অব্যাহত যানযটে ঈদে ঘরমুখো কুমিল্লাবাসীর ভোগান্তি চড়মে

এস জে উজ্জ্বল :

পেশাগত কারনে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রায় চার লাখ মানুষ রাজধানী ঢাকায় স্থায়ী কিংবা অস্থায়ী ভাবে বসবাস করে। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ আনন্দ উদযাপনের দিন ঈদ উল আযহা উপলক্ষ্যে নাড়ীর টানে এই লক্ষ জনতা ছুটছে যার যার প্রীয়জনদের কাছে। উদ্দ্যেশ্য আর কিছুই না, সকলে মিলে একসাথে আনন্দটুকু ভাগাভাগি করে নেওয়া। সারাবছর ব্যাস্ততার মাঝে প্রিয় মানুষগুলোকে সেইভাবে সময় দেয়া অনেকেরই হয়ে উঠে না, বাঁচার তাগিদে, পেটের তাগিদে। তাই লম্বা ছুটি পেয়ে নাগরিক ব্যাস্ততা থেকে মানুষ নিজেকে আলাদা করার উপলক্ষ্য পায় এই ঈদের দিনগুলোতে। কিন্তু উপায় কি, প্রতিবারের মত এবারও বাধ সেধে বসে আছে পথের বিড়ম্বনা।

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক !! এ এক মহা বিরক্তিকর সড়কে রূপ নিয়েছে বিগত চার-পাঁচ বছর যাবত। ব্যাস্ততম এই মহাসড়কের বেহাল দশার কারনে ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রির চাপ এর পক্ষে যেন আর নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ঘরমুখো মানুষের চাপে গত তিনদিন যাবত অব্যাহত ভাবে ৫০-৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ্য যানযটে নাকাল এখন কুমিল্লাবাসী। আত্নীয়-স্বজনদের সাথে ঈদের আনন্দ করতে আসার উচ্ছাসটাই মাটি হয়ে যাচ্ছে পথের এই বিড়ম্বনায়।

গতকাল শুক্রবার থেকে ছুটির দিন শুরু হওয়াতে স্বাভাবতই এদিন মানুষের ঢল নামে ঢাকার সায়দাবাদ বাস টার্মিনালে। ভোর পাচটা থেকে হাজার হাজার মানুষ আসতে থাকে বাড়ী যাওয়ার আশায়। কিন্তু টার্মিনালে এসেই সকলের আক্কেল গুড়ুম। প্রায় সব ধরনের বাসেই সকাল থেকেই দ্বিগুনের চেয়েও বেশি ভাড়া হাকা হচ্ছে। তারপরও প্রিয়জনদের সাথে বহু প্রতিক্ষীত দেখা হবার আনন্দে তা মেনে নিলেও মাত্র দুই ঘন্টার মধ্যে প্রায় সকল বাসের টিকিট হাওয়া। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে গাড়ি ভারাও। তারপর শুরু অসহনীয় এক সুদীর্ঘ পথযাত্রার।

আগের দুই দিন কুমিল্লার দাউদকান্দি, চান্দিনা অংশে দীর্ঘ্য যানযট সৃষ্টি হলেও গতদিন দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র । বলতে গেলে ঢাকার সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকেও ভোগান্তির শুরু। প্রায় পুরো রাস্তাই অতিরিক্ত গাড়ির চাপে নাকাল হয়ে পড়ে। সকাল থেকেই যাত্রাবাড়ী, শনির আখরা, রায়েরবাগ, চিটাগাংরোড, কাচপুর, সোনারগাঁ, নারায়নগঞ্জ এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পরে। ক্রমান্বয়ে তা কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। থেমে থেমে প্রায় পুরো রাস্তাই ছিল যানজটে নাকাল। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক অবস্থায় ঢাকা থেকে কুমিল্লা আসতে যেখানা দেড় থেকে দুই ঘন্টা সময় লাগত, এদিন সেই একই রাস্তা পারি দিতে সময় ব্যায় হয়েছে ন্যূনতম দশ ঘন্টা থেকে ষোল ঘন্টা পর্যন্ত। এই দীর্ঘ্য বিড়ম্বনাপূর্ণ যাত্রার ভোগান্তিতে পড়ে নারী-শিশু সহ অনেক যাত্রীই আসুস্থ হয়ে পড়ছে। তার পরও এইটুকু স্বস্থি যে অন্তত প্রিয় জনদের সাথে ঈদের আনন্দটুকু ভাগাভাগি করতে পাড়ছি।

এদিকে বিকেলের দিকে সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে অনেক যাত্রিকে বাস-ট্রেন না পেয়ে বেদনা ভরা মুখ নিয়ে বাসায় ফিরে যেতে দেখা গেছে। এই সবকিছুর পরও যথাযোগ্য মর্যাদায় আগামী সোমবার পালিত হবে মোসলমানদের সর্ববৃহৎ ঈদ, ঈদ উল আযহা। এদিন পশু কোরবানির মাধ্যমে মানুষ তার মনের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা পশুত্বকে কোরবানি করবার মধ্য দিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালার নৈকট‌্য কামনা করবেন। পাশা পাশি পরিবার, সমাজ, দেশ এবং সর্বোপরি বিশ্ব শান্তি কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করবে দেশের কোটি কোটি ধর্মপ্রান মোসলমান।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply