মুরাদনগরে প্রভাবশালী চক্র কর্তৃক বরদেশ্বরী মন্দির দখলের পাঁয়তারা

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :

মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল গ্রামের জরাজীর্ণ ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী মন্দির।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল গ্রামের একটি প্রভাবশালী চক্র ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী মন্দির দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। চক্রটি মন্দির দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন যাবত হুমকি-ধমকী, মামলা দিয়ে হয়রানী, অবশেষে মন্দিরের বর্তমান সেবায়েত ও তত্ত্বাবধায়ক পবিত্র কুমার চক্রবর্তীদের উপর আক্রমন চালায়। এ ব্যাপারে মামলা করায় ক্ষীপ্ত হয়ে ওই চক্রটি পাল্টা মামলা দিয়ে মন্দিরের সেবায়েতগণকে হয়রানী করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মন্দিরের সেবায়েতগণ বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্যে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সরেজমিন এলাকায় গিয়ে কাগজপত্র পর্যালোচনাকালে জানা যায়, আনুমানিক পঞ্চদশ শতাব্দীতে কীর্তিবাস ব্রক্ষচারী নামে একজন মহর্ষি ঐতিহ্যবাহী শ্রীকাইল শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। বিগত প্রায় ৫শ’ বছর যাবত কীর্তিবাস ব্রক্ষচারীর উত্তরসূরীগণ বর্তমানে ১৪তম ওয়ারিশ হিসেবে শ্রীকাইল গ্রামের মৃত হরিপদ চক্রবর্তীর ছেলে পবিত্র কুমার চক্রবর্তী, নিরাঞ্জন চক্রবর্তী ও প্রবীর কুমার চক্রবর্তী বংশ পরম্পরায় বরদেশ্বরী মন্দিরে সম্পূর্ন নিজস্ব ব্যয়ে পূজা অর্চনা ও তত্ত্বাবধান করে আসছেন। পবিত্র কুমার চক্রবর্তী ২০০৯ সালে ব্যাংকের চাকুরী থেকে অবসর হয়ে জরাজীর্ণ মন্দিরটি সংস্কারের উদ্যোগ নিলে একটি কুচক্রী মহল মন্দিরের জায়গা আত্মসাতের আখ্যা দিয়ে বাধাঁ সৃষ্টি করে। এ সময় পবিত্র কুমার চক্রবর্তীদের পৈত্রিক সম্পত্তিকে মন্দিরের সম্পত্তি হিসেবে অপব্যাখ্যা দিয়ে এলাকায় নানাহ অপপ্রচার চালিয়ে সেবায়েতগণের সুনাম ক্ষুন্ন করার অপপ্রয়াস চালায়। অথচ বি-এস খতিয়ান মতে দেখা যায় উক্ত মন্দিরের নামে শ্বশান ও ডোবাসহ ২৪ শতক সম্পত্তি রয়েছে। বর্তমান সেবায়েতদের মন্দির থেকে উৎখাত করার জন্য বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধমকী দিয়ে এলাকার বিশ্বজিৎ সরকারের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী মহল মন্দিরটি তাদের নিয়ন্ত্রনে নেয়াসহ সম্পত্তি দখলের চক্রান্ত শুরু করে। তাদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে পবিত্র কুমার চক্রবর্তী মুরাদনগর থানায় বিশ্বজিৎ সরকারসহ ১০/১১ জনের বিরুদ্ধে পর পর ৩টি জিডি করেন (যার নং যথাক্রমে ৯১৬, ৪২৩, ৭৯১, তাং যথাক্রমে ২৬/১২/০৯ইং, ১১/১১/১০ইং, ২১/০৩/১১ইং)।

এদিকে সজল চন্দ্র কর বাদী হয়ে মন্দিরের জায়গা দখলের অভিযোগ এনে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিট্টেট আদালতে একটি পিটিশন মামলা করেন (যার নং পিআর ১০৮৯/১১, তাং ১২/০৭/১১ইং। উক্ত অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ওসি মুরাদনগরকে নির্দেশ দিলে এস আই দেবাশীষ চন্দ্র দত্ত ঘটনাটি মিথ্যা বলে গত ১৬/০৮/১১ইং আদালতে প্রতিবেদন পাঠান। এরই মধ্যে সজল চন্দ্র কর কুমিল্লার যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে আরেকটি দেওয়ানী মামলা করেন (যার নং ১০২/১১, তাং ১৪/০৮/১১ইং)। বাধ্য হয়ে পবিত্র কুমার চক্রবর্তী কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিট্টেট আদালতে ১৪৫ ধারার একটি পিটিশন মামলা করেন (যার নং ১৪০৭/১১, তাং ২৬/০৯/১১ইং)। শত হুমকি-ধমকী ও দু’টি মামলা দিয়ে মন্দির দখলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ওই মহলটি পবিত্র কুমার চক্রবর্তীকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সে মতে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে গত ১৭ অক্টোবর বিকেলে ঠান্ডা মাথায় আক্রমন চালিয়ে পবিত্র কুমার চক্রবর্তী ও বিঞ্চু কুমার দত্ত আহত করে।

এ ঘটনায় মূর্তি ভাংচুর, লুটপাট ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনাসহ অন্যান্য অভিযোগ এনে পবিত্র কুমার চক্রবর্তী বাদী হয়ে বিশ্বজিৎ সরকারসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মুরাদনগর থানায় একটি মামলা করেন (যার নং ৩২/৩৩৫, তাং ১৮/১০/১১ইং)। উক্ত মামলায় আসামীরা জামিনে এসে আরো বেপরোয়া ও ক্ষীপ্ত হয়ে উঠে এবং মামলা তুলে নিতে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। অন্যথায় তাদের পরিনতি আরো খারাপ হবে বলে বাদী ও সাক্ষী পক্ষের লোকজনকে বিভিন্নরকম ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। ঘটনা শুধু এখানেই শেষ নয়, উক্ত মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্যে বিজয় শংকর দেব বাদী হয়ে ২৫ জনকে আসামী করে মুরাদনগর থানায় একটি পাল্টা মামলা করেন (যার নং ৩৫/৩৩৮, তাং ২০/১০/১১ইং।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ সরকার জানান, ব্যক্তিগত ভাবে আমার বিরুদ্ধে মন্দির দখলের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা’ সঠিক নয়। গ্রামের হিন্দু সম্প্্রদায়কে নিয়ে মন্দিরটি ঠাকুর পরিবারের হাত থেকে উদ্ধার করার জন্য সহযোগিতা করছি। কারণ, তারা কৌশল করে মন্দিরের সম্পত্তি ব্যক্তি নামে রেকর্ড করে ফেলেছে।

Check Also

করিমপুর মাদরাসায় বোখারী শরীফের খতম ও দোয়া

মো. হাবিবুর রহমান :– কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার করিমপুর জামিয়া দারুল উলূম মুহিউস্ সুন্নাহ মাদরাসায় ১৪৪০ ...

Leave a Reply