নাঙ্গলকোট উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতির ক্ষমতার দাপট !

জামাল উদ্দিন স্বপন:
নাঙ্গলকোটের হাফানিয়া ফয়জুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ নিয়োগে উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি, মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ছাদেক হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে জাল জালিয়াতিন মাধ্যমে অধ্যক্ষ পদে আমদুয়ার মাদ্রাসার আবরী প্রভাষক মাওলানা নেছার উদ্দিন কে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে জানা যায়-গত ২৩ জুলাই প্রশ্ন পত্র ফাঁসের মাধ্যমে বাছাই কমিটি ইন্টারভিউ নেয়। বাছাই কমিটির সদস্য উক্ত মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতাও সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা কলিমুল্লার প্রবল বিরোধীতা করলে ম্যানেজিং কমিটি উক্ত নিয়োগ স্থগিত করে। হঠাৎ রহস্যজনক কারণে সভাপতি অধ্যাপক ছাদেক হোসেন ভূঁইয়া বাছাই কমিটির সুপারিশ ম্যানেজিং কমিটিতে অনুমোদন না করিয়ে সরকারী বিধি লঙ্গন করে কমিটির কোন সদস্যের সাথে আলোচনা না করে নিজের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বসে অধ্যক্ষ পদে মাওলানা নেছার উদ্দিন কে নিয়োগ পত্র দিয়েছেন। গত বুধবার মাওলানা নেছার উদ্দিন অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেছেন। তাকে নিয়ে ম্যানেজিং কমিটি প্রতিষ্ঠাতা, দাতা সদস্যসহ অন্যান্য সমদ্যরা অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রী ও জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

উক্ত নেতার আরো কিছু দূর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হল: নিজ গ্রাম বেতাগাঁও এ বিআরডিবির কৃষক সমিতি দেখিয়ে সেচ কাজের জন্য ২০/২৫ জন সদস্যের ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৫শত টাকা ঋণ নিয়ে সরকার প্রদত্ত আরো ৯/১০ লাখ টাকা সুবিধা নিয়ে গভীর নলকূপ স্থাপন করে। সদস্যদের ঋণ পরিশোধ না করে উক্ত গভীর ডিপ টিউবয়েল উত্তোলন করে মেশিন পত্র বিক্রি করে দিয়ে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে।

হাছান মোমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের নকলের জন্মদাতা অধ্যাপক ছাদেক হোসেন ভূঁইয়া নকল ব্যবসা করে কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। বর্তমানে নকলের সুযোগ নাই বলে পাশের হার ১০% নেমে আসে। উল্লেখ্য ৯০ এর দশকে উক্ত কলেজ থেকে প্রতি বছর ৩ হতে ৪ হাজার ছাত্র-ছাত্রী এইচ এস সি পরীক্ষা দিয়েছে। এ নেতা কলেজের পিছনে ডা: কামরুজ্জামানের ভাগিনা সাহাব উদ্দিনের জায়গা দখল করে ত্রিতল মনোরমা ভবন নির্মান করেছে। পরবর্তীতে শালীশের মাধ্যমে তাকে ৩ লাখ টাকা দেয়ার কথা থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ৯০ হাজার টাকা দিয়ে বাকী টাকা দেয় নি। নাঙ্গলকোট উপজেলা গোডাউন এর সিন্ডিকেটের প্রধান হোতা গত আড়াই বছরে সিন্ডিকেট থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। নিজ গ্রামে বেঁতাগাও গ্রামের বঙ্গবন্ধু পরিষদ, শেখ রাশেল স্মৃতি সংসদ, ঈদগাও নামে বেনামে সংগঠনের নামে সিন্ডিকেট থেকেও লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় এবং টি আর কাবিখার প্রায় ৫০ টন চাউল গম বরাদ্দ নিয়ে কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করেছে।

এ নেতা বান্নঘর গ্রামের হাফিজ ডুবাইতে সড়ক দূর্ঘটনায় দুটি চোখ অন্ধ হলে বাবুলের মাধ্যমে আসা ৮/৯ লাখ টাকা হাফিজ কে না দিয়ে আত্মসাৎ করেছে। আরেক আ‘লীগ নেতা খোরশেদ থেকে হাওলাত বাবত ১০ লাখ টাকা নেয় সে উক্ত টাকা চাইতে গেলে তাকে সন্ত্রাসী মামলা দিয়ে দুই মাস জেল খাটায় এবং তার টাকা আত্মসাৎ করে। দুর্ধর্ষ এ নেতা গোত্রশাল গ্রামের এনামুল হক গোমকট গ্রামের নুরুল হকের নিকট ৩ লাখ টাকা পায় উক্ত টাকা ছাদেক হোসেন ভূঁইয়া মিডিয়া করে আত্মসাৎ করার পায়তারা চালাচ্ছে।

অধ্যাপক ছাদেক হোসেন উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারিং অফিসে বড় বড় কাজে এম, পি সাহেবের নাম ভাঙিয়ে ব্লক দিয়ে নিজের নামে নিয়ে যায়। সম্প্রতি মাদ্রা-নারানদিয়া রাস্তা ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার সংস্কার কাজ খুবই নিম্ন মানের করে। কাজ শেষ হওয়ার ১ মাসের মধ্যে রাস্তা চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। এ নেতা এত টাকার লোভী যে নিজের স্ত্রীকে নাঙ্গলকোট মডেল মহিলা কলেজে ডেমোনেষ্ট্রেটর প্রদর্শক নিয়োগ দিয়ে চাকুরী না করেও প্রতি মাসে সরকারী টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে।

বর্তমানে এনেতা প্রভাব খাটিয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ দখল করে নেয়। বিগত ২০ বছর পর কর্তৃপক্ষ একজন ভাইস প্রিন্সিপাল নিয়োগ দিলেও তিনি দায়িত্ব বুঝে না পাওয়ায় ঠিকমত কাজ করতে পারছেন না। মানসিক চাপে রেখে বিদায় করতে যাচ্ছেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply