সরাইলে দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ॥

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে কৃষকদের ফসলি জমিতে জোরপূর্বক সড়ক নির্মাণে বাঁধা দেয়াকে কেন্দ্র করে গতকাল সোমবার সকালে দু’দল গ্রামবাসীর রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিপেটার পাশাপাশি চার রাউন্ড টিয়ারশেল ছুঁড়ে। সোমবার উপজেলার কালীকচ্ছ ধর্মতীর্থ ও নোয়াগাঁও গ্রামের লোকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ বাঁধে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন জানান, নোয়াগাঁও গ্রামের মো. সফিক মিয়া ধর্মতীর্থ এলাকায় নবনির্মিত ইটভাটার (রুপালী ব্রিকস্) একাংশের মালিক ও ব্রিকস্ ফিল্ডের মাটি কাটার ঠিকাদার। সফিক মিয়া স্থানীয় একাধিক কৃষকের ফসলি জমির ওপর দিয়ে ইটভাটার সড়ক নির্মাণ করা শুরু করেন। এতে স্বস্ব জমির সত্বাধিকারী লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বাধা দেন। কিন্তু সফিক কৃষকদের বাধাকে উপেক্ষা করে সড়ক নির্মাণ করেই চলেছেন। সোমবার সকালে ধর্মতীর্থ গ্রামের জিল্লুর রহমান ও তার ভাইয়েরা সড়ক নির্মাণে পুনরায় বাধা দেন। এসময় ক্ষিপ্ত হয়ে সফিক তার লোকজন নিয়ে কৃষকদের উপর হামলা করে। এ ঘটনার জের ধরে সকাল ১১টার দিকে ধর্মতীর্থ ও নোয়াগাঁও গ্রামের প্রায় দুই সহস্্রাধিক দাঙ্গাবাজ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সরাইল-নাসিরনগর সড়কের পাশে হাওর এলাকায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় নোয়াগাঁও গ্রামের পক্ষে দাঙ্গাবাজদের নেতৃত্ব দেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু মুছা উছমানী মাসুক, ইউপি সদস্য শিপন মিয়া। ধর্মতীর্থ গ্রামের পক্ষে নেতৃত্ব দেন আব্দুর রহমান পাশা ও জিল্লুর রহমান। দাঙ্গাবাজরা সড়কের পাশে আব্দুর রশিদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট শেষে ভাংচুর চালায়। কালীকচ্ছ ইউনিয়নের মনিরবাগ গ্রামের বেশকিছু লোকজন নোয়াগাঁও গ্রামের পক্ষে অবস্থান নেয়। এসময় সড়কের যানচলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সরাইল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিন ঘন্টা স্থায়ী সংঘর্ষে সরাইল থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা (এসআই) চন্দন চক্রবর্তী, কনস্টেবল ফারুকসহ উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়। আহতরা সরাইল ও জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। এলাকায় এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply