প্রত্যাশা’র দোলাচলে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন

দেলোয়ার জাহিদ :

দেলোয়ার জাহিদ
নারায়ণগঞ্জে ঘটে গেছে এক “ভোটবিপ্লব”। সহিংসতার সকল উদ্বেগ, উৎকন্ঠা, আতঙ্ক আর আশংকা ছাপিয়ে জনগণ প্রয়োগ করেছে তাদের মূল্যবান ভোটাধিকার। বাংলাদেশ’র নির্বাচনী ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এক মাইলফলক। ক্ষমতাশীন আওয়ামীলীগ ও প্রধান বিরোধীদল বিএনপি’র এ নির্বাচন থেকে রয়েছে কিছু অর্জন, আর বর্জন থেকে শিক্ষা নেয়ার মতো রয়েছে অনেক শিক্ষন। সীমাবদ্ধতার সীমা ডিঙ্গিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন স্থাপন করেছে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

সিটি করপোরেশন গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইনী বাধ্যবাধকতার কারনে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে হয়তো কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন। যথাসম্ভব দ্রুততার সাথে শহরের ওয়ার্ডসংখ্যা এবং সীমানা নির্ধারণ এর কাজগুলো সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নিরলস কাজ করে চলেছে। নারায়ণগঞ্জের মতো কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনও হয়তো স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করবে কারন দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে নারায়ণগঞ্জের এ “ভোটবিপ্লব” একটি নতুন আবাহ সৃষ্টি করেছে। দেশের সাধারন মানুষ পরিষ্কার ভাবে জানিয়ে দিয়েছে তারা কি চায়, কিভাবে এবং সর্বোপরি কাদেরকে চায়। নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনের অর্জনগুলো কি? এবং আগামী নির্বাচনে বা বর্জনীয় বিষয়গুলোই বা কি? তা পর্যালোচনা করা দরকার।

সরকার এ নির্বাচন থেকে অর্জনগুলো’র কিছু অংশীদারিত্ব অবশ্যই দাবী করতে পারে বিশেষতঃ আইন শৃংখলা রক্ষা এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা ইত্যাদি। তবে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধ উপেক্ষা সরকারের কোন প্রাজ্ঞ সিদ্ধান্ত নয়। অনেকে মনে করেন এ নির্বাচন সরকারকে আরো দিতে পারতো আকাশচুম্বি এক সফলতা’র অর্জন।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হওয়ার পর এটিই ছিলো নির্বাচন কমিশন আয়োজিত প্রথম নির্বাচন। কমিশনের জন্য একটি বড় চ্যালেন্জ কারন তাদের নিয়োগ ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে প্রধান বিরোধীদল বিএনপি এবং এর অধীনে কোন নির্বাচনে এমনকি অংশ না নেয়ার ঘোষনা ও দিয়ে আসছে কিন্তু তারপর ও বিএনপি নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে মূলতঃ অংশ নিয়েছে। একাধিক প্রার্থী, ভোটার ও নির্বাচন কমিশন সহ অনেকেই নির্বাচনে সেনা মোতয়েন চেয়েছিলেন কিন্তু সরকার নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বা এরপরও না মোতয়েনের কোন সন্তোষজনক ব্যাখা দেয়নি বা দেয়ার এখনো কোন প্রয়োজন অনুভব করেনি। এটা সরকারের সকল অর্জনকে কতটুকু ম্লান করেছে আশাকরি নীতি নির্ধারকদের তা উপলব্ধি করার সময় এসেছে।

কুমিল্লা পৌরসভা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিন পৌরসভাকে নিয়ে গত ১০ জুলাই গঠিত হয়েছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন। বাংলাদেশে সমবায় আন্দোলন ও পল্লী উন্নয়নের পথিকৃত এ কুমিল্লা। কুমিল্লা, বাংলাদেশে’র সিটি করপোরেশনগুলোর জন্য হতে পারে একটি উন্নয়নের মডেল। কারন ’৬০ এর দশক থেকে স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের সুতিকাগার এ কুমিল্লা। নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনী অভিজ্ঞতার আলোকে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আনুষাঙ্গিক কাজকর্মগুলো এখনই শুরু করার মোক্ষম সময়।

এদিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে একধরনের রাজনৈতিক মেরুকরন, শুরু হয়েছে পেশাজীবিদের মধ্যে একধরনের টানপোড়ন। ইতিমধ্যে ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক সভা সমাবেশে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের স্বীয় গ্রহনযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং কোন কোন ক্ষেত্রে অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের নানাভাবে কোণঠাসা করতে কৌশলে ব্যস্ত তারা। সম্প্রতি কুমিল্লায় এ প্রবনতা বেশ লক্ষনীয় হয়ে উঠেছে কিন্তু সাধারন মানুষের কাছে এগুলো মোটেই আনন্দদায়ক বা উপভোগ্য নয়। নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনী অভিজ্ঞতাই এর উৎকৃষ্ট প্রমান।

কুমিল্লায় দীর্ঘ তিন যুগের স্বেচ্ছাসেবা, শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা ও তৃণমূলে মানবাধিকার আন্দোলনের একজন সংগঠক, নাগরিকদের ভোট প্রবনতা’র একজন তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষক হিসাবে এবং সর্বোপরি একজন রাজনীতি সচেতন নাগরিক হিসাবে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনকে ঘিরে সংক্ষিপ্ত একটি ধারনাপত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছি। কানাডা’র মতো উন্নত দেশের সিটি করপোরেশনের কার্য্যক্রম ও অভিজ্ঞতার গবেষনা থেকে কিছু তথ্য উপাত্ত ও এখানে সন্নেবিশিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।এ উপাদানগুলো হয়তো কারো কারো চিন্তার খোরাক যোগাতে পারে যা শুধুমাত্র কুমিল্লা সিটি করপোরেশনই নয় বরং অন্যান্য সিটি করপোরেশনের পরিকল্পনা প্রণয়নে এবং বাস্তবায়নে হয়তো কিছুটা সহায়ক হতে পারে।

সিটি করপোরেশন একটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। এ’টি একটি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত নাগরিক প্রতিষ্ঠান। আইন দ্বারা এর সকল দায়বদ্ধতা নির্ধারিত আছে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের মতোই পুরাতন এর ইতিহাস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তা ক্রমশ গণমানুষের ক্ষমতায়নের সুবিধার্থে যুগ-উপযোগী ও শক্তিশালী হচ্ছে কিন্তু বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম।

যেমন কানাডার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নানাহ সেবা ছাড়াও ফেসেলিটিজ, সেফটি ও অবকাঠামোগত কার্য্যক্রম গ্রহন ও পরিচালনা করে থাকে। অন্যান্য পলিটিক্যাল ইন্সটিটিউশনের মতো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও মধ্যযুগীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে এসেছে। দি সিটি অব ওয়েনচেষ্টার ১১৮৫ সালে যে চার্টার ঘোষনা করেছিলো সেখানে প্রদত্ত অধিকারগুলো ম্যাগনাকার্টায় অনুমোদিত হয়েছে। ১৭৮৫ সালে কানাডার সেন্ট জন ও নিউব্র্যান্স উইক এর স্থানীয় সরকার রয়েল অনুমোদন লাভ করে । ১৮৪৯ সালে লেজিসল্যাটিভ এ্যাসেম্বলী অব কানাডা স্থানীয় সরকার কর্পোরেশন এ্যাক্ট কে অনুমোদন দান করে। ফলশ্রুতিতে স্থানীয় সরকার প্রতিভিযোজন বা ডেলিগেটেড ক্ষমতা লাভ করে। ট্যাক্স বৃদ্ধি, বাইল’জ (উপবিধি) বা পাবলিক রেজুলেটরী আইন প্রনয়ণ ও কার্য্যকরনে স্থানীয় সরকার ক্ষমতা প্রাপ্ত। কানাডার স্থানীয় সরকার বা মিউনিসিপাল উপবিধি লংঘন পাবলিক জাষ্টিস সিষ্টেমে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রচলিত উপবিধিগুলোর মধ্যে গাড়ি পার্কিং, জোনিং, বিজনেস রেগুলেসন্স, শ্রান্তি-বিনোদনের স্থানসমূহের ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষন সিটি কর্পোরেশনগুলো’র আওতাধীন।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা পৌরসভাকে ১৪৭ বছর পর সদরের ১৮টি এবং সদর দক্ষিনের ৯ টি ওয়ার্ড নিয়ে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়েছে। তবে এখনো সীমানা পুনঃনির্ধারন সহ গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশ বাকী রয়েছে। সঙ্গত কোন কারনে নির্বাচন কিছুটা বিলম্বিত হলেও নারায়ণগঞ্জের ভোট ব্যবস্থার সমস্যা ও সীমাব্দ্ধতাগুলো মাথায় রেখে এখনই সরকারী ও বেসরকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করা যায়। কুমিল্লা’র সকল পেশাজীবি সংগঠন এ ব্যাপারে সতর্ক ও সচেতন ভাবে কাজ করলে বাংলাদেশে আরো একটি দৃষ্টান্তমূলক নজির স্থাপন করা সম্ভব। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নাসির উদ্দিন আহমেদ এবং জেলা প্রশাসক মোঃ রেজাউল আহসান এ ব্যাপারে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ট ভুমিকা পালন করতে পারেন এবং আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস তারা তা’ই করবেন। জেলার পুলিশ প্রশাসন ও আইন শৃংখলা রক্ষায় তাদের সর্ব শক্তি নিয়োগ সহ মেধা ও দক্ষতা প্রয়োগ করবে বলে মনে করি।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন’র ভবিষ্যত উন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে বোদ্ধামহলে আলোচনা, পর্যালোচনা শুরু হয়েছে সম্প্রতি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ একে আবাসিক রাজধানী করার দাবী জানিয়েছেন। এ নবগঠিত মহানগরী’র জন্য কোন মহা পরিকল্পনা প্রস্তুত করার মতো প্রস্তুতি যদি ও এখনো দৃশ্যমান নয়। তবে বিধিবদ্ধ সেবার বাইরে ও একে একটি উন্নয়নের মডেল সিটি -করপোরেশন হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার সব সুযোগ এবং মানব সম্পদ আমাদের হাতের কাছেই রয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বার্ড) এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে এ কাজে আমাদের অন্যতম সহায়ক। পঞ্চাশ বছর পর কুমিল্লা সিটি করপোরেশন শীর্ষক এক মত বিনিময় সভায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কতগুলো সরল স্বীকারোক্তিতে বের হয়ে এসেছে যে নেতৃত্ব সংকটের কারনে কুমিল্লায় ইপ্সিত উন্নয়ন হয়নি। এ আত্মোপলব্ধি’র জন্য গণমানুষের পক্ষ থেকে আমি তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। এতো কিছুর মাঝেও আমাদের যা কিছু অর্জন কুমিল্লা’র গণমানুষ ঠিকই জানেন কাদের কোথায় কতটুকু অবদান। সরকার এবং বিরোধীদল উভয় এর মাঝে আসন্ন এ নির্বাচনকে ঘিরে একধরনের মেরুকরণ শুরু হয়েছে। জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতিমধ্যে তৃণমূলে কাজ শুরু করে দিয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীরা নানাহভাবে গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন যা খুবই উৎসাহ ব্যঞ্জক। কুমিল্লার জনগন বেছে নেবে একজন সেবক, শাসক নয়, আর এ কাজে সহায়তা দেয়া সকল সংবাদ মাধ্যম এবং মানবাধিকার কর্মীদের নৈতিক দায়িত্ব। দায়িত্ব ভোটারদের শিক্ষিত ও সচেতন করে তোলা। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, প্রতিদন্ধীতা বা প্রতিহিংসা’র কোন অংশ না হয়ে বস্তুনিষ্ট ভাবে এ দায়িত্ব পালন করা আমাদের পেশাদারিত্বের অঙ্গীকার। এ ব্যাপারে কুমিল্লা প্রেসক্লাব ও অন্যান্য সাংবাদিক পেশাজীবি সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

কুমিল্লাকে বিভাগ করা এবং বৈষম্যমূলক কোটা প্রথা বাতিল করা বর্তমান সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং ক্রমবর্দমান ছাত্রবৃদ্ধি ও চাহিদার কথা বিবেচনা করে ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষনা করার জন্য প্রয়োজন জোড়ালো ভাবে দাবি উত্থাপন। প্রয়োজন কুমিল্লা’র ডাকাতিয়া নদীতে দখলমুক্তি, আশু খনন ও সংষ্কার, প্রয়োজন কৃষকদের উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষন। প্রয়োজন আর্থিক বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ এবং সর্বোপরি সন্ত্রাস নির্মূল। প্রয়োজন স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সকল নাগরিক সেবা প্রদানের অন্তরিক অঙ্গীকার। প্রয়োজন সেবা’র মান উন্নয়ন ও আধুনিকরন।

এ অরাজনৈতিক নির্বাচনকে ঘিরে দুই প্রধান দলের মধ্যে আন্তঃ দলীয় মেরুকরণ শুরু হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের ধারনা কুমিল্লায় নারায়ণগঞ্জের চেয়ে ও ব্যতিক্রমধর্মী পরিবেশ ও পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে কারন এখানে ভোটের সমীকরণ বেশ জটিল। নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে সরকারের জয়, এবং নির্বাচন বর্জনে বিরোধীদলের জয় এসকল দাবি ছাপিয়ে সূর্যালোকের মতো ফুটে উঠেছে জনতার জয়। আর এ জয়ের আলোকে আলোকিত হোক কুমিল্লা, এ প্রত্যাশা আমাদের সকলের।

লেখকঃ
দেলোয়ার জাহিদ, রিসার্চ ফেলো, সেন্ট পলস কলেজ, ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবা, ও নোটারী পাবলিক অব সাস্কাচুয়ান, কানাডা এবং সাবেক সভাপতি, কুমিল্লা প্রেসক্লাব ও কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়ন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply