সরাইলে কৃষি চাষাবাদ পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত কৃষক

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল ॥
ব্্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে কৃষি চাষাবাদ পণ্য হাতবদলের কারণে কৃষকদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। অনুমোদিত ডিলাররা অধিক মুনাফার লোভে কৃষি পণ্য সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি কৃষকদের পরিবর্তে কিছু পাইকার ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। সুযোগে অসাধু পাইকাররা এসব পণ্য এলাকার কৃষকদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই বিষয়ে অবগত থাকলেও রহস্যজনক কারণে তারা নীরব ভূমিকায় রয়েছেন। সরকার কর্তৃক প্রায় কৃষি চাষাবাদ পণ্যের দাম নির্ধারণ করা থাকলেও, পণ্যেগুলোর ন্যায্য দাম কত ? এখানকার অনেক কৃষকই তা জানেন না। তারা অতিরিক্ত টাকা দিয়েই চাষাবাদের পণ্যগুলো সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে প্রায় কৃষকের চাষাবাদ জমিতে উৎপাদিত ফসলের সাথে খরচের হিসাব মিলছে না। কৃষিতে লোকসান দেখে বহু কৃষক জমি চাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলার নয়’টি ইউনিয়নের বাজারগুলোতে লাইসেন্স, সাইনবোর্ড ও কাগজপত্র ছাড়াই একাধিক কৃষি চাষাবাদ পণ্যের দোকান গড়ে উঠেছে। এইসব দোকানে অতিরিক্ত মূল্যে কৃষকদের কাছে সার, বীজ ও কীটনাশ বিক্রি করা হচ্ছে। অনেকে ভেজাল পণ্যও বিক্রি করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব দোকানির অনেকেরই কৃষি চাষাবাদ পণ্য বিক্রির কোনো লিখিত অনুমতি নেই। তারা অনুমোদিত ডিলারদের পাইকার মাত্র। কিন্তু তারা বিএডিসির বীজও বিক্রি করছে। ১০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা বীজ সরকার ঘোষিত ৩৬০ টাকা বিক্রির কথা থাকলেও, তারা কৃষকদের কাছে বিক্রি করছেন ৪২০-৫০০ টাকায়। কৃষি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় বিএডিসি’র অনুমোদিত মোট ২৩ জন ডিলার রয়েছেন। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে পুরো উপজেলায় চারশ’ মেট্্িরক টন বীজের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বিএডিসি দিচ্ছে শুধু দুইশ’ মেট্্িরক টন। বাকি বীজ স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয়ভাবে বীজ সঙ্কট রয়েছে। এদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সবধরনের কৃষি পণ্যের দাম চড়া। ডিলারদের পরিবর্তে চড়া দামে পাইকারদের কাছ থেকে সার, বীজ ও কীটনাশক কিনতে হচ্ছে। ন্যায্য মূল্যে ডিলারদের কাছে বীজ ও সার পাওয়া যায় না। অথচ পাইকারদের গোডাউনে মাল থাকে। কালীকচ্ছ ইউনিয়নের মো. শামসু মিয়া, ফজল হক, জিন্নত আলী, রানু মিয়াসহ অর্ধশতাধিক কৃষক জানান, ডিলারদের কাছে ন্যায্য মূল্যে বিশেষ করে সার ও বীজ পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে চড়া দামে পাইকারদের কাছ থেকে কিনতে হয়। পানিশ্বর ইউনিয়নের মো. হারুন মিয়া, সফিকুল ইসলাম, আশু মিয়াসহ অনেকে জানান, প্রত্যেক ডিলারের কিছু পাইকার ব্যবসায়ী আছে। ডিলাররা মালামাল উত্তোলন করে কৃষকদের পরিবর্তে পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দেয়। পাইকাররা বেশি দামে এসব আবার কৃষকদের কাছে বিক্রি করে থাকে। চুন্টা বাজারে বেশক’জন পাইকার ব্যবসায়ী রয়েছেন। তারা বিএডিসি’র বীজসহ চাষাবাদের সকল পণ্য বিক্রি করে থাকেন। কিন্তু তাদের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। বিএডিসি’র সরাইল সদরের ডিলার মেসার্স শ্রাবন্তী ট্্েরডার্স-এর চুন্টা বাজারের পাইকার মো. আল আমিন বিএডিসি’র সীলযুক্ত বীজের বস্তা অবৈধভাবে মজুত রেখে কৃষকদের মাঝে চড়া দামে বিক্রি করে। বিষয়টি নিয়ে এলাকার সাধারণ কৃষকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গত ২৬ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে কৃষি কর্মকর্তা চুন্টা বাজারে অভিযান চালিয়ে আল আমিনের দোকান থেকে বিএডিসি’র সীলযুক্ত ৯৬ বস্তা বীজ জব্দ করেন। নানা নাটকীয়তার পর বিএডিসি কর্তৃপক্ষ অবৈধ মজুতদার আল আমিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে অবৈধ পাইকার ব্যবসায়ী আল আমিন জেলহাজতে রয়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে আল আমিনের মতো আরো বহু অবৈধ ব্যবসায়ী বুক ফুলিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছেন। এলাকার সাধারণ কৃষকদের দাবি শুধু পাইকারদের নয়, জড়িত ডিলারের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মসীহুর রহমান জানান, বীজ, সার ও কীটনাশক কৃষকের পরিবর্তে পাইকারদের কাছে বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমরা তা রোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply