ঢাকা-চট্রগ্রাম রেলপথ কুমিল্লার ৮৫ কিলোমিটার অংশই ঝুঁকিপূর্ণ

সিরাজুল ইসলাম চৌধূরী,কুমিল্লা :

ঢাকা-চট্রগ্রাম রেলপথের কুমিল্লার ৮৫ কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্লীপ ও পাথর চুরি করায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে রেলপথ। এতে যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ রেল দূর্ঘটনা।

সরেজমিন ঘুরে রেলওয়ে ও বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, দেশের প্রধান ব্যস্ততম ঢাকা-চট্রগ্রাম রেলপথ। এই রেলপথের ৮৫ কিলোমিটার অংশ রয়েছে কুমিল্লার উপর দিয়ে। জেলার উত্তরে সালদা নদীর দক্ষিন অংশ থেকে দক্ষিনে গুনবতী পর্যন্ত এর বিস্তৃতি। প্রতিদিন এই রেলপথে ঢাকা-চট্রগ্রাম ছাড়াও সিলেট, ময়মনসিংহ নোয়াখালী,চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্নস্থানে যাত্রীবাহী, কন্টেইনারও মালবাহী কমপক্ষে ২৬ টি রেল চলাচল করে। সরেজমিনে ঘুরে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, অপরাধীরা অর্থের মোহে প্রতিদিনই দেশের এই প্রধান ব্যস্ততম রেলপথ থেকে পাথর ও রেলপথের সাথে স্লীপারের সংযুক্তের ক্লীপ দেদারছে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে রেলপথ। সূত্র জানায়, বাজারে প্রতিকেজি পাথর ৫০ টাকা এবং লোহা ৪০ টাকা কেজি ধরে অপরাধীরা বিক্রি করে থাকে। বাজারের ব্যাগভর্তি করে রেলপথ থেকে প্রতিদিনই অপরাধীরা পাথর নিয়ে যাচ্ছে। একই ভাবে রাতের আধারে রেলপথের সাথে স্লীপারের সংযুক্তির লোহার ক্লীপও ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে খুলে নিয়ে যাচ্ছে বিক্রির জন্য। সরেজমিন ঘুরে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার শাসনগাছা এলাকায় কথা হয় স্থানীয় ব্যবসায়ী হুমায়ন, আবাদ ও সেলিমের সাথে তারা বলেন, প্রতিদিন শত শত যুবকসহ বিভিন্ন বয়সীলোক এখানে আসে মাদক সেবনের জন্য। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ দরিদ্র শ্রেনীর। তারা রাতের আধাঁরে রেল লাইনের পাশে বসে প্রায়শই রেল পথের স্লিপারের সাথে সংযুক্ত ক্লিপ ও পাথর নিয়ে নগরীর ষ্টেশন রোড ও চকবাজার এলাকায় বিক্রি করে। এছাড়া সদর রসুলপুর, বানাসুয়া, মুড়াপাড়া, শাসনগাছা, আশোকতলা, গুনপুর, সদর জাঙ্গালিয়া, পদুয়ার বাজার, শ্রীনিবাস, বিজয়পুর, লালমাই, আলীশ্বর, লাকসাম, নাওটি, নাঙ্গলকোট, হাসানপুরসহ বেশ কিছুস্থানে প্রতিদিন রেলপথ থেকে ক্লীপ ও পাথর চুরি হচ্ছে। রেলওয়ের কুমিল্লা ষ্টেশনের সহকারী প্রকৌশলী শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী বলেন, লালমাই রেলওয়ে ষ্টেশনের উত্তর অংশের রেল পথের অধিকাংশ স্লিপারের সাথে ক্লীপ নেই। আমাদের পক্ষে প্রতিদিন সেটা পর্যবেক্ষণ সম্ভব না। ফলে দিন দিন ব্যস্ততম এই রেল পথ পাথর ও ক্লীপ শূন্য হয়ে পড়ছে। রেলপথের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে বাড়ছে ঢাকা-চট্রগ্রাম রেলপথ। এই ব্যপারে কুমিল্লা রেলওয়ের প্রকৌশলী (ওয়ে) হামিদুল হক বলেন, আমাদের লোকবলের অভাবের কারনে রেলপথের নজরদারী বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দিনদিন রেল পথে ঝুঁকি বাড়ছে। মালমাল ও জনবল চাহিদাপত্র উর্ধ্বতন কর্তৃপকোষর কাছে পাঠানো হয়েছে। সেটা পূরণ হলে নজরদারী বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply