গান্ধী পিস অ্যাওয়ার্ড অর্জনকারী কবি আলী আশরাফ খানের সাক্ষাৎকার

কবি আলী আশরাফ খানের সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন মমিনুল ইসলাম মোল্লা

কবি আলী আশরাফ খান
সামাজিক অবক্ষয় রোধে ভিন্নধর্মী কলাম লেখার জন্য কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গর্ব বিশিষ্ট কবি, কলামিস্ট ও সংগঠক মো. আলী আশরাফ খান ‘গান্ধী পিস এ্যাওয়ার্ড-গান্ধী শান্তি পুরস্কার-’১১অর্জন করলেন। ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঢাকার শিল্পকলা একাডেমীর সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে মহাত্মা গান্ধী গবেষণা পরিষদ কবি মো. আলী আশরাফ খানের যৌতুক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, পরকীয়া ও মাদকসহ যাবতীয় সামাজিক অবক্ষয় রোধকল্পে বিশেষ কলাম লেখার স্বীকৃতি স্বরূপ-এ গুরুত্বপূর্ণ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর হাত থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ গ্রহণ করেন।এছাড়া তিনি দৈনিক নয়াদিগন্ত প্রিয়জন সেরা কবি-‘০৭ ওয়াজউদ্দিন ফাউন্ডেশন বিশেষ সম্মাননা-‘০৯ঢাকার সেভেনটি ওয়ান মাল্টিমিডিয়া কর্তক সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘মাতৃভাষা স্মৃতি পদক’-‘১০ ঢাকার খ্যতনামা সংগঠন-শ্যামল ছায়া ফাউন্ডেশন কর্তৃক সফল সংগঠক হিসেবে‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পদক-‘১১ মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা গবেষণা ফাউন্ডেশন ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত পরিষদ কর্তৃক বহুমুখী সাহিত্যে অবদান রাখায় ‘অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক-‘১১ সামাজিক অবক্ষয় রোধকল্পে কলাম লেখায় বিশেষ অবদানের জন্য-মাদার তেরেসা গোল্ড মেডেল-’১১সেভ দ্য চিল্ডেন ও উদ্দীপন-এর যৌথ উদ্যোগে (শিশুবান্ধব লেখালেখির জন্য) সংবর্ধনা ও বিশেষ সম্মাননা-’১১সহ বহু পুরস্কার লাভ করেছেন।

১. কি কি বিষয় নিয়ে লিখেন ?

ধর্মীয় বিষয়, যৌতুক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং-যৌনসন্ত্রাস, পরকীয়া, মাদক, শিক্ষা, পর্যটন-পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও তরুণদের স্বপ্ন-উৎসাহ প্রদানসহ যাবতীয় সামাজিক অবক্ষয় রোধকল্পে নানামুখী লেখা।

২. কেন লিখেন ?

সামাজিক জীব হিসেবে দায়িত্ব ও কর্তৃব্যের খাতিরে এবং সমাজকে কিছু দেয়ার জন্য।

৩. কেউ প্রশংসা করলে কেমন লাগে ?

মাঝে মধ্যে ভালই লাগে কিন্তু কখনো কখনো বিরক্ত লাগে।

৪. কে প্রেরণা দেয়? অনেকেই।

উল্লেখযোগ্য-আমার স্ত্রী ও ‘সৃষ্টি’ সংগঠনের সভাপতি মোঃ শাহ আলম।

৫. বিরোধিতা করেন কে ?

কেউ কেউ করেন কিন্তু তাতে কি আসে যায়?

৬. প্রথম প্রকাশিত লেখাও অভিব্যক্তি বর্ননা করুন।

প্রথম কবিতা ছাপা হয় সম্ভবত ২০০০ সালে ঢা.বি-এর কন্ঠস্বর পত্রিকায় এবং বই সংক্্রান্ত একটি লেখা ছাপা হয় দৈনিক আজকের কাগজ পত্রিকায়। ভালো লেগেছে খুব ভাল-যেমন নতুন সন্তানের জনক হওয়ার মতো।

৭. লিখে উপার্জন করেন কি? কেন নয় ?

উপার্জন মুখ্য নয়, সমাজ কিছু পেলেই স্বার্থক মনে হয়। তারপরেও কিছু টাকা আয় হয়।

৮. লিখার ক্ষেত্রে ব্যাবসায়িক মনোভাব থাকলে দোষ কী ?

দোষের তেমন কিছু নেই। তবে নিজেকে কেমন যেন অসহায় মনে হয়।

৯. কেউ সমালোচনা করলে সেটি কিভাবে নেন ?

সমালোচনা থাকবেই। কিন্তু সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সমালোচনা করার মতো যোগ্যতা থাকা আবশ্যক। যেমন আমিও গঠনমূলক সমালোচনা লেখার জন্য একটি পুরস্কারও অর্জন করেছি।

১০. মানবতাবাদ ও সমাজ উন্নয়নে আপনার ভুমিকা কী ?

আসলে এযাবৎ এসব বিষয়ে কতটা করতে পেরেছি, জানি না। তবে উল্লেখযোগ্য তেমন কিছু করতে পেরেছি বলে মনে হয় না। সামনের দিনগুলোয় ভালো কিছু কাজ করে মরতে পারলেই নিজেকে স্বার্থক মনে করবো।

১১. আপনার লেখায় প্রেমের প্রসঙ্গটি কিভাবে এসেছে?

প্রেম অতি পবিত্র একটি বিষয়। প্রেম সকল মানুষের সঙ্গেই মানুষের হয়। হওয়া উচিৎ। যা স্রষ্টার নৈকট্য লাভের সিঁড়ি বলে আমি মনে করি।

১২. মোট লিখার (ধরণ অনুযায়ী পৃথকভাবে ) বিবরণ দিন ।

কবিতা, ছড়া, অনুউপন্যাস, গল্প-অনুগল্প, নিবন্ধ, প্রবন্ধ, বিষয়ভিত্তিক কলাম ও প্রতিবেদন।

১৩. স্মরণীয় লিখা কোনটি ?

এ যাবৎ অসংখ্য লেখা লেখেছি। সব লেখাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে মনে রাখার মতো কোনো লেখা এপর্যন্ত লিখতে পেরেছি বলে মনে হয় না।

১৪. পুরস্কার নিয়ে আপনার ভাবনা কী ?

প্রথমে মনে করতাম, যে কোনো বিষয়ে পুরস্কার স্রষ্টাই দেবেন। পরে ভাবলাম, পার্থিব জীবনে পুরস্কার পেলে অন্যরাও ভালো কাজে উৎসাহী হয়। সুতরাং পুরস্কার দেওয়া ও নেওয়া ভালো কাজেরই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ বলে মনে করি।

১৫. যা বলতে চেয়েছেন বলা হয়েছে কী ?

মানুষ সব সময়ই অনুসন্ধানে উৎসাহী। তাছাড়া বলার ক্ষেত্রে তো আরো বেশি বেশি। মানুষের বলার বা শোনার শেষ নেই।

১৬. আপনি কী মনে করেন নতুনদের সুযোগ/অনুপ্রেরণা দেয়া উচিৎ ? কেন ?

অবশ্যই। নতুনরা সুযোগ পেলে আমাদের চেয়ে ভালো করবে-এটা হলফ করে বলতে পারি। নতুনদের মেধা ও চিন্তাশক্তি আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। তাদেরকে অনুপ্রেরণা ও সুযোগ করে দেওয়া আমাদেরই দায়িত্ব ও কর্তৃবের একটি অংশ। কারণ সমাজ বিনির্মাণে তরুণরাই সব সময় অগ্রণী ভূমিকা রাখে। এ ক্ষেত্রে তরুণদের সুযোগ দিলে সামগ্রীকভাবে সমাজ দ্রুত উন্নতির দিকে অগ্রসর হবে-তা আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি।

১৭.লিখার হাতে খড়ি কিভাবে ? কখন ?

ছোটকালে আমার রক্ত আমাশয় হয়েছিল। আমি তখন ক্লাশ থ্রি-ফোর-এ পড়ি। এ সমস্যায় প্রায় দ্’ুমাস আমাকে ঘরে বসে থাকতে হয়। তখন খাতা-কলমের সঙ্গে আমার সখ্য গড়ে ওঠে। একদিন একজন ডাক্তার এসে আমার লেখাগুলো দেখে বেশ প্রশংসা করলেন। যদিও ছোটকাল থেকেই কবিতা লিখতে ভালো লাগতো। ডাক্তরের কথায় আরো বেশি উৎসাহ পেলাম।

১৮.লিখার ক্ষেত্রে আপনার গুরু বা আদর্শ কে কেন ?

ছোটকালে ডাঃ লুৎফর রহমানের বই পড়তাম। পাশাপাশি নজরুল, রবীন্দ্র ও ডেলকার্নিগীর লেখা বইও। তবে ডাঃ লুৎফর রহমানের লেখাগুলো আমাকে বেশি প্রেরণা দিত। মূলতঃ তিনিই আমার গুরু বা আদর্শ।

১৯. লিখার ক্ষেত্রে আপনার প্রধান সমস্যা বা বাধা কী ? কিভাবে সমাধানের চেষ্টা করেন ?

শত বাধাকেও বাধা মনে হয় না এখন। ইচ্ছাশক্তিটাই এখানে আসল। হাজারো প্রতিকূলতার মধ্যেই একজন মানুষ ইচ্ছে করলে ভালো কিছু করতে পারে।

২০ .“ আমার সাহিত্যকর্ম আমার স্ত্রী ও সন্তানদের বঞ্চনার ফসল” মন্তব্য করুন।

আমি মনে করি, আমার সাহিত্য চর্চার কারণে আমার পরিবার অর্থনীতিভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কিন্তু নিঃসন্দেহে তারা আমার কারণে সম্মানও ও লাভ করেছে। সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সৃষ্টিশীল কাজের জন্য একসময় নিজে যেমন উপকৃত হওয়া যায় তেমনি পরিবারও উপকৃত হয়। এখানে বঞ্চনার কিছু আছে বলে মনে হয় না।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply