চলার শক্তি নেই, তাই বয়স্কভাতাও নেই

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল :

বৃদ্ধ মিরাশি বেগম
মিরাশি বেগম। বয়স ৯৩ বছর পেরিয়ে গেছে। বয়সের ভারে নূয়ে পড়েছে তার মাথা। নেই চলার শক্তি। লাঠিই এখন চলার একমাত্র ভরসা। চোখে ঝাপসা দেখেন। টুকটাক হাঁটা-চলা করলেও, অন্যের সাহায্য নিতে হয়। অভাব-অনটন ও দারিদ্রতা তার নিত্যসঙ্গী। ছেলেপুলেরা সংসার পেতেছেন বহু আগেই। ছেলেরা মা’র ভরনপোষনের দিকে খেয়াল করলেও, বৃদ্ধ মিরাশির চাহিদার অনেক কিছুই অপূর্ণ থেকে যায়। বৃদ্ধ বয়সে কিছুটা সুখ-স্বাচ্ছন্দ পাওয়ার আশায় ‘বয়স্কভাতা’ কার্ডের খোঁজ করেন। তিনি যান স্থানীয় মেম্বারের কাছে। কিন্তু কে শুনে দুঃখের কথা। মেম্বার জানাই ‘আপনি ব্যাংকে গিয়ে ভাতা আনতে পারবেন না। তাই কার্ড দেওয়া যাবে না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া গ্রামের মৃত আশ্রব আলীর স্ত্রী মিরাশি বেগম। জাতীয় পরিচয়পত্রে দেখা যায়(আইডি নং-১২১৯৪২৮২৬৪৭৪০)তার জন্ম তারিখ-৩১/১২/১৯১৭ইং। দরিদ্র ওই বৃদ্ধা রাষ্ট্রীয় বয়স্কভাতা কর্মসূচির কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না। মিরাশি বেগম জানান, স্থানীয় মেম্বার মো. শফিকুল ইসলাম এইবারও নির্বাচিত হয়েছেন। বয়স্কভাতা পেতে একাধিকবার তার কাছে গিয়েছিলাম। মেম্বার জানিয়ে দেন বয়স বেশি হয়ে গেছে। ব্যাংকে গিয়ে ভাতা আনতে পারবেন না। তাই এসব নিয়ে লাভ নেই। বৃদ্ধার ছেলে মো. শুক্কুর মিয়া (৬৪) জানান, এই বিষয়ে মেম্বার পাত্তাই দেন না। বয়স্কভাতার টাকা পেলে আম্মা ভাল কিছু খেতে পারতেন।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ওই বৃদ্ধার দুই জন আত্মীয়কে বয়স্কভাতা দেয়া হয়েছে। তাদের বয়স ৬৫ বছরের উর্ধ্বে। আমি গরীব দুঃস্থ দেখেই বয়স্কভাতা দিয়ে যাচ্ছি।

সরাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বয়স্ক নারী-পুরুষরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ ভাতা পেয়ে থাকেন। কার ক’জন স্বজন এ ভাতা পেল তা মূল বিষয় নয়।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply