প্যারিসে এক বাংগালির মৃত্যু, হাসপাতালের হিমঘরে পড়ে আছে মরদেহ

মো: খালেদ বিন রহমান, প্যারিস থেকে:
গত ৪ অক্টেোবর লক্ষীপুরের নিখিল কর্মকার(৩৩) প্যারিসে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন । তার মরদেহ পড়ে আছে প্যারিসের গার দ্যা অস্টালিস হাসপাতালের হিমঘরে । পারিবারিক স্বচ্ছলতা আনার জন্য দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ ঘুরে বিশ্বের অন্যতম ধনী ও মানবাধিকরের দেশ ফ্রান্সে এসেছিল নিখিল । ভাগ্যের নির্মিম পরিহাসে ফ্রান্সে আসার বারো দিনের মাথায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করে ।

এদিকে আমলাতান্তিক জটিলতার কারনে জাতীয়তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নিখিলের লাশ দেশে পাঠানো যাচ্ছে না । লক্ষীপুর জেলার ১০ নং চন্দ্রগঞ্জ, ধন্যপুরের বড় কর্মকার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম এবং বৃদ্ধ পিতা মতিলাল কর্মকার ও মাতা মরণী বালা কর্মকার অধীর অগ্রহে অপেক্ষা করছেন শেষবারের মতো আত্মজকে দেখা এবং সতকার করার জন্য।আরো অপেক্ষা করছে তার স্ত্রী শিল্পী রানী কর্মকার এবং দুই অবোধ শিশু হৃদি কর্মকার (৫)ও হৃদয় কর্মকার (৩) ।অন্যদিকে, ফ্রান্সের নিয়ম অনুসারে এক মাসের মধ্যে লাশের সনাক্তকরন নিশ্চিত না হলে বেওয়ারিশ লাশ হিসাবে ঘোষনা করা হবে ।

জানা যায়, দালালের মাধ্যমে নানা দেশ ঘুরে গত ২২শে সেপ্টম্বর স্বপ্নের নগরী প্যারিসে আসে নিখিল।

প্যারিসে থাকার জন্য ঠিকানা সংগ্রহ ও কাগজ পত্র ঠিক করতে ব্যস্ত থাকে নিখিল এবং একটি ঠিকানাও সংগ্রহ করে ।কিন্তু ৮বিস , রুই পান্তার বাসায় সনাতন ধর্মীদের বড় উতসব দূর্গাপূজার ষষ্ঠীর রাত ৪ অক্টোবর যম তার আত্তা কবজ করে নেয় ।

প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, ৪ অক্টোবর বিকেলে গলায় টনচিলের ব্যাথা হয় । নিখিল কর্মকার ডাক্তারের পরামর্শে ব্যথা প্রদাহনাশক একটি স্প্রে ব্যবহার করেন । কিন্তু নিয়মমতে একবার ব্যবহারের পরিবর্তে কয়েকবার এই স্প্রে ব্যবহার করেন । এরপর তার শ্বাস কষ্ট শুরু হয় । অবস্থা গুরুতর দেখে জরুরী বিভাগের ডাক্তার (স্যামু) ডাকা হয় এবং স্যামু প্রায় ২৭ জন ডাক্তার অক্লান্ত পরিশ্রম করে বাঁচাতে পারলো না ।স্থানীয় সময় রাত সাড়ে তিনটার দিকে সে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করে । তারপর থেকে লাশ পড়ে আছে গার দ্যা অস্টালিস হাসপাতালের হিমঘরে ।

এদিকে তার কাগজপত্র গেঁটে একটি জন্মসনদ পাওয়া যায় এবং তা ফ্রান্সের বাংলাদেশ দূতাবাসে জমা দিলে কতৃপক্ষ তাকে বাংলাদেশী হিসাবে অস্বীকার করে । পরে ফ্যাস্কের মাধ্যমে চেয়ারম্যান স্যাটিফিকেট আনায় ও অনেক দেন দরবারের মাধ্যমে বাংলাদেশ দূতাবাসের দয়া পরাবশ ২১ অক্টোবর তাকে বাংলাদেশী বলে ছাড়পত্র দেয় । এরপরই বাংলাদেশীরা লাশ দেশে পাঠাবার জন্য চাঁদা তুলতে উদ্দেগ নেয় ।আগামী ৬ নভেম্বর মরদেহ বাংলাদেশে যাবে বলে , জানান ফ্রান্স প্রবাসী রাজীব ঘোষ ।

Check Also

রিয়াদে জ্যাবের ‘অমর একুশে’ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ষ্টাফ রির্পোটার :– “অমর একুশের চেতনায় গন মানুষের মনে জেগে উঠুক উজ্জলতা উৎকৃষ্টতা” শীর্ষক আলোচনা ...

Leave a Reply