চড়া দামে বিক্রির জন্য সরাইলে সরকারী বীজের অবৈধ মজুদ

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া) ॥
সরাইলে অধিক মুনাফার লোভে সরকারী বিএডিসি’র ধান বীজ অবৈধভাবে মজুদ করে চলেছেন অনুমোদনবিহীন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার চুন্টা বাজারের কথিত ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তারের পুত্র আল আমিন বিএডিসি’র সিলযুক্ত প্রায় দুইশতাধিক ধানের বীজ মজুদ করেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এলাকাবাসী জানান, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দফতরকে ফাঁকি দিয়ে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই কোনো কাগজপত্র ছাড়াই আল আমিন দীর্ঘ দিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দফতরে আল আমিনের মজুদ রাখা দুই শতাধিক বস্তা বীজের কোনো কাগজপত্র বা রেকর্ড নেয়। মজুদ রাখা বীজ বৈধ হতে পারে না বলে জানিয়েছেন সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবুল খায়ের।

উপজেলা কৃষি দফতর সূত্রে জানা যায়, কেবলমাত্র বিএডিসি’র নিয়োগকৃত ডিলাররা ধানের বীজ উত্তোলন ও বিক্রি করতে পারবেন। অন্য কেউ নয়। বীজ উত্তোলনের পর এগুলোর মান ও পরিমাণ নিশ্চিত করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তার দফতর থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বীজ কৃষকদের কাছে বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু কথিত ব্যবসায়ী আল আমিন এই নিয়মের ধারে কাছেও নেই। স্থানীয় লোকজন জানান, আল আমিন চড়া দামে কৃষকদের কাছে এসব বীজ বিক্রি করে থাকেন। চুন্টা বাজারে নাম ও সাইনবোর্ড বিহীন একটি সেলুন দোকানে লোকচক্ষুর আড়ালে সরকারী বীজ মজুদ করে চলেছে। কিছু প্রভাবশালী লোকজন আল আমিনের এই অবৈধ ব্যবসায় মদদ দিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী আল আমিন বলেন, আমি বিএডিসি’র প্রায় দুই শতাধিক বস্তা ধানের বীজ ভৈরব থেকে ক্রয় করেছি। এগুলো কার কাছ থেকে ক্রয় করেছি সেটা বলা যাবে না। এই বীজগুলোর কোন কাগজপত্র আমার কাছে নেই।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে আল আমিন এই বীজ কোন ডিলারের কাছ থেকে গোপনে ক্রয় করেছেন। এটা তার বৈধ পন্থা নয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মসীহুর রহমান বলেন, কাগজপত্র বিহীন বীজগুলো আল আমিন বিক্রি করতে পারে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়াত মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম বলেন, বীজ অবৈধ মজুদের বিষয়টি জেনে কৃষি কর্মকর্তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply