সরাইলে ছাত্র দলের দুই পক্ষের ফের সংঘর্ষে আহত ২০

উপজেলা সদর রণক্ষেত্র, ইউএনও’র অপসারণ দাবিতে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি :

ব্রা‏‏হ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের ফের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে উপজেলা সদরে নাজমুল আলম খন্দকার মুন্না ও জহির উদ্দিনের পক্ষের নেতা কর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ বাধে। আহতরা পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা নিয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়ী করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্র্র্শী সূত্র জানায়, উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে গতকাল রোববার সকালে স্থানীয় গরুবাজারে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। ওদিকে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাজমুল আলম খন্দকার মুন্নার নেতৃত্বে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্যরা সমাবেশকে প্রতিহত করতে স্থানীয় কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার চত্বরে অবস্থান নেন। পূর্বঘোষিত এ সমাবেশ ও গত শুক্রবারের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উপজেলা সদরে শনিবার থেকেই টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গতকাল রোববার সকালে ঠাকুরবাড়ির মোড় ও উচালিয়াপাড়া মোড়ে পুলিশ অবস্থান নেয়। এসময় ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গরুবাজার এলাকায় সমাবেশে পুলিশ বাধা দিলে নেতা-কর্মীরা অন্নদা স্কুল মোড় দলীয় কার্যালয়ের দিকে রওয়ানা হয়। এসময় ছাত্রদলের অপরগ্রুপও অন্নদা স্কুল মোড়ের দিকে অগ্রসর হলে দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত দু’গ্রুপের প্রায় ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। জেএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়ে চরম বিপাকে। বিকাল বাজারের হাটখোলা জামে মসজিদে মুসল্লিরা আটকে পড়েন। পথচারী লোকজন বিভিন্ন দোকান ও মার্কেটে আটকে পড়েন। থানাপুলিশের পাশাপাশি জেলা থেকে এক প্লাটুন দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ওদিকে গত তিন দিন ধরে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের বিরোধকে কেন্দ্র করে সমগ্র উপজেলায় আতঙ্ক বিরাজ করলেও উপজেলা প্রশাসন কোন কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় স্থানীয় আওয়ামী যুবলীগের নেতৃবৃন্দ গতকাল বিকেলে ইউএনও’র বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক হাজী মাহফুজ আলী ও যুগ্ম আহবায়ক আমিনুল ইসলাম শেলভী বলেন, ইউএনও এবং ওসির দায়িত্ব অবহেলার কারণে সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ। তারা ছাত্রদলের দু’গ্রুপকে প্রতিহত করার পরিবর্তে মদদ দিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হাজী ইকবাল হোসেন বলেন, আমরা ব্যর্থ ইউএনও’র অপসারণ দাবি করছি। এলাকার শান্তি শৃঙ্খলার স্বার্থে দোষী ছাত্রদল নেতাদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, এই পরিস্থিতিতে লিখিতভাবে নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি ঘটনার দিন সকালে আশুগঞ্জ চলে যান। পুলিশকে কোন সহযোগিতা করেননি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়াত মো. শাহেদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার জন্য উপজেলা প্রশাসন দায়ী নয়। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম। চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছি। পুলিশ আমাকে কোন সহযোগিতা করেনি। এমনকি ওসি আমার ফোনও রিসিভ করেনি। বিষয়টি আমি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে অবগত করেছি।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply