আজ (রোববার) থেকে ভারতীয় গাড়িতেই করিডোরের পণ্য যাবে ত্রিপুরায়

আরিফুল ইসলাম সুমন, আখাউড়া স্থলবন্দর থেকে ফিরে :

বিনা শুল্কের নিয়মিত করিডোরের প্রথম চালানের ১৫৭ টন পণ্য আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে বাংলাদেশের গাড়িতে করে গত বুধবার সরাসরি ত্রিপুরায় নিয়ে যাওয়ার একদিন পর পরিবহন আইনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রথম চালানের দ্বিতীয় দফা বাংলাদেশী দুই গাড়ি ভর্তি ৩৫ টন মাল নিয়ে সরাসরি ভারতের ত্রিপুরায় যাওয়ার কথা থাকলেও মালবোঝাই গাড়িগুলোকে বন্দরে আটকে দেয়া হয়। আখাউড়া স্থলবন্দর কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশ কাষ্টমস ট্্রানজিট পণ্য পরিবহন আইনের পরিবর্তন আনায় বৃহস্পতিবার মাল ভারতের ত্রিপুরায় যায়নি। এই আইনের বাধার ফলে এখন থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর ইয়ার্ডে লোড-আনলোড হয়ে ভারতীয় গাড়িতে মাল যাবে ত্রিপুরায়। ভারতীয় বন্দর শ্রমিকের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে শুক্র ও শনিবার দুই দিন স্থলবন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রাখার ঘোষণা করা হয়েছে। আজ (রোববার) নতুন আইনে ভারতীয় গাড়িতে করে মাল যাবে ত্রিপুরায়।

বন্দরসূত্রে জানা যায়, স্থানীয় মেসার্স প্রিতম এন্টারপ্রাইজ নামে সিএন্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে বুধবার বিকাল সোয়া ৪টা থেকে পূর্ণাঙ্গ করিডোর প্রক্রিয়া চালু হয়। ২৬ লাখ ৫হাজার ১২৮টাকার ব্যাংক গ্যারান্টিযুক্ত এই মালের শিপিং এজেন্ট ইন্দো-বাংলা শিপিং লাইন লিঃ। নিয়মিত করিডোরের প্রথমদিনে বিনা শুল্কে ১৫৭ টন মাল গেছে ভারতে। করিডোরের প্রথম চালানে কাচা লোহজাতীয় বার যাচ্ছে ত্রিপুরায়। এই মাল কোলকাতার বর্ধমান থেকে খরিদ করেছে ত্রিপুরা ইস্পাত লিমিটেড।

আখাউড়া স্থলবন্দর কাষ্টমস কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র কুন্ডু জানান, ট্রানজিট পণ্য পরিবহন আইনের পরিবর্তন হওয়ায় স্থানীয় লোড-আনলোড শ্রমিকরা লাভমান হবে। এনবিআরের নির্দেশ না থাকায় সম্পূর্ণ শুল্কমুক্তভাবে মাল যাচ্ছে ভারতে। রোববার থেকে পণ্যের শুল্ক ছাড়া অন্যান্য মাশুল আদায় হবে।

স্থলবন্দর কর্মকর্তা হামিদুল হক হামিদ জানান, পরিবহন আইনের পরিবর্তনে সরকার ট্্রানজিট পণ্য থেকে শুল্ক না পেলেও প্রবেশ ফি, ইয়ার্ড ও পাকিং চার্জসহ অন্যান্য মাশুল পাবে। বুধবার প্রথমদিনের মতো মাল গেলে সরকার এখান থেকে কিছুই পেত না।

এদিকে কোন মাশুল ছাড়াই ভারতকে নিয়মিত করিডোর দেয়ায় এলাকায় বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আখাউড়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন জানান, দেশের প্রায় সকল সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে তিস্তার পানি পায়নি। তাই ভারতকে বাংলাদেশ ট্্রানজিট সুবিধা দেয়নি। তিস্তার পানি না পেয়ে দেশের জনগণকে ফাঁকি দিয়ে মহাজোট সরকার ঠিকই ভারতকে করিডোর সবিধা দিয়েছে। এতে কোনো ফি বা শুল্ক নেয়া হচ্ছে না। ভারতীয় টাকায় বন্দর ও রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কালভার্টের উন্নয়ন করার কথা থাকলেও, তা হয়নি। এদেশের বুক চিরে কোনস্বার্থে ভারতকে করিডোর দেয়া হল জনগণ এখন তা জানতে চাই।

আখাউড়া আ’লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ বোরহান উদ্দিন জানান, ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে মাল ভারতে যাচ্ছে। ট্্রানজিট প্রক্রিয়া চালুতে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন ঘটছে। লোড-আনলোড ও পরিবহন কার্যক্রমে স্থানীয় মানুষ লাভমান হচ্ছে।

আখাউড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক মো. নজরুল ইসলাম ধনু জানান, এলাকার অবকাঠামোর কোনো উন্নয়ন না করেই সরকার হঠাৎ করে ট্্রানজিট প্রক্রিয়া চালু করেছেন। এতে স্থানীয় লোকজনের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তিস্তার পানি না পেয়ে কিসের স্বার্থে ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দিয়েছে তা সরকারই ভালো জানেন।

আখাউড়া স্থলবন্দর আমদানী রফতানী কারক অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মো. সফিকুল ইসলাম জানান, সম্পূর্ণ রফতানী নির্ভর এই স্থলবন্দর দিয়ে ২০১০-২০১১ অর্থবছরে রফতানি খাতে ৩১০ কোটি টাকা আয় হয়েছে। ট্্রানজিটে আমাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু এই রফতানি পন্য ট্্রানজিট প্রক্রিয়ায় ভারতে চলে গেলে এখানকার ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি এখানকার ৪৫টি রফতানী পণ্য ট্্রানজিটের বাইরে রাখার দাবী জানান।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply