কুমিল্লায় শতকোটি টাকামূল্যমানের লিজের জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণের পায়তারা

কুমিল্লা সংবাদদাতা :
কুমিল্লা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড় এলাকায় সিনেমা হল ও হোটেলের নামে লিজ নেয়া জায়গায় শর্ত লংঘন করে বহুতল ভবন নির্মানের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। স্থানীয় প্রশাসন শর্ত লংঘন করে বহুতল ভবন নির্মানের বিরুদ্ধে মতামত প্রদান করলেও মন্ত্রনালয় সহ বিভিন্ন স্থানে তদবির অব্যাহত রেখেছে। শতকোটি টাকা মূল্যমানের এ সম্পত্তিকে ঘিরে চলছে ব্যাপক তোলপাড়। এ নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় কয়েকাটি পত্রিকায় সংবাদও প্রকাশিত হয়। সম্প্রতি মন্ত্রনালয় থেকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।

এদিকে নগরীর প্রানকেন্দ্রে ৬৩শতক ভূমিতে লিজের জায়গায় বহুতল ভবন নির্মানের সাইনবোড লাগানোর পর থেকেই এনিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিনোদন সংকটের নগরী কুমিল্লা শহরের লির্বাটি ও রূপকথা সিনেমা হল বন্ধের পর আরও দুটি সিনেমা হল বন্ধের খবরে চলচিত্র প্রযোজক সমিতি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও আদর্শ সদরউপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়- ১৯৬৩ সালে কুমিল্লা মহানগরীর কান্দিরপাড় এলাকায় ২৪২ নং ছোট মৌজার ২৬৯ এস.এ খতিয়ানভুক্ত ১২৯৮, ১২৯৯, ১২৯৬, ১৩০০ দাগের ৬৩ শতাংশ সরকারী ভূমিতে সিনেমা হল ও হোটেল নির্মাণের জন্য মেসার্স দেলোয়ার থিয়েটার এন্ড এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বন্দোবস্তের আবেদন করেন। নগরবাসীর বিনোদনের বিষয়টি বিবেচনা করে সেখানে শুধু মাত্র হল ও হোটেল করার শর্তে ১৯৬৫ সালে ১৯৯৬ সালে ২য় ভবনের ৩য় তলায় চালু করা হয দীপালি নামের আরেকটি সিনেমা হল। ওই ভবনের ২য় তলায় রয়েছে উত্তরা ব্যাংকের শাখা, নীচতলায় রয়েছে হোটেল ডায়না, হলের সামনে ও পাশে ফুজি কালার ল্যাবসহ ২৮টি ঘুড়ি, ষ্টুডিও এবং অন্যান্য দোকান রয়েছে। যার ভাড়াও নিচ্ছে লিজ গ্রহীতা কর্তৃপক্ষ কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় শত কোটি টাকার ওই সম্পত্তিতে সরকারের অনুমতি না নিয়েই সেখানে বহুলতল বিশিষ্ট বাণিজ্যিক, আবাসিক ও সিনেমা হল তৈরী করতে ঢাকার হাউজিং কোম্পানী রূপায়নের সাথে চুক্তিবদ্ধ করে সিনেমা হলের সামনে টানিয়ে দেয়া হয় ডিজিটাল ব্যানার। দীপিকা সিনেমা হলের সামনে টানিয়ে দেয়া ব্যানারে উল্লেখ রয়েছে রূপায়ন-দেলোয়ার টাওয়ার। কিন্তু মূল্যবান ওই জমি সরকার কর্তৃক বন্দোবস্ত সম্পত্তি হওয়ায় বিষয়টি গড়ায় কুমিল্লা প্রশাসন পর্যন্ত। চলতি বছরের গত ১৫ জুন ওই স্থানে বহুলতল বাণিজ্যিক, আবাসিক ও নতুন সিনেমা হলের জন্য অনুমতি চেয়ে মেসার্স দেলোয়ার থিয়েটার এন্ড এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার অহিদুর রহমান কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করেন। আবেদন পেয়ে বিস্মিত জেলা প্রশাসন তৎপর হয়ে উঠে। খুজে বের করা হয় ১৯৬৫ সালে মাত্র একটি সিনেমা হলের জন্য শহরের প্রায় কেন্দ্রে এক প্রতিষ্ঠানের নামে ৬৩ শতাংশ সরকারী সম্পত্তি দেয়ার আলোচিত ফাইলটি। বিষয়টি তদন্তের জন্য চলতি বছরের গত ২৯ জুন কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আদর্শ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আসাদুজ্জামানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। গত ১১ জুলাই তিনি তার লিখিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন ‘যেহেতু উক্ত ভূমি সরকার থেকে শুধু মাত্র সিনেমা হল ও হোটেল নির্মাণের জন্য বরাদ্ধ দেয়া হয়েছিল, তাই শর্ত মোতাবেক সেখানে বাণিজ্যিক কিংবা আবাসিক ভবন তৈরীর সুযোগ নেই।

Check Also

কুসিক নির্বাচন সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করার দাবি বিএনপির

সৌরভ মাহমুদ হারুন :– কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার ...

Leave a Reply