সরাইলে প্রাথমিক শিক্ষার দৈন্যদশা :জয়ধরকান্দি প্রাইমারি স্কুলে অরাজকতা

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল :

ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের জয়ধরকান্দি পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে অরাজকতা। এলাকাটি প্রত্যন্ত অঞ্চল, তাই স্থানীয় শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিরা বিদ্যালয়টির তেমন খোঁজ-খবর নেন না। বিদ্যালয়ে চলছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি। নিয়মিত উড়ানো হয় না জাতীয় পতাকা, নেই জাতীয় সঙ্গীত। আইনের বাধা-নিষেধ থাকলেও সহকারী শিক্ষিকা শিউলী বেগম তার ইচ্ছে মত শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাত করেন নিয়মিত। তিনি বেত হিসেবে ব্যবহার করছেন গাছের শক্ত ডাল। বেত্রাঘাতের ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে ক্লাশে শিক্ষার্থী হাজিরার হার শতকরা ১০ ভাগ। বিদ্যালয়টিতে স্যানিটেশন কার্যক্রম কাগজে থাকলেও বাস্তবে এর কিছুই নেই। বিদ্যালয় ভবনের ছাদ এলাকার কিছু লোক দখল করে নিয়েছেন। এসব অভিযোগ স্থানীয় লোকজন, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফখরুজ্জামান তৃতীয় শ্রেণীর মাত্র ছয়জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান দিচ্ছেন। পাশের কক্ষে চতুর্থ শ্রেণীর ১৩ জন শিক্ষার্থীর ক্লাশ নিচ্ছেন সহকারী শিক্ষিকা শিউলী বেগম। তার হাতে থাকা গাছের ডালের বেত শিক্ষার্থীদের সামনে নাড়িয়ে যাচ্ছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে বেতগুলোর একাংশ ভেঙ্গে ফেলেছেন। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে শিক্ষিকা হতবিহল হয়ে পড়েন। আরেকটি কক্ষে ৫ম শ্রেণীর সাতজন শিক্ষার্থী বেঞ্চের উপর দিয়ে লাফালাফি করছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৩ শতাধিক। বর্তমানে ক্লাশ নিচ্ছেন মাত্র দুইজন শিক্ষক। একজন শিক্ষিকা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবকসহ শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয়ে জাতীয় সঙ্গীত হয় না। জাতীয় পতাকা উড়ে না। অ্যাসেম্বলীও হয় না। বেত্রাঘাত নিয়মিত বিষয়। দুইটি টয়লেটের মধ্যে একটি সবসময় তালাবদ্ধ থাকে। টয়লেটে যাওয়ার পথে মল-আর্বজনার স্তুপ। অথচ এই বিদ্যালয়ে স্যানিটেশন কার্যক্রমের কর্মসূচি রয়েছে। বিদ্যালয়ের ছাদ দখল করে শুকানো হচ্ছে ধান, শুটকী, হাড়ি-পাতিল ও গোবরের লাকড়ি। চারিদিকে র্দুগন্ধ ছড়াচ্ছে। শতকরা ৮৫ ভাগ উপস্থিতির শর্তে উপবৃত্তি প্রদানের নিয়ম থাকলেও, উপস্থিতির হার মাত্র ১০ ভাগ। এ অবস্থায় ১শ’ ৬৪ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছেন। বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণী কক্ষে দেখা যায়, অন্যান্য মালামালের সাথে অযতেœ-অবহেলায় পড়ে রয়েছে জাতীয় পতাকাটি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফখরুজ্জামান শিক্ষক সঙ্কটের কথা জানিয়ে বলেন, শ্রেণী কক্ষে বেতের ব্যবহার বেআইনি। তবে জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত ও স্যানিটেশনের বিষয়ে তিনি সদুত্তোর দিতে পারেন নি।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সভাপতি ও পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মোজাম্মেল হক বলেন, বিষয়গুলো আমার জানা ছিল না। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিব। সরাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মমতা কর্মকার বলেন, বিদ্যালয়ে নিয়মিত অ্যাসেম্বলী ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করা বিধি সম্মত নয়। বেত্রাঘাত কেন ? বেত দেখিয়েও শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানো যাবে না। সকল বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিব।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply