দিয়ে পূর্বের ন্যায় জনগনের কাছে বোধগম্য পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা। কারণ হচ্ছে এইযে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃংক্ষলা বাহিনী সরকারী প্রভাব ও স্থানীয় সরকারী দলের নেতৃবৃন্দের প্রভাবে তাদের পক্ষে নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা সম্ভব হয় না। তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগীতায় কিংবা তাদের নিরব ভূমিকার কারণে সরকারী দল সমর্থিত প্রার্থী অবাধে ভোট কারচুপি ভোট জালিয়াতি. কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, ইত্যাদির মাধ্যমে নির্বাচনকে সহজেই প্রভাবিত করে ফলাফল নিজের পক্ষে নিয়ে যেতে পারে। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি সে ক্ষেত্রে নির্বাচনকে সুষ্ঠ করার ক্ষেত্রে সহযোগীতা করে। এটাই বাংলাদেশের নির্বাচনের অতীত অভিজ্ঞতা। সে কারণে সেনাবাহিনী নিয়োগ ছাড়া কুসিক নির্বাচন নিরপেক্ষ না হওয়ার সম্ভবনায় প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। ইভিএম পদ্ধতি বাংলাদেশের জন্য একেবারেই একটি নতুন ও জটিল প্রক্রিয়া। এ পদ্ধতির সাথে ভোটারদের কোন ধরনের পরিচিতি নাই। অধিকন্ত বিশেষজ্ঞের মতে এ পদ্ধতিতে ভোট কারচুপিরও সম্ভবনা রয়েছে। তাই কুসিক নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন ও ইভিএম পদ্ধতি বাতিলের জন্য আমি সহ আরো অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী শুরু থেকে বারবার দাবী করে আসছিলাম। এমনকি জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশের দুটি অন্যতম প্রধান দল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী কুসিক নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতি বাতিল ও সেনাবাহিনী মোতায়নের দাবী করেছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় স্থানীয় ভাবে আমাদের দাবী এবং জাতীয় পর্যায়ের বৃহত্তর রাজনৈতিক দল গুলোর দাবীকে একবারে আমলে না নিয়েই নির্বাচন কমিশন একতরফা ভাবে সরকার ও সরকারী দলের ইচ্ছেমত সেনাবাহিনী মোতায়েন না করা ও শতভাগ ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহনের দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করে। যা একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নয় বরং সরকারী দলের তল্পিবাহকের ভূমিকার মত মনে হয়। নির্বাচন কমিশন কোন একটি বিশেষ দলের সমর্থন পুষ্ঠ কোন ব্যক্তিকে নির্বাচিত ঘোষনা করার অশুভ পায়তারা করছে বলে আমাদের আশংকা। এমতাবস্থায় নির্বাচন করার দৃঢ় ইচ্ছা পোষন করা সত্বেও এবং ব্যাপক জনসমর্থনে বিপুল বিজয়ের সম্ভাবনা থাকার পরও সেনাবাহিনী মোতায়েন না করা ও ইভিএম পদ্ধতি বাতিল না করার কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার ন্যায্য এবং যুক্তিক দাবী দুটি পূরন হওয়ার আশায় নমিনেশন জমা দেয়ার শেষ দিন পর্যন্ত আমি নির্বাচনী কার্যক্রম ও প্রচারনা চালিয়ে আসছি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের সাথে লক্ষ্য করছি যে, নির্বাচন কমিশন আমাদের দাবী পূরনে সামান্যতম আগ্রহ প্রকাশ না করে বরং জিদ ও হটকারিতার আশ্রয় নিয়েছেন। এমতাবস্থায় নির্বাচন কমিশনের একতরফা ও অগনতান্ত্রিক আচরনের প্রতিবাদে আমি নির্বাচন বর্জন করতে বাধ্য হলাম। এবং নির্বাচনে অংশগ্রহন না করার সিদ্ধান্ত ঘোষনা করছি। বিগত কিছু দিন ধরে কুমিল্লা বাসী আমার প্রতি যে ভালবাসা ও অকুন্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন তার জন্য আমি আপনাদেরকে এবং আপনাদের মাধ্যমে কুমিল্লা বাসীকে আমার সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং এ অঙ্গিকার করছি যে আমি কুমিল্লার উন্নয়নে এবং কুমিল্লাবাসীর সুখে দুঃখে সর্বদা তাদের পাশে থাকব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ হাফেজ,

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply