বাঞ্ছারামপুরে সংখ্যালঘু ও সরকারি জমি দখল করে নেতার মার্কেট নির্মাণ

লিটন চৌধুরী.ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ –
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পূর্বহাটি গ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি ও সরকারের খাস জমি দখল করে মার্কেট, প্রস্তাবিত সিএনজি ও অটোবাইক স্টেশন নির্মাণ করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল মিয়া। দখলকৃত জমির আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। বিএনপি নেতার এ কাজে স্থানীয় আরেক প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো.আব্দুল আজিজ সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জমি দখলের পর থেকে দখলদাররা জমির মালিককে নানাভাবে হুমকি ধামকি ও প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এ অবস্থায় জমি হারিয়ে চরম আতংকে দিন কাটাচ্ছেন জমির মালিক মনোরঞ্জন গোস্বামী ও তার পরিবার পরিজন।

দখল হওয়া জমি উদ্ধারের ব্যাপারে মনোরঞ্জন গোস্বামী গত ১৬ অক্টোবর বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.রাহেদ হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়নের পূর্বহাটি মৌজার ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত ১৮৮১ দাগের ৪ শতাংশ,১৮৮২ দাগের পুকুরপাড়ের ৫ শতাংশ খাস জমি এবং ১৮৮২ দাগেরই মনোরঞ্জন গোস্বামী ৩৭ শতাংশ জমি দখল শেষে খাস খতিয়ানভুক্ত ৯ শতাংশ জায়গা ভরাট করে প্রায় তিনমাস পূর্বে পূর্বহাটি গ্রামের হাজী সমন্দর আলীর চার ছেলে হুমায়ুন মিয়া,সরোয়ার্দি মিয়া,জয়নাল মিয়া ও আল আমিন মিয়া। তারা বর্তমানে খাস জমিতে একটি দোচালা ঘর নির্মাণ এবং ফাউন্ডেশন দিয়ে স্থায়ী ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৭ সালে পূর্বহাটি গ্রামের মনোরঞ্জন গোস্বামী বড় ভাই নিরঞ্জন গোস্বামী কাছ থেকে দখলদার জয়নাল গংদের পিতা সমন্দর আলী ৮৪নং দাগে ৩৭ শতাংশ জায়গা কৌশলে ক্রয়সূত্রে দলিল করেছেন বলে জানা যায়। কিন্তু জয়নাল গংদের নজর পড়ে ১৮৮২নং দাগের বাঞ্ছারামপুর-মুরাদনগর সড়কের পাশে মনোরঞ্জন গোস্বামী অতি মূল্যবান ৩৭ শতাংশ জমি উপর।

তারা ওই জমিসহ পাশের সরকারি খাস খতিয়ানের ৯ শতাংশ জমিতে মাটি ভরাট করেন। ভরাটকৃত সেই জমিতে ‘পূর্বহাটি গাবতলী বাজার’ নাম দিয়ে দখলদাররা একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়।

এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এব্যাপারে দখলদার জয়নাল মিয়া বলেন,-‘আমরা কারো মালিকানাধীন জায়গা দখল করিনি।হয়তোবা একটু খাস জমি আমাদের মার্কেটে থাকতে পারে। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, কেউ পারলে প্রমাণ করুক যে অবৈধভাবে কারো জায়গা দখল করেছি।’

এদিকে অপর এক দখলকারী হুমায়ুন মিয়া বলেন,-‘আমরা ১৯৮৭ সালে মনোরঞ্জনের ভাই নিরঞ্জনের কাছ থেকে ৩৭ শতাংশ জমি দলিল করে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছি। এখন আমাদের যেদিক দিয়া ভাল লাগবে,সেই দিক দিয়াই আমরা দখল কইরা নিমু।’

অপরদিকে জমির মালিক মনোরঞ্জন গোস্বামী বলেন,-‘আমার বড় নিরঞ্জন গোস্বামী কাছ থেকে ১৯৮৭ সালের দিকে দখলদারদের বাবা অর্ধেক জমি কিনেছে বলে এতবছর পরে শুনতে পারলাম। কিন্তু বর্তমানে সড়কের পাশে আমার ভোগদখল করা এককোটিরও বেশি টাকা মূল্যের জমিসহ সরকারি খাস জমি দখল করে তারা মার্কেট বানাইয়া ফেলছে। এখন দখলদাররা উল্টা আমারে হুমকি ধামকি দেয়।’

এব্যাপারে জানতে চাইলে ফরদাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম জিলানী বলেন,-‘জয়নালরা সম্পূর্ণ পেশীশক্তির বলে মনোরঞ্জন গোস্বামী এককোটি টাকারও বেশি জমিসহ সরকারি জায়গা ভরাট করে সম্পূর্ণ অবৈধ ও অন্যায়ভাবে মার্কেট নির্মাণ করছে। তাদের এ কাজে সহযোগিতা করছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় একজন নেতা। তিনি বলেন, এই সব দখল একসময় দখলদারদের জন্যই কাল হয়ে দাড়াবে।

এদিকে ফরদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল আজিজ বলেন,-‘জয়নালদের মার্কেটের জায়গায় একটি পুলিশ ফাড়ি স্থাপন করার ইচ্ছা আমার আছে। তবে যদি জয়নালরা অবৈধভাবে দখল করে থাকে তাহলে আমি আর কোন পশ্রয় দিব না।’

এব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর ভূমি অফিসের কানুনগো ম্রাগ্য মারমা বলেন,-‘জয়নাল গংরা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত ৯ শতাংশ জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের কাজ করছিল। আমি সরেজমিন গিয়ে ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ করে এসেছি। খুব শিঘ্রই উচ্ছেদের নোটিশ করব।’

অপরদিকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো.রাহেদ হোসেন বলেন,-‘পূর্বহাটি গ্রামের ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং খাস খতিয়ান ভুক্ত জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের বিষয়ে তার কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা পড়েছে। এপ্রেক্ষিতে আমি কানুনগোকে সরেজমিন অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলেছি।’

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply