সরাইল গলানিয়া রেজি: প্রাথমিক বিদ্যালয় : শিক্ষকদের ড্রেস লুঙ্গি গেঞ্জি

আরিফুল ইসলাম সুমন ॥

সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭৬ সালে স্থাপিত হয়। বিদ্যালয়ের ভবন দু’টি। চেয়ার টেবিল ও বেঞ্চের কমতি নেই। বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা তিন শত। শিশু শ্রেণী এখনো চালু হয়নি। প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষকের বাড়িই গলানিয়া গ্রামে। অভিযোগ আছে, প্রায় শিক্ষকই শ্রেণী কক্ষে ক্লাশ নেন লুঙ্গি ও গেঞ্জি পড়ে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তারা পারিবারিক আচরনও করে থাকেন। এতে অনেক অভিভাবক ক্ষুব্ধ। প্রধান শিক্ষক নিয়মিত স্কুলে আসেন না। এলাকার কেউ এই বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে জানানো হয় প্রধান শিক্ষক জরুরি কাজে শিক্ষা অফিসে গেছেন।

গত মঙ্গলবার দুপুরে সরজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের নবনির্মিত একতলা ভবনের তিনটি কক্ষে ক্লাশ চলছে। তৃতীয় শ্রেণীর ক্লাশ নিচ্ছেন সহকারী শিক্ষক হেলাল উদ্দিন। তার গায়ে হাফহাতার একটি ডিজাইনার গেঞ্জি। পাশের কক্ষে লুঙ্গি পড়েই পঞ্চম শ্রেণীর ক্লাশ নিচ্ছেন সহকারী শিক্ষক মো. ফিরুজ আলী। প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা ঝুলছে। একাধিক ছাত্র-ছাত্রী জানায়, স্যারেরা নিয়মিতই এ ধরনের ড্রেস পরিধান করে ক্লাশে আসেন। হেড স্যার ১২টায় আসেন আবার চলে যান।

এ প্রসঙ্গে সহকারী শিক্ষক ফিরুজ আলী ও হেলাল উদ্দিন জানান, সব ছাত্র-ছাত্রীই আমাদের পরিচিত ও গোষ্ঠিবাড়ির। বাড়ির কাছে স্কুল, তাই মাঝে মধ্যে এমনটি হয়ে যায়। শিশু শ্রেণী এখনো চালু না হওয়ার কারণ সম্পর্কে ওই দুই শিক্ষক জানান, একশ’রও বেশী শিশুর তালিকা করা হয়েছে। কিন্তু সরকারীভাবে বই না পাওয়ার কারণে ক্লাশ চালু করা সম্ভব হয়নি।

প্রধান শিক্ষক মো. বেলায়াত হোসেন জানান, স্কুলের দাপ্তরিক কাজে আমাকে বাইরে থাকতে হয়। শারীরিক সমস্যার কারণে শিক্ষকরা মাঝে মধ্যে লুঙ্গি-গেঞ্জি পড়ে থাকেন। এতে দোষের কিছু নেই। শিশু শ্রেণী কাগজে-কলমে চালু রয়েছে।

এ ব্যাপারে সরাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মমতা কর্মকার বলেন, লুঙ্গি পড়ে ক্লাশে পাঠদান দেওয়া সম্পূর্ণ বে-আইনি।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply