সরাইলে পীরের মেলায় যাত্রার নামে নগ্ন নৃত্য ও জুয়া

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া) ॥

সরাইলে চির কুমার জীবিত এক পীরের বাড়ীতে মেলার নামে রাতব্যাপী চলে মেয়েদের নগ্ন নৃত্য ও জুয়া। এলাকার দুই সহস্্রাধিক উঠতি বয়সের যুবক-যুবতী ও স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা তা উপভোগ করে। থানা থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে উপজেলার রসুলপুর গ্রামে কিছু সমাজপতির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত তিন দিনের আপত্তিজনক এ আয়োজনে প্রশাসনের কোন অনুমতি ছিল না।

সরেজমিনে জানা যায়, রসুলপুর গ্রামের নুর মোহাম্মদ। নিয়মিত নামাজ পড়েন না। তার কোনো এলেম শিক্ষা নেই। মুখে নেই দাঁড়ি, মাথায় নেই টুপি। ইসলামী কোন লেবাস তার মধ্যে নেই। তিনি নিয়মিত ধুমপান করেন। তবুও তিনি নিজেকে পীর দাবি করে আসছেন। বয়স পঞ্চাশের কোটা পার হলেও তিনি চির কুমার। তার রয়েছে নারী-পুরুষ মিলে অনেক শিষ্য। ৪০ বছর যাবত তার বাড়িতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পীরের মেলা। শিষ্যরা তিন দিনের মেলায় গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ও নগদ টাকা নিয়ে এখানে আসেন। মেলায় চলে রাতভর মহিলা-পুরুষের সমন্বয়ে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে হরেক রকমের নাচ ও গান। এ নাচ গানে অংশ নেন ওই এলাকার এলেম শিক্ষা ও দাঁড়ি টুপি বিহীন কথিত কিছু পীর। অর্ধশতাধিক দোকানপাটে চলে বিক্রির ধুম। পাশেই চলে দেদারছে জুয়া। মেলা কমিটির কতিপয় লোকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে জুয়াড়িরা আসরের অনুমতি নেয়। থানাপুলিশকে দেয় মোটা অঙ্কের টাকা। এছাড়াও প্রশাসনের বিভিন্ন স্থরে টাকা দিয়েই তারা চালায় জুয়া। এমনি জানিয়েছেন জুয়া পরিচালনাকারী মো. এনা মিয়া। মেলার শেষ দিনে গত শনিবার রাতে আয়োজন করা হয় যাত্রার। যাত্রার প্যান্ডেলে জ্জ জন যুবতী মেয়ে রাতভর চালায় নগ্ন নৃত্য। অত্যন্ত আপত্তিজনক পোশাক পড়ে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থান খোলা মেলা প্রদর্শন করে নেচে যায় তারা। নাচের সময় যৌন উত্তেজনামূলক অঙ্গভঙ্গিও প্রর্দশন করে। এসময় দুই সহস্রাধিক দর্শকের সাথে নগ্ন নৃত্য মন খুলে উপভোগ করছিলেন কথিত পীর নুর মোহাম্মদ, বকুল শাহ সহ কয়েকজন। যাত্রার পাশে বিশেষ শর্তে সরাইল উপজেলার জুয়ার সম্রাট আউয়াল মিয়ার নেতৃত্বে চলে জুয়ার আসর। মেলায় আগত লোকজন জানান, যাত্রা এবং জুয়া পরিচালনা করার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য ফিরু মিয়ার নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছে। ওই কমিটিই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রসুলপুর গ্রামের ষাট বছর বয়সের এক বৃদ্ধ বলেন, নুর মোহাম্মদ বাংলা পড়েনি। নামাজ পড়তেও দেখিনি। ন্যাংটা মেয়ের নাচ ও জুয়া খেলা দিয়ে বেহেস্ত পাওয়া যাবে ? রসুলপুর গ্রামের আরেক পীর নাম বকুল শাহ। নামাজ রোজার ধারে কাছেও নেই। বিয়েও করেনি। সারাদিন মহিলাদের নিয়ে আরাম আয়েশ করে। তিনিও পীর। আবার বছরে ওরশও করে থাকে। কিছু সর্দার-মাতাব্বর এসব পীরদের মদদ দিয়ে থাকেন।

এ ব্যাপারে কথিত পীর নুর মোহাম্মদ জানান, আমার প্রশাসন লাগে না। এলাকার কিছু সাহেব সর্দার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন। আমি জুয়া খেলতে বলিনি। তারা জোর দেখিয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করে মেলায় জুয়া বসায়। আমি ভয়ে কিছু বলি না। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, পুলিশকে ম্যানেজ করার বিষয়টি মিথ্যা। মেলায় যাত্রার বিষয়ে তারা থানা থেকে কোন অনুমতি নেয়নি। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম শাহেদুল ইসলাম জানান, আমাদেরকে এ বিষয়ে কেউ কিছুই জানায়নি। জুয়ার খবর পেয়ে পুলিশকে একাধিকবার বলেও কোন সুফল পায়নি। ইউপি সদস্য ফিরু মিয়া বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply