চৌদ্দগ্রাম ক্যামিকেল ইন্ডাষ্ট্রিজের মালিকানা নিয়ে বিরোধ চরমে ॥ মুক্তিযোদ্ধার অংশীদারত্ব আত্মসাতের চেষ্টা

জামাল উদ্দিন স্বপন:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বিসিক শিল্পনগরীতে একটি ক্যামিকেল ইন্ডাষ্ট্রিজের অংশীদারিত্ব আত্মসাৎ করার লক্ষ্যে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সাবেক উপ-সচিব জাকির হোসেন প্রতিষ্ঠানকে প্রাইভেট লিমিটেডে পরিণত করেছে। এনিয়ে ওই ইন্ডাষ্ট্রিজের অংশীদার মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প কর্পোরেশনের নিকট একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে জানা গেছে, সাবেক উপ-সচিব জাকির হোসেনের স্ত্রী ইয়াসমিন ছিদ্দিকী ব্যবস্থাপনা অংশীদার হিসেবে চৌদ্দগ্রাম ক্যামিকেল ইন্ডাষ্ট্রিজের ৮৫% এবং তার ভাসুর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেনের নামে ১৫% অংশীদার হিসেবে ১৯৯৬ সালের ১৯ অক্টোবর প্লট বরাদ্দের আবেদন জানায়। পরবর্তী বছর বিসিক বরাদ্ধ কমিটির (এল.এ.সি) সভায় যৌথ মালিকানাধীন ইন্ডাষ্ট্রিজ স্থাপনের জন্য ৬টি প্লটে মোট ২৭ হাজার বর্গফুট জমি (প্লট নং- এস-১, ২, এ-৩৪, ৩৫, ৩৮ ও ৩৯) বরাদ্ধ হয়।

১৯৯৯ সালে একক মালিকানা হিসেবে সাবেক উপ-সচিব জাকির হোসেন তার স্ত্রী ইয়াসমীন ছিদ্দিকী, দুই ছেলে ফাহিম ও যোবায়েরকে উদ্যোক্তা দেখিয়ে জয়েন ষ্টক কোম্পানী থেকে ‘মেসার্স চৌদ্দগ্রাম ক্যামিকেল ইন্ডাষ্ট্রিজ’ এর নাম পরিবর্তন করে ‘মেসার্স চৌদ্দগ্রাম ক্যামিকেল ইন্ডাষ্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে রেজিষ্ট্রেশন করে। যা বিসিক আইন ও বিধি বহির্ভূত। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিষ্ঠানের ১৫% অংশীদার দেলোয়ার বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন, বিসিক সভাপতি ও চৌদ্দগ্রাম বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন।

অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল বিসিক সভাপতি (ডেপুটি কমিশনার, কুমিল্লা) এল.এ.সির সভায় ব্যবস্থাপনা অংশীদার হিসেবে ইয়াসমীন ছিদ্দিকীকে লিখিতভাবে অবগত করা হয়। প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়ে এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। পরে ইয়াসমীন ছিদ্দিকীর স্বামী জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া স্বারিত দেলোয়ার হোসেনের একটি নাদাবী নামা কাগজ তৈরী করে। এনিয়ে দেলোয়ার হোসেন চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করায় বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ায়। প্রতিষ্ঠানে মালিকানার জট সৃষ্টি করে জাকির হোসেন ও তার দুই ছেলে দেলোয়ারকে প্রতিষ্ঠান থেকে তাড়িয়ে দেয়। প্রতিষ্ঠানটি চালু থাকলেও ব্যবস্থাপনা অংশীদার ইয়াসমীন ছিদ্দিকী সকল আয় ভোগ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিসিক শিল্প নগরীর কর্মকর্তা মোঃ ইউসুফ এসকল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

বিসিক শিল্পনগরী মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব সোলেমান কোম্পানীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের জমি বরাদ্ধ, শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও চালু করণ পর্যন্ত দেলোয়ার হোসেন ১৫% মালিক ছিলেন। পরে তাদের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হলে বিষয়টি মিমাংশার জন্য সমিতির নেতৃবৃন্দসহ এলাকার চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বারবার চেষ্টা ব্যর্থ হন।

এদিকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য কুমিল্লা বিসিক উপ-মহাব্যবস্থাপককে নির্দেশ দেয়।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply