সরাইলে নানা তদবিরেও বিএডিসি বীজের অবৈধ মজুতদারের রক্ষা হয়নি

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা ॥
অবশেষে বিএডিসি’র বীজের অবৈধ মজুতদার আল আমিনকে অভিনব কৌশলে তদবির করেও রক্ষা করতে পারেননি তদবিরবাজরা। রোববার সকালে চুন্টা বাজার থেকে আল আমিনকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। সরাইল থানাসূত্র জানায়, শনিবার বিএডিসি কুমিল্লা অঞ্চলের উপ-সহকারী পরিচালক (বীজ বিপনন) মো. মজিবুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, উপজেলা চুন্টা ইউনিয়নের ঘাগড়াজুর গ্রামের আবদুস সাত্তারের পুত্র আল আমিন দীর্ঘ দিন যাবত বিএডিসি’র বীজ অবৈধভাবে মজুত রেখে কৃষকদের মাঝে চড়া দামে বিক্রি করে আসছে। গতসপ্তাহে উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা চুন্টা বাজারে অভিযান চালিয়ে আল আমিনের দোকান থেকে বৈধ কাগজপত্র বিহীন ১০ কেজি ওজনের বিএডিসি সীলযুক্ত ৯৬ বস্তা বীজ জব্দ করেন। তারপর থেকে আল আমিনকে এর দায় থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় চেয়ারম্যান, বিএডিসি’র স্থানীয় প্রভাবশালী দুই ডিলার ও কৃষি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী নানা কৌশলে তদবির শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে গত ২৭ অক্টোবর উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় সদস্যদের মাঝে টানাপোড়েন চলে। কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সরাইল থানার প্রতিনিধি সদস্য একজন পুলিশ উপ-পরিদর্শক অবৈধ মজুতদার আল আমিনের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার সিদ্ধান্ত দেন। কিন্তু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মসীহুর রহমান, ডিলার মেসার্স চাষী ঘর-এর সত্বাধিকারী মেহেদী হাসান পলাশ ও শ্রাবন্তী ট্্েরডার্সের মনীষ কান্তি দেবনাথ মামলার বিপক্ষে অবস্থান নেন। অভিযোগ আছে, আল আমিনকে মামলা থেকে বাঁচাতে তদবিরবাজরা মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন করেন। পরে নানা নাটকীয়তা শেষে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ আল আমিনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন। রোববার পুলিশ জব্দকৃত ৯৬ বস্তা বীজ আলামত হিসেবে উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অবৈধভাবে মজুতকৃত সরকারি বীজ জব্দ করবে পুলিশ। কিন্তু বিষয়টি কেউ আমাকে জানাননি। প্রতিনিধিত্ব থাকার পরও সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় দাওয়াত পায়নি। পুরো বিষয়টি রহস্যে ঘেরা।

ওদিকে বীজ জব্দের পর স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মসীহুর রহমান বরাবরের মতো বলে আসছেন গোডাউনের চাবি স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পেলেও মজুতদার চিহ্নিত করতে পারিনি। কৃষি কর্মকর্তার এই বক্তব্যে চুন্টা বাজারের অনেকে অবাক হয়েছেন। স্থানীয় লোকজন জানান, কৃষি কর্মকর্তা চুন্টা বাজারে প্রথমে এসেই আল আমিনকে খোঁজ করেন। পরে তিনি আল আমিনের গোডাউন থেকে বিএডিসি’র সীলযুক্ত বীজের বস্তা জব্দ করেন। চুন্টা বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরাইল প্রাতঃবাজারের ডিলারদ্বয় মেসার্স চাষী ঘর ও শ্রাবন্তী ট্্েরডার্স চুন্টা বাজারে আল অমিনের মতো আরো কয়েকজনকে অবৈধভাবে নিয়মিত বীজ, সার ও কীটনাশক দিয়ে যাচ্ছেন। এসব পাইকারি ব্যবসায়ীরা সুযোগে কৃষকদের সাথে রক্তচুষা ব্যবসা কওে যাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে মেসার্স শ্রাবন্তী ট্্েরডার্সের সত্বাধিকারী মনীষ কান্তি দেবনাথ জানান, আল আমিন আমার পুরাতন পাইকার। তার লেনদেন ভাল। তাই তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি মাত্র। মেসার্স চাষী ঘর-এর সত্বাধিকারী মেহেদি হাসান পলাশ জানান, আল আমিনকে আমি দীর্ঘ দিন যাবত চিনি ও জানি। সে আমার পাইকার নয়, মনীষের পাইকার। তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পারিনি।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply