সরাইলে সাংবাদিক পরিচয়ে ভয় দেখিয়ে বিয়ে বাড়ি থেকে ১০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ॥
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের মৃত মোবারক হোসেন মাস্টারের পুত্র শামসুল আরেফিন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে ভয় দেখিয়ে বিয়ে বাড়ি থেকে নগদ ১০ হাজার আদায় করে নিয়েছেন। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার বরের বড় ভাই মো. তাজুল ইসলাম শামসুল আরেফিনের বিরুদ্ধে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগসূত্র ও গ্রামবাসী জানান, গত শনিবার রাতে চুন্টা পূর্বপাড়া গ্রামের জুম্মা খাঁর পুত্র মো. কাউছার মিয়ার(২৩) সঙ্গে পূর্ব পরিচয়সূত্রে সরাইল সদর ইউনিয়নের পাঠানপাড়া গ্রামের শহীদ মিয়ার কন্যার বিয়ে চলছিল। এসময় শামসুল আরেফিন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিয়ে বাড়িতে যায়। বিয়ের অনুষ্ঠানটি বাল্যবিয়ে এমন অভিযোগ এনে বর ও কনে পক্ষের কাছে নগদ ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে সরাইল থেকে ইউএনও’কে ডেকে এনে বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়াসহ সবাইকে জেলে পাঠানোর ভয় দেখায়। বিয়ে বাড়ির সহজ-সরল লোকজন আইনের ভয়ভীতিতে পড়ে শামসুল আরেফিনকে ১০ হাজার টাকা দেন। পরদিন বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য লোকদের জানান বরের বড় ভাই তাজুল ইসলাম। তিনি সোমবার নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগও করেন। তাজুল ইসলাম জানান, শামসুল আরেফিন নিজেকে একজন সাংবাদিক ও সাংবাদিকদের নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। তিনি এলাকার ছোটখাটো বিষয়কে পুঁজি করে গ্রামের সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। আমি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় আমাকে র‌্যাব দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দিচ্ছে। সোমবার চুন্টা গ্রামের একাধিক ব্যক্তির সাথে আলাপ করে জানা যায়, চুন্টা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা শেখ হাবিবুর রহমানের ভগ্নিপতি শামসুল আরেফিন। শামসুল আরেফিন এলাকার খাস জমিসহ অর্পিত সম্পত্তিগুলোকে লীজ এনে দেয়ার কথা বলে এলাকার বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে উঠবস আছে বলে তিনি এলাকায় প্রচার করে আসছেন। তিনি বড়াইল রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কালাম মিয়ার কাছে একটি মোবাইল ফোন দাবি করেন। শিক্ষক কালাম মিয়া জানান, সে নিজেকে অনেক বড় সাংবাদিক দাবি করেন। আমার কাছে মোবাইল ফোন চেয়েছে। না দিলে আমাকে দেখে নেয়ার হুমকিও দিয়েছে। তার এই আচরনে চুন্টাগ্রামের মানুষ আজ অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। নিরপেক্ষ তদন্ত করা হলে শামসুল আরিফিনের সকল অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যাবে। এ ব্যাপারে শামসুল আরেফিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা। আমি কারো কাছ থেকে টাকা নেয়নি।

সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়াত মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম জানান, শামসুল আরেফিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত কওে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply