সরাইলে বখাটে মনুর অত্যাচারে দশম শ্রেণীর ছাত্রী স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে

আরিফুল ইসলাম সুমন ॥
আমি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। পিতা ইটভাটার শ্রমিক। জরাজীর্ণ ছোট্ট এক কুঠিরে মা-বাবা ও পাঁচ ভাইসহ আমরা সাত জন অতি কষ্টে বসবাস করে আসছি। পিতার সংসারে আমিই বড় কন্যা সন্তান। মার ইচ্ছে ছিল, আমি পড়ালেখা করে স্বাবলম্বী হয়। মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতে আমিও চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু এ পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িছে বখাটে মনু মিয়া (১৯)। গত তিন বছর যাবত ওই বখাটে আমাকে উত্যক্ত করে আসছে। বর্তমানে আমার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। বাড়িতে অবরুদ্ধ থেকেও নিস্তার পাচ্ছি না। বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় সে প্রতিনিয়ত আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। গ্রাম থেকে স্কুলের দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। প্রতিদিন পায়ে হেঁটে যেতে হয়। স্কুল প্রাঙ্গনে প্রবেশের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করতো আমার মনে। মনু প্রায়ই পথ আগলে দাঁড়িয়ে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করতো। এসময় নানা ধরনের কটুক্তিও করতো। আমি লোক লজ্জার ভয়ে বিষয়টি চেপে গেছি। মনুর যন্ত্রণায় মাঝে মধ্যে মনে হয়েছে এখনই আত্মহত্যা করে ফেলি। অতিষ্ঠ হয়ে বিষয়টি বাবা-মাকে জানাই। বিচার সালিশ ও লিখিত অভিযোগ করেও বখাটে মনু মিয়ার অত্যাচার থেকে রক্ষা পাচ্ছি না।

বৃহস্পতিবার কান্নাজড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলছিল সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী। তার বাড়ি উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের টিঘর গ্রামে।

ছাত্রীর পরিবার ও গ্রামবাসী জানান, টিঘর পূর্ব পাড়ার সিরাজ মিয়ার বখাটে পুত্র মনু মিয়া। সে দীর্ঘ দিন যাবত আগামি এসএসসি পরীক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের ওই দশম শ্রেণীর ছাত্রীকে উত্যক্ত করে আসছে। গত ১১ নভেম্বর রাতে ০১৯৩০২৫০২৮৯ নম্বর থেকে ওই ছাত্রীকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয় বখাটে মনু। বখাটের মামা তাজুল মিয়া ও দ্বীন ইসলাম বিচার না করে, উল্টো ছাত্রীর বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে গেছেন। পরিবারটি গরিব বলে কেউ তাদের পক্ষ হয়ে কথা বলছেন না। বিষয়টি নিয়ে কতিপয় সমাজপতি এখন রং তামাশা শুরু করে দিয়েছেন। গত ১৬ নভেম্বর বিষয়টি ছাত্রীর পরিবার স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানান। ছাত্রীর পিতা স্কুল কর্তৃপক্ষের সুপারিশ সম্বলিত অভিযোগপত্র থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে বাঁধা দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম। বিষয়টি সামাজিকভাবে নিস্পত্তির কথা বলে ছাত্রীর পিতাকে ফিরিয়ে আনেন। এই সুযোগে বখাটে মনু মিয়া আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সে তার সহযোগী বন্ধুদের নিয়ে ওই ছাত্রীর বাড়িতে হুমকিসহ নানা কটুক্তি করে আসছে। ছাত্রীর মা, চাচী আছিয়া বেগম, চাচা রইছ মিয়াসহ এলাকার বহু নারী-পুরুষ জানান, বিষয়টি নিয়ে গ্রামের মাতব্বররা একাধিকবার সালিশ করেছেন। কিন্তু বখাটে মনু এসবের কোনো তোয়াক্কাই করছে না। মনু ও তার বখাটে বন্ধুদের কারণে গ্রামের পশ্চিমপাড়ার অনেক মেয়ে পড়ালেখা বন্ধ করে দিয়েছে।

সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আইয়ুব খান বলেন, ছাত্রীর পরিবার বিষয়টি লিখিতভাবে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। উত্যক্তকারী যেই হোক আমরা তার শাস্তি দাবি করছি।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পায়নি। তবে ইভটিজিং একটি স্পর্শকাতর বিষয়। ঘটনাটির খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিব।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply