সরাইলে মেঘনায় দিন দুপুরে নৌডাকাতি : এলাকায় উত্তেজনা

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ॥
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নে মেঘনা নদীতে দিনে দুপুরে যাত্রীবাহী নৌকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় সংঘবদ্ধ ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকাসহ ৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটে নেয়। ডাকাতদল পালিয়ে যাওয়ার সময় ছয় ডাকাতকে চিনে ফেলে নৌকার যাত্রী ও স্থানীয় লোকজন। গত সোমবার এ ঘটনা ঘটে। চিহ্নিত ডাকাতদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পানিশ্বরে গ্রামবাসী বিক্ষোভ মিছিল করেন।

ডাকাতের কবলে পড়া যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় লোকজন জানান, সোমবার শতাধিক যাত্রী নিয়ে অরুয়াইল ঘাট থেকে আবদুল আউয়াল মাঝির ছেড়ে আসা নৌকাটি দুপুরের দিকে নরসিংহপুর ঘাটে আসে। এসময় নৌকায় ছয় যুবক যাত্রীবেসে উঠে। নৌকাটি পানিশ্বরের তারাখোলা গ্রামের ভাই ভাই ব্রিকস্ এর কাছে আসা মাত্র ওই ছয় যুবক অস্ত্রের মুখে নৌকার যাত্রীদের জিম্মি করে ফেলে। যাত্রীদের বেধড়ক মারপিট করে ৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে যায়। নৌকার মাঝিকে নদীতে ফেলে দেয়। ডাকাতি শেষে পালানোর সময় লোকজন ছয় ডাকাতকে চিনে ফেলে। বিষয়টি নিয়ে গোটা পানিশ্বর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ডাকাতদের গ্রেফতারে গ্রামবাসী বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। পানিশ্বর গ্রামের হাজী চান গাজী, হাজী গাউছুর রহমান, আ’লীগ নেতা দ্বীন ইসলাম জানান, মেঘনা নদীতে প্রায়ই দিনদুপুরে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। গ্রামের সংঘবদ্ধ ডাকাতদলের সাথে অন্যান্য জেলার ডাকাতদলের যোগসাজশ রয়েছে। ডাকাতি রোধে নৌ পুলিশের কোনো তৎপরতা নেই।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে সরাইল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) শাহজাহান মিয়া ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পানিশ্বরে গিয়ে ডাকাতদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে গ্রামবাসী শান্ত হন। পুলিশ চিহ্নিত ডাকাতদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুই নৌ ডাকাতের পিতাকে আটক করে।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ডাকাতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রামবাসীকে শান্ত করি। ওই এলাকার ডাকাতদের সাথে আন্ত:জেলার ডাকাতদলের সম্পর্ক রয়েছে। ছয় ডাকাতকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply