তিতাসে সকল কর্মকর্তা কর্মচারী থাকেন ঢাকা-কুমিল্লায় :“প্রতিবছর রাজস্ব হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা”

নাজমুল করিম ফারুক, তিতাস :

তিতাস উপজেলার পরিষদের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বাসভবন, প্রথম শ্রেণী কর্মকর্তাদের বাসভবন, কর্মচারীদের বাসভবন ও ডরমেন্টরী নির্মাণ করা হলেও প্রায় ৫ বছর যাবৎ কারো অনুকূলে বরাদ্দ না দেওয়ায় প্রদীপহীন দাঁড়িয়ে আছে ভবনগুলো।
তিতাস উপজেলা পরিষদে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ নির্মাণীধীন কোয়াটারে না থেকে পার্শ্ববর্তী উপজেলা দাউদকান্দি, রাজধানী ঢাকা ও জেলা শহর কুমিল্লায় পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করায় উপজেলা পরিষদ প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।

উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে তিতাস উপজেলার গঠন হওয়ার পর তৎকালীন বিএনপি সরকারের শেষ সময়ে দ্রুতগতিতে উপজেলা পরিষদের কমপ্লেক্স সংলগ্ন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বাসভবন, প্রথম শ্রেণী কর্মকর্তাদের বাসভবন, কর্মচারীদের বাসভবন ও ডরমেন্টরী নির্মাণ করা হয়। ভবনগুলো প্রতিষ্ঠার প্রায় ৫ বছর অতিবাহিত হলেও বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সংযোগের অজুহাতে কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ভবনগুলো কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি ভবনগুলোতে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরও প্রাচীর না থাকার অজুহাতে কোন কর্মকর্তাই ভবনগুলোতে উঠছে না বরং পরিবার পরিজন নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাহজাহান, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আনিছউজ্জামান, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা শাহিদুর রহমান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (শিক্ষা) মোঃ আয়েত আলী জেলা শহর কুমিল্লায়; পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মতিউর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম শেখ, সমাজসেবা কর্মকর্তা ফেরদৌসী আক্তার, সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আবদুল করিম, সমবায় কর্মকর্তা মানষী ইসলাম, মহিলা বিষয় কর্মকর্তা ফাতেমা ফেরদৌসী, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনোয়ারা চৌধুরী রাজধানী ঢাকায়; উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহানা আফরোজ পার্শ্ববর্তী দাউদকান্দি উপজেলায় বসবাস করছেন। অন্যদিকে দীর্ঘদিন যাবৎ সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, সাব-রেজিষ্ট্রার, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (জনস্বাস্থ্য), উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিএডিসি) পদ খালি রয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গত ২৩ অক্টোরব বাসা বরাদ্দের কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা প্রকৌশলী শাহজাহানকে বাসা বরাদ্দ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কিন্তু অদ্যবধি সে কোন কাজকর্ম করেনি বরং উনি নিজেই অন্যত্র থাকেন। বাসা বরাদ্দ কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা প্রকৌশলী শাহজাহান জানান, আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দায়িত্ব অনুযায়ী আমি কাজ করছি। ইতিমধ্যে সকলের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনুকূলে বাসা বরাদ্দপত্র তৈরীসহ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পানি সরবরাহসহ ভবনগুলোর ক্ষুদ্র মেরামতের কাজ চলছে। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে সম্পন্ন কাজ সমাপ্ত হবে। তিনি আরো জানান, দীর্ঘদিন ভবনগুলো পরে থাকায় ভবনগুলোর জানালার কাঁচ ও কাঠ, দরজার কাঠসহ ময়লা হয়ে রয়েছে। কিছু কিছু রোমে রং এর কাজ করতে হবে। কোন বরাদ্দ না থাকায় কাজ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাসা বরাদ্দ কমিটির সভাপতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টার করেও তাকে পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার বর্তমানে ডাক বাংলোতে থাকেন।

Check Also

তিতাসে মেহনাজ হোসেন মীম আদর্শ কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

নাজমুল করিম ফারুক :— কুমিল্লার তিতাসে মেহনাজ হোসেন মীম আদর্শ কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠান গত শনিবার ...

Leave a Reply