কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন : আ’লীগ বিএনপি’র প্রার্থীরা মনোনয়নে তৎপর : গনসংযোগ চলছে বিরামহীন

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী,কুমিল্লা:

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা না হলেও, নির্বাচন কমিশন আগামী ৫ই জানুয়ারী কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হওয়ার কথা নির্বাচন কমিশনার ছুহুল হোসেন বলায় কুমিল্লার নির্বাচনী মাঠ সরগরম হয়ে ওঠে। তিনি আরও বলেন আগামী ২৪ নভেম্বর এ সংক্রান্ত নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা করা হবে।

এদিকে ক্ষমতাসীন আ’লীগ, প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনেতিক দলের নেতারা এরই মাঝে শুরু করেছেন কেন্দ্রে জোর লবিং। তাছাড়া স্থানীয় ভাবে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কাজে নেতারা অংশ নিয়ে ও ইতিমধ্যে শুরু করেছেন নির্বাচনী গনসংযোগ।

দেশের ৮ম সিটি কর্পোরেশন কুমিল্লা। চলতি বছরের ১০ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন গেজেটে ভুক্ত হয়। গেজেট প্রকাশের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাদকতার জন্য আগামী ২০১২ সালের ৪ জানুয়ারী সর্বশেষ সময় ছিল। এদিকে নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরে নির্বাচন ঘোষনা দেওয়ায় আগ্রহী প্রার্থীরা ও তাদের সমর্থকরা নড়ে চড়ে বসেছেন।

১০ জুলাই সিটি কর্পোরেশন ঘোষনার সাথে সাথেই মূলত মেয়র প্রার্থীতা নিয়ে নগরবাসীর মাঝে ভাবনা সৃষ্টি হয়। কে হবে কুমিল্লা সিটি কর্পোশেনের প্রথম মেয়র। প্রথম থেকেই উচ্চারিত নামগুলোর মাঝে রয়েছে বর্তমান সদর আসনের এমপি আ’লীগ দলীয় সাংসদ আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার, কুমিল্লা (দ:) জেলা আ’লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক বর্তমান ১৪ দলের সমন্বয়ক এডভোকেট আফজল খান, সাবেক এমপি মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা দ: জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক হাজী আমিন-উর রশীদ ইয়াসিন, কুমিল্লা সদর পৌরসভার সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা এয়ার আহমেদ সেলিম, তরুন আওয়ামীলীগ নেতা নুর-উর রহমান মাহমুদ তানিম ও জেলা ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী সাধারন সম্পাদক এডভোকেট আনিসুর রহমান মিঠু।

সিটি কর্পোরেশন ঘোষনার ৪ মাস পেরিয়ে গেছে। এদিকে ১৮০ দিন সময়সীমা ঘনিয়ে আসার পাশা-পাশি নির্বাচন কমিশন ৫ জানুয়ারীর মধ্যে নির্বাচন সম্পূর্ণের ঘোষনা দেয়ায় মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌড়-ঝাপ শুরু করেছেন। কুমিল্লায় দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি দ্বিধা-বিভক্ত।

আওয়ামীলীগ দলীয় কুমিল্লা সদর আসনের এমপি আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার নিজেই সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী। এদিকে জেলা ১৪ দলের সমন্বয়ক প্রভাবশালী নেতা এড. আফজল খানও মনোয়ন প্রত্যাশী। এখানে এ দু’জন হেভিওয়েট প্রার্থীর ভীড়ে অন্যদের মনোয়ন লাভের সম্ভাবনা খুব ক্ষীন থাকলেও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক ভিপি নুর-উর রহমান মাহমুদ তানিম ও জেলা ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী সাধারন সম্পাদক এডভোকেট আনিসুর রহমান মিঠুও সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নির্বাচনী গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সকল প্রার্থীরা কোন না কোন ভাবে সামাজিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও যোগদানের পাশাপাশি নিজেদের কর্মী সমর্থকদের নিয়েও আলোচনা, সমাবেশ অব্যাহত রেখেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা আ’লীগের প্রভাবশালী এক নেতা বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সদর আসনটিতে আ’লীগ প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার পর থেকে দলের বিরোধ এখানে চরমে। বিরোধ মিমাংসা না হলে আগামীতে দলের ভরাডুবি নিশ্চিত।

বিএনপি’র অবস্থাও একই রকম। গত সংসদ নির্বাচনে সাবেক পৌর মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ও তার সমর্থিত নেতা কর্মীরা সদর আসনের বিএনপি দলী প্রার্থী হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াসিনের বিরুদ্ধে গোপনে বিরোধীতার অভিযোগ উঠে। এর পর জেলা ছাত্রদল, বিএনপি ও যুবদলের কমিটি নিয়ে হাজী আমিনুর রশীদ ও মনিরুল হক সাক্কু সমর্থকরা প্রকাশ্যে বিরোধে জড়িযে পড়ে। দু’গ্র“পের নেতা কর্মীরা নগরীর কান্দিরপাড়ে প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে গোলাগুলি করে। কেন্দ্রের যাবতীয় কর্মসূচী নগরীতে দু’গ্র“প পৃথক পৃথক ভাবে পালন করে।

এখানে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে সদর আসনের প্রার্থী হাজী আমিন উর-রশীদ ইয়াসিন, সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ছাড়াও বিএনপি’র কুমিল্লা সাবেক-৯ আসনের এমপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মনিরুল হক চৌধুরীও মরিয়া দল থেকে মনোনয়ন পেতে।

এছাড়া জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা এয়ার আহম্মেদ সেলিম, জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা সাবেক এমপি আবদুল্লাহ মোঃ তাহেরও স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ও সামাজিক, ধর্মীয় কাজে যোগদানের মাধ্যমে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দলের এই বিরোধের কারনে সাধারণ নেতা কর্মীরা অসহায়।

কুমিল্লা ১৪ দলের সমন্বয়ক এড আফজল খান বলেন, নেত্রীর নির্দেশে বিভেদ ভুলে গত সংসদ নির্বাচনে দলের পক্ষে কাজ করে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর কুমিল্লা সদর আসন নেত্রীকে উপহার দিয়েছি। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দল আমাকে মনোনয়ন দিবে বলে আশা করি। মনোনয়ন পেলে অবশ্যই বিজয়ী হবেন বলে তিনি জানান।

জেলা আওয়ামীলীগের তরুন নেতা সাবেক ভিপি নুর-উর রহমান মাহমুদ তানিম বলেন, এখন সময় এসেছে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার আর এটা সম্ভব তরুন নেতৃত্বের পক্ষে। আশা করি দল তরুন নেতৃত্বকে বেছে নিবে।

কুমিল্লা সদর পৌর সভার সদ্য বিদায়ী মেয়র বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবেক কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাবশালী নেতা মনিরুল হক সাক্কু বলেন, এখনো নির্বাচনের তারিখ বা তফশীল কোনটাই ঘোষিত হয়নি। দল আমাকে মনোয়ন দিবে বলে আশা করি। আমি নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। আমার অতীত অবিজ্ঞতার আলোকে এই নতুন সিটি কপোর্রেশনের সৌর্ন্দয্য ও আধুনিকায়ন করতে চেষ্টা করবো। যদি দল আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং বিজয়ী হই।

এদিকে জাতীয় পার্টির নেতা এয়ার আহমেদ সেলিম বলেন, আমাদের নেতা হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদ আমাকে দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনের জন্য গ্রীন সিগন্যাল দিয়েছেন। নির্বাচন হলে আমি অবশ্যই মেয়র পদে প্রার্থী হবো। তবে জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা সাবেক এমপি আবদুল্লাহ মোঃ তাহের নির্বাচনী মাঠে প্রকাশ্যে গণসংযোগ না চালালেও দলের বিভিন্ন ফোরামে আগামী নির্বাচনে মাঠে কাজ করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ভাবে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply