নিয়মিত ট্রানজিটেও কোনো শুল্ক নেই :মালামাল যাচ্ছে ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি নৌ প্রটোকলের আওতায়

আরিফুল ইসলাম সুমন, আশুগঞ্জ বন্দর থেকে ফিরে :

কোনো শুল্ক নির্ধারণ ছাড়াই নিয়মিত ট্্রানজিট শুরু করা হয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের ত্রিপুরার ইস্পাত কোম্পানির ১৫৭ টন লৌহজাতীয় পণ্য নৌ প্রটোকলের সুবিধা নিয়ে নিয়মিত ট্্রানজিটের প্রথম চালান আখাউড়ার স্থলবন্দর দিয়ে আগরতলায় যায়। একাধিকসূত্রে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের পক্ষে শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের পক্ষে ইন্দিরা গান্ধীর চুক্তি স্বাক্ষরিত নৌ প্রটোকলের আওতায় দেশের আশুগঞ্জ নৌবন্দর পর্যন্ত আড়াইশ’ কিলোমিটার নৌপথে এবং আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার সড়কপথে বহুমাত্রিক পরিবহন ব্যবস্থায় ট্্রানজিট দেয়া হয়েছে। এর ফলে কোনো মাশুল আরোপ করতে পারেনি শুল্ক বিভাগ। তবে গত বছরের জানুয়ারীতে দিল্লীতে অনুষ্ঠিত দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে নৌ প্রটোকলটি সংশোধনের ঘোষণা হয়। পরে এপ্রিল মাসের দিকে নৌ প্রটোকলটির বেশক’টি ধারায় সংশোধনী আনা হয়। ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ বন্দরকে ট্্রান্সশিপমেন্ট কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা হয়। সাম্প্রতিক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সভায় ফি বা মাসুলের বিনিময়ে ভারতকে নিয়মিত ট্রানজিট দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও এনবিআরকে যৌথভাবে সভা করে এই ট্্রানজিট ফি নির্ধারণের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা এখনো ফি নির্ধারণ করতে পারেন নি। এই বিষয়ে কোন সভা-ই হয়নি। নৌ প্রটোকল চুক্তি সংশোধনের পর মহাজোট সরকার জনসম্মূখে কোন ঘোষণা ছাড়াই বিনা শুল্কে ভারতকে ট্্রানজিট সুবিধা দেন। এদেশের বুক চিরে ভারত এক রাজ্যের পণ্য অন্য রাজ্যে নেয়া শুরু করে দিয়েছে। পরীক্ষামূলক ট্্রানজিটের নামে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে হাজার হাজার টন পণ্য নেয়া হচ্ছে।

আশুগঞ্জ নৌবন্দরসূত্রে জানা গেছে, ১ সেপ্টেম্বর পরীক্ষামূলক ট্্রানজিটের প্রথম চালানের ৩০৫ টন পণ্য নিয়ে ভারতীয় জাহাজ এমভি হুমি ভাভা, ২৯ সেপ্টেম্বর এমভি নীলকন্ঠ নামে একটি জাহাজ ৬২১ টন আয়রন সিট নিয়ে এবং ৩ অক্টোবর প্রায় ৯০০ টন গ্যালভানাইজিং ষ্টিল শিট নিয়ে এমভি গালফ-৪ আশুগঞ্জ নৌবন্দরে পৌঁছে। অন্যান্য জাহাজের পণ্য খালাস করা হয়েছে। বর্তমানে বন্দরে এমভি নীলকন্ঠ জাহাজের পণ্য খালাস চলছে। তবে নীলকন্ঠ জাহাজের পণ্যের গায়ে পরীক্ষামূলক লেখা নেই। স্থানীয় শুল্ক বিভাগসূত্রে জানা যায়, এমভি নীলকন্ঠ জাহাজের পণ্য ত্রিপুরায় যাবে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে। যেহেতু এখন পর্যন্ত ট্্রানজিট পণ্যের শুল্ক নির্ধারণ হয়নি। পরে নির্ধারণ করা হলে যাতে সেটা আদায় করা যায় সেজন্যেই ব্যাংক জামানতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থলবন্দরসূত্র জানায়, ১৯৭২ সালের চুক্তি অনুযায়ী আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়ক ও বন্দর ব্যবহার করে ট্রানজিটের আওতায় এ মাল ভারতে যাচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক এইসব পণ্য থেকে কোন ট্্রানজিট ফি কিংবা শুল্ক আদায়ের নির্দেশনা না থাকার কারণে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্তভাবেই পণ্য ভারতে চলে গেছে। স্থলবন্দর কর্মকর্তা হামিদুল হক হামিদ জানান, পণ্যের পাকিং, ইয়ার্ড চার্জ ও প্রবেশ ফি আদায় করা হয়েছে।

আখাউড়া স্থলবন্দর কাস্টমস কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র কুন্ডু জানান, ট্্রানজিট পণ্যের শুল্ক ছাড়া অন্যান্য মাশুল আদায় করা হচ্ছে।

এদিকে পরীক্ষামূলক চালানের সব পণ্য ভারতে পরিবহনের আগেই আনুষ্ঠানিক শুরু হলো নিয়মিত ট্্রানজিট। সড়কপথ পরীক্ষা করতে দু’টি পরীক্ষামূলক চালান আগরতলায় যাওয়ার কথা ছিল। পরে সড়কের অবস্থা যাচাই করে নিয়মিত ট্্রানজিট শুরুর বিষয়টি চূড়ান্ত করার কথা। পরীক্ষামূলক চালানের প্রায় ৪৬৬ টন লৌহজাতীয় পণ্য এখনো আখাউড়া স্থলবন্দরে পড়ে রয়েছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর পরীক্ষামূলক চালানের পরিবহন কার্যক্রম আশুগঞ্জ বন্দর থেকে শুরু হয়। কোনো স্বার্থ বা মাশুল ছাড়া এই ট্রানজিট নিয়ে নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply