সরাইলে পরিবেশ রক্ষার দপ্তরের পরিবেশই অরক্ষিত: পানির ট্যাঙ্কির নীচে সরকারি দপ্তর

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ॥

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে গাছ লাগাও পরিবেশ বাঁচাও শ্লোগানকে বাস্তবে রুপ দিতে উপজেলা নার্সারি কেন্দ্র (সামাজিক বন বিভাগ) এর সরকারি দপ্তরটি পরিচালিত হচ্ছে পানির ট্যাঙ্কির নীচে। দপ্তরের নেই সাইন বোর্ড। পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবনে দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। জরাজীর্ণ অফিস, নেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদারকি। তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্তব্য ও দায়িত্বে মনোযোগ নেই। তারা অলস-অবসর সময় পার করছেন। উপজেলার অধিকাংশ লোকই ওই দপ্তর বা দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিনেন না।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের অফিস পাড়ার পশ্চিম দিকে পুকুরপাড় অফিসার্স ক্লাব সংলগ্নস্থানে এর অবস্থান। পরিত্যক্ত ভবনটির দিকে খেয়াল করলে মনেই হয় না, এখানে কোনো সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ভবনটির উপরে অফিসার্স ক্লাবের টয়লেটের পানির ট্যাঙ্কি। উচুঁ ভবনে নেই জানালা। বাইরের আলো বাতাস ভেতরে প্রবেশ করে না। অফিস কক্ষে নেই প্রয়োজনীয় চেয়ার-টেবিল। নোংরা পরিবেশ। জরাজীর্ণ শ্যাঁত-শ্যাঁতে দেয়াল। যে কোনো সময় রয়েছে ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা। ঘটতে পারে প্রাণহানি। কিন্তু পাশেই অফিসার্স ক্লাব সাজানো রয়েছে উন্নত ফার্নিচারে। চমৎকার পরিবেশ।

স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া ওই ভবনটি আসলে পানির ট্যাঙ্কির জন্য নির্মান করা হয়েছিল। দরজা-জানালা লাগিয়ে গত ১৯৯৬ সাল থেকে ওই জরাজীর্ণ ভবনেই উপজেলা বন বিভাগের দাপ্তরিক কাজ চলে আসছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী মূলত অফিসের কাজ চালিয়ে নেন পুকুরপাড়ে খোলা আকাশে বসেই।

এ বিষয়ে দপ্তরের কর্মচারী (বাগান মালি) আব্দুল বারেক মিয়া (৫৫) ক্ষোভের সাথে বলেন, ভালো কৃষক এই জরাজীর্ণ ভবনে গরু রাখতেই রাজি হবেন না। কিন্তু এ ভবনে চলছে সরকারি দপ্তরিক কাজ। আমি দু’বছর এ ভবনে থেকে জন্ডিসে ভুগেছি। অনেক সময় রাত পার করেছি পুকুর পাড়ে বসে। বর্তমানে মসজিদের মোয়াজ্জেমের বিছানায় ঘুমায়।

উপজেলা নার্সরি কেন্দ্রের কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন খন্দকার বলেন, ওই ভবনে বসে কাজ করার মতো পরিবেশ নেই। সাইন বোর্ডে স্থানীয় লোকজন কাপড় শুকায়। তাই নতুন করে সাইন বোর্ড করা হয়নি। উপজেলা বন বিভাগের নিজস্ব জমি বা ভবন না থাকার কারণে দপ্তরের আজ এ অবস্থা। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বহু বার আগত করেছি। কিন্তু কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়াত মো. শাহেদুল ইসলাম বলেন, ফরেস্টার কর্মকর্তার সাথে বিষয়টি আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নিব।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply