তিতাসে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নীরব চাঁদাবাজি

নাজমুল করিম ফারুক, তিতাস :
চলতি বছরে কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জিম্মি করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ফির চেয়ে তিনগুণ অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ফরম পূরণ করতে গিয়ে চরম বিপাকে পরেছে গ্রাম অঞ্চলের দরিদ্র অভিভাবকরা। অধিকাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা মিলে বোর্ড ফি’র বাইরে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কোচিং ফি, সেশন ফি, বিদ্যালয় উন্নয়ন ফি এবং মাসিক বেতনের নামে বাড়তি টাকা আদায় করছে। জোর করে অতিরিক্ত ফি আদায় করায় দরিদ্র অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও অনেকেই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নীরবে তা মেনে নিচ্ছেন।

বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বিষয়ের প্রতি পত্রের জন্য ৬০ টাকা করে চতুর্থ বিষয়সহ ১১টি পত্রের জন্য ৬৬০ টাকা, প্রতিটি ব্যবহারিক বিষয়ের জন্য ৩০ টাকা করে ৩টির জন্য ৯০ টাকা, ট্রান্সক্রিপ্টের জন্য ৩৫ টাকা, মূল সনদের জন্য ১০০ টাকা, স্কাউট ফি ১৫ টাকা, কেন্দ্র ফি ২৫০ টাকা ও নির্বাচনী পরীক্ষার জন্য ১০০ টাকা করে বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ১২০৫ টাকা মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের জন্য ১১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হলেও ২ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে। আশ্চার্যের বিষয় কিছু কিছু বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক রেজুলেশনের মাধ্যমে উন্নয়ন ফান্ডের কথা বলে টাকা আদায় করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে মজিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গ চন্দ্র সরকার জানান, ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিজ্ঞান বিভাগে ২১শ, মানবিক ও ব্যবসা শাখার জন্য ২ হাজার, জুনাব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকতল হোসেন জানান, বিজ্ঞানে ১৮শ মানবিক ও ব্যবসায় ১৭শ, বাতাকান্দি সরকার সাহেব আলী আবুল হোসেন মেমরিয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ভূঁইয়া জানান, বিজ্ঞানে ২ হাজার মানবিক ও ব্যবসায় ১৯শ, গাজীপুর খাঁন হাইস্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপ কুমার রায় জানান, বিজ্ঞানে ২২শ, মানবিক ও ব্যবসায় ২১শ, জগতপুর সাধনা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হযরত আলী ভূঁইয়া জানান, বিজ্ঞান মানবিক ও ব্যবসায় শাখায় ১৫শ, জিয়ারকান্দি হাফিজ উদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আঃ লতিফ জানান, সাধারণ শাখায় ৯শ, গাজীপুর আজিজিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আঃ রউফ জানান, বিজ্ঞান শাখায় ১৩শ এবং সাধারণ শাখায় ১২শ টাকা নেয়া হয়। মাছিমপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান ও নারান্দিয়া কলিমিয়া উচচ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম জানান, বর্তমানে আমরা বোর্ড নির্ধারিত ফি নিচ্ছি তবে নির্বাচনী পরীক্ষায় সময় কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক অন্যান্য ফি আদায় করা হয়েছিল। এদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলছে ভিন্ন কথা। উপরে উল্লেখিত বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জানান, ফরম পুরণ বাবদ রশিদবিহীন ২ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দিতে হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে (কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক) যারা ফরম পূরণ করতে পারেনি অথবা যারা এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃর্তকার্য হয়েছে তাদেরও মাত্রাতিরিক্ত টাকা দিয়ে ফরম পুরণ করতে হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনোয়ারা চৌধুরীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বিষয়টি আমি জানিনা তবে, কোন বিদ্যালয় যদি অতিরিক্ত ফি নেয় তাহলে তদপ্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply