প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে !!!

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল :
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েও রাতের বেলা নিজ বাড়িতে থাকেন এক রোগী। প্রতিদিন হাসপাতালে চিকিৎসক ভিজিট করার সময় তিনি হাসপাতালে উপস্থিত থাকেন। চিকিৎসক চলে যাওয়ার সাথে সাথেই তিনি বাড়িতে চলে যান। মোটর সাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ান এলাকায়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সদর উপজেলার দক্ষিণ সুহিলপুর ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলী খলিফা পুত্র হেলিম মিয়া। গত ৬ নভেম্বর বিকেলে এলাকায় প্রতিপক্ষের সাথে সংঘর্ষে মাথায় আঘাত পান তিনি। ভর্তি হন জেলা সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে।

এলাকাবাসী জানান, হাসপাতাল থেকে গিভিয়ার্স সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্যই তিনি এই পন্থা অবলম্বন করেছেন।

এলাকাবাসী জানান, গত রোববার বিকেলে মোটর সাইকেল দিয়ে বাড়িতে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে সাতবাড়িয়া গ্রামের রাস্তায় মামাত ভাই মাসুদ মোল্লাকে ধাক্কা দেয়। এতে দু’ভাইয়ের মধ্যে প্রথমে বাকবিতন্ডা ও পরে মারামারির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি পারিবারিকভাবে নিস্পত্তি করতে উদ্যোগ নেন এলাকার সাবেক মেম্বার খসরু মোল্লা। কিন্তু হেলিম মিয়া আপোষ না মেনে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় চেয়ারম্যান দুই ভাইয়ের বিরোধকে মিমাংসার উদ্যোগ নেন। কিন্তু এ ঘটনায় হেলিম মিয়ার ভাই শামীম মিয়া বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন।

সাতবাড়িয়া গ্রামের রোকন মিয়া, আজিজ মিয়াসহ বেশ কয়েকজন বলেন, বিষয়টি এখন বড় আকারে ধারণ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েক ব্যক্তি বলেন, হেলিম মিয়া রাতের বেলা বাড়িতেই থাকেন। দিনের বেলা মোটর সাইকেল নিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়ান। সাবেক ইউপি সদস্য খসরু মোল্লা বলেন, বিষয়টি সামান্য ব্যাপার। পারিবারিকভাবে সমাধান করতে চেয়েছিলাম। কিছু লোকের অসহয়োগিতার কারনে সম্ভব হয়নি। হাসপাতালে মশার উপদ্রব বেশি তাই মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে হেলিম মিয়া রাতে বাড়িতেই ঘুমান। এখনো মিমাংসার চেষ্টা অব্যাহত আছে। আসামি মাসুদ মোল্লার মাতা জাহানারা বেগম বলেন, মোটরসাইকেলের ধাক্কাকে কেন্দ্র করে মিথ্যা মামলা দিয়ে চার পরিবারের পুরুষদের বাড়ি ছাড়া করেছে। হেলিম মিয়া হাসপাতালে ভর্তি থেকেও বাড়িতে এসে হুমকি দিচ্ছে।

ব্যবসায়ী জুরু মোল্লা বলেন, হেলিম মিয়া মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে কিছুক্ষন পর পরই রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে আসা যাওয়া করছে। এদিকে গত বুধবার দুপুর ১২টা ও বিকেল ৫টায় দু’দফা সার্জারি বিভাগে গিয়ে হেলিম মিয়াকে পাওয়া যায়নি। কর্তব্যরত নার্স জানান, এ নামে রোগী এই ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। বর্তমানে কোথায় আছেন তা আমার জানা নেই।

এ ব্যাপারে মামলার বাদি মোঃ শামীম মিয়া বলেন, আমাদের উপরে ওরা যথেষ্ট অন্যায় অবিচার করেছে। আমার ভাই হেলিম মিয়াকে মারধোর করেছে। তিনি বলেন, এলাকাবাসী বিষয়টি মিমাংসা করতে আপোষের ব্যবস্থা করছেন। তিনি বলেন, ঈদ উপযাপন করতে তার ভাই হেলিম মিয়া হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আসা-যাওয়া করে।

এ ব্যাপারে জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ আবু সাঈদ বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ন বে-আইনী। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply