মখা আলমগীরের সংসদ সদস্যপদ বহাল

চাঁদপুর, ১৭ নভেম্বর ২০১১ (কুমিল্লাওয়েব ডট কম) :

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন খান (মখা) আলমগীরের নির্বাচনী আসন চাঁদপুর-১ (কচুয়া) শূন্য ঘোষণা করে দেয়া নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশকে অবৈধ ও বেআইনী ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। একই সাথে ওই গেজেট প্রকাশের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

আদালতের এ রায়ের ফলে ওই শূন্য আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে টিকে গেলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মহীউদ্দীন খান আলমগীর। রায়ের পর মহিউদ্দিন খান আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘মহামান্য আদালত জনপ্রতিনিধিত্ব সম্প্রসারণে গণতন্ত্রের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এই রায়ে দেশবাসী খুশি হয়েছে। আমরাও খুশি।’

২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতা আ ন ম এহছানুল মিলনকে হারিয়ে নির্বাচিত হন সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আলমগীর। তবে আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত মহিউদ্দীন আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর ওই আসন শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। হাইকোর্টের অন্য একটি আদেশের বলেই ইসি ওই সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ইতিমধ্যেই উচ্চ আদালত বাতিল করে আওয়ামী লীগের এ নেতার সাজার আদেশ।

মহিউদ্দীন আলমগীরের আবেদনে ২০১০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ওই আসন শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত গেজেট প্রকাশ কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেয়।

ওই রুলের শুনানি শেষেই বৃহস্পতিবার আদেশ দেয়া হলো। শুনানিতে আলমগীরের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন ড. শাহদীন মালিক।

রোকনউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, রায়ে বলা হয়েছে- কাউকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের পর ওই আসন শূন্য ঘোষণার এখতিয়ার সংবিধান ও আইনে নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্বাচন কমিশন মহীউদ্দীনকে শুনানির সুযোগ দেয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাহলে উনি দেখাতে পারতেন যে, উনি(মখা আলমগীর) এখন আর সাজাপ্রাপ্ত নন।’

রোকনউদ্দিন বলেন, আপিল বিভাগের যে রায়ের কথা বলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল করা হয়েছে, তার কোথাও সংসদ সদস্য পদকে বাতিল বলা হয়নি। সেখানে কেবল বলা হয়েছে, এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রিট আবেদনটি চলতে পারে না। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য পদ নিয়ে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে স্পিকার শুনানির জন্য তা নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। নির্বাচন কমিশন শুনানি করে তা আবার স্পিকারের নিকট পাঠাবেন। এটা (গেজেট প্রকাশ) নির্বাচন কমিশনের বিষয় নয়।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, এই রায়ের ফলে খুনি, ঋণ খেলাপিসহ বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্তদের নির্বাচনে অংশ গ্রহণের পথ প্রশস্ত হলো। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সে সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নেবে।

প্রসঙ্গত, অবৈধ সম্পদ অর্জনের দুর্নীতি মামলায় ১৩ বছর সাজা হওয়ায় ২০০৮ সালের ৩ ডিসেম্বর আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর বিরুদ্ধে ইসিতে তিনি আপিল করলে ৮ ডিসেম্বর তা খারিজ হয়ে যায়। এরপর হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হলে ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর তা-ও খারিজ হয়। তখনকার আইনি লড়াইয়ে মহীউদ্দীনের হারের পর ইসি আসন শূন্য ঘোষণার গেজেট প্রকাশ করে। তবে ইতিমধ্যেই তার সাজার আদেশ বাতিল হয়।

Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply