এক রুমে বসে খাতা দেখছেন শতাধিক শিক্ষক, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় সঠিক মূল্যায়ন নিয়ে সঙ্কা

শামসুজ্জামান ডলার, মতলব উত্তর (চাঁদপুর) :

শিক্ষার্থীদের ৫ বছর শেষে প্রতিযোগিতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা ও এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার খাতা শতাধিক শিক্ষক একত্রে এক রুমে বসে দেখছেন। এতে খাতা মূল্যায়ন নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতিসহ নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশৃঙ্খলার মধ্যে খাতা দেখায় সঠিক মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষকমন্ডলী। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং বিশৃঙ্খলার মধ্যে প্রাথমিক সমাপনীর খাতা মূল্যায়ন হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন এবং দক্ষিণ ব্যসদী মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র। এক রুমে বসে গাদাগাদি করে খাতা দেখতে শিক্ষকরা নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

তারা অভিযোগ করেন, শিক্ষকদের মানবিক দিক বিবেচনা না করে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত খাতা দেখতে বাধ্য করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বসে খাতা দেখায় ছাত্রদের সঠিক মূল্যায়ন করাও সম্ভব হচ্ছে না। তবে কোন কোন শিক্ষক পরীক্ষার খাতাও কভার পৃষ্টার গোপন নম্বর জেনে ঐ স্কুলের ঠিকানায় ছাত্র ও অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বেশি নম্বর দেয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। শিক্ষা অফিস ও পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সময় কম দেয়া হলেও সঠিকভাবেই ছাত্র-ছাত্রীদের খাতা মূল্যায়ন করে নম্বর দেয়া হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, মতলব উত্তরে প্রাথমিক, এবতেদায়ী মাদ্রাসা ও কিন্ডার গার্টেন থেকে এ বছর ৫ হাজার ৯শ’ ২৮ জন সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এবতেদায়ী মাদ্রাসা থেকে ২৬৬ ছাত্র-ছাত্রী প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে । ১৪টি ইউনিয়ন ও ছেংগারচর পৌরসভার প্রত্যন্ত অঞ্চল বিবেচনা করে উপজেলা প্রশাসন ১৯টি কেন্দ্রে গত ২৩ নভেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরু করে। অন্যান্য বছরের ন্যায় চলতি বছরও উপজেলার শিক্ষা অফিস খাতা মূল্যায়নের জন্য উপজেলা হল রুম এবং দক্ষিন ব্যসদী মডেল সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ে খাতা দেখার সিদ্ধান্ত নেয়। এ জন্য ১শ’ ৯৮ জন পরীক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, অল্প সময় দেয়ায় এবং এক টেবিলে ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষক দেয়ায় খাতা সঠিক ভাবে মূল্যায়ন সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও কষ্টের মধ্যে খাতা দেখার কাজ করছেন।

সাধারণ শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানিয়েছেন, একত্রে বসে খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তন করে এক উপজেলার খাতা অন্য উপজেলায় স্থানান্তর এবং শিক্ষকদের সম্মানি ভাতা বাড়ানো প্রয়োজন। তাহলে খাতা মূল্যায়নে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ হবে।

এ ব্যাপারে মতলব উত্তর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মনিরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ডিজির নির্দেশে পরীক্ষক নিয়োগ করে খাতা মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply