আশুগঞ্জ নৌবন্দরে খালাস করা হচ্ছে সর্বশেষ জাহাজের যন্ত্রাংশ: পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাড়ে ৩ হাজান টন ভারি যন্ত্রাংশ পরিবহনের অপেক্ষায় ॥ত্রিপুরায় পৌছেছে ৫ হাজার টন

লিটন চৌধুরী.ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ –
ভারতের কলকাতা ক্ষিদিরপুর নৌবন্দর থেকে পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভারি যন্ত্রাংশ নিয়ে আসা ২৭টি জাহাজের মধ্যে ২৬টি জাহাজের মালামাল আশুগঞ্জ নৌবন্দরে খালাস সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে খালাস হচ্ছে সর্বশেষ জাহাজ ওয়াটার কিং এর ভারী যন্ত্রাংশ। উপজেলার সোনারামপুর ডিপু থেকে গত ৫ মাসে প্রায় ৫ হাজার টন ভারি যন্ত্রাংশ ১৩০ চাকার টেইলর দিয়ে আখাউড়া সীমান্ত পথে ত্রিপুরায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখনো পরিবহনের অপেক্ষায় রয়েছে সাড়ে ৩ হাজার টন ভারী যন্ত্রাংশ।চুক্তি অনুযায়ী চলতি অর্থ বছরের জুন মাসের মধ্যে বাকী যন্ত্রাংশ ত্রিপুরার আগরতলায় পৌছানোর কথা রয়েছে।
এদিকে পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ দেশের আড়াই শত কিলোমিটার নৌপথ ও ৬০ কিলোমিটার সড়ক পথ ব্যবহার করে ত্রিপুরা নিয়ে যাওয়া ক্ষেত্রে কোন শুল্ক বা চার্জ কিছুই নেয়া হয়নি। অথচ এসব ভারী যন্ত্রাংশ নেয়ায় আশুগঞ্জ-আখাউড়া ৬০ কিলোমিটার সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এই সড়কের ১৫টি সেতু।এমতাবস্থায় ডাইভারসন সড়ক সংস্কার না করেই ঝুকিপূর্ন সেতুর উপর দিয়েই পূনারায় ভারী যন্ত্রাংশ নেয়া শুরু করেছে। এসব বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মাঝে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ।
সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়,ত্রিপুরার পালাটানায় নির্মানাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভারী যন্ত্রাংশ নিয়ে প্রথম জাহাজ এমভি আল সামি গত ৮ মার্চ আশুগঞ্জ নৌবন্দর পৌছে।উৎসব মুখর পরিবেশে গত ২৭ মার্চ মধ্য রাতে জেলা প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তা ও রাজস্ব কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পুলিশ প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উপজেলার সোনারামপুর ডিপু থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভারী যন্ত্রাংশ নিয়ে ১৩০ চাকার প্রথম টেইলর ত্রিপুরার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এই ভারি যন্ত্রাংশসহ টেইলর গুলো আখাউড়া সীমান্ত পথ দিয়ে ত্রিপুরার আগরতলার পালাটানায় যায়। এসব ভারী যন্ত্রাংশ পরিবহন করার ঠিকাদারের দায়িত্ব পালন করছেন এদেশের গালফ ওরিয়েন্ট ও ভারতের এবিসি কোম্পানী। এর আগে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভারি যন্ত্রাংশ আগরতলা নেয়ার জন্য প্রায় ৬০ কিলোমিটার আশুগঞ্জ-আখাউড়া সড়ক চলাচলের উপযোগী করা হয়।তাদের নিজস্ব তত্বাবধান ও অর্থায়নে এই মহা সড়কের সংস্কার কাজ করা হয়। এসময় ঝুকিপূর্ণ ১৫টি সেতুর পাশ দিয়ে নির্মান করা হয় ডাইভারসন সড়ক । এদিকে দেশের একটি গুরত্ব পূর্ন স্থাপনা আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটি ব্যবহার করে এর ভিতর দিয়ে বেশ কয়েকটি ভারী যন্ত্রাংশ নেয়া হয়েছে।এমভি ওয়াটার কিং নামে একটি জাহাজ মাল খালাসের জন্য বেশ কিছুদিন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে নোঙ্গর করে রাখা হয়েছে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিতর দিয়ে যন্ত্রাংশ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।কিভাবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিতর দিয়ে এসব যন্ত্রাংশ নেয়া হচ্ছে এই নিয়ে সর্ব মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোঃ আব্বাস উদ্দিন আহম্মেদ জানান উর্ধতন কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ক্রমেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটি ও ক্যারেন ব্যবহার করে ভিতর দিয়ে ভারী যন্ত্রাংশ নেয়া হচ্ছে।বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে প্রতি ঘন্টা হিসাবে চার্জ নেয়া হচ্ছে।
বিআইডাবিওটিএ‘র আশুগঞ্জ ট্রাফিক পরিদর্শক মোঃ শাহ আলম জানান ভারতীয় ক্ষিদিরপর নৌবন্দর থেকে পালাটানায় নির্মানাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভারী যন্ত্রাংশ নিয়ে ইতোমধ্যে সবক‘টি জাহাজই আশুগঞ্জ নৌ বন্দরে এসেছে । গত ৭ মাসে ২৭টি জাহাজের মধ্যে ২৬টি জাহাজের ভারী যন্ত্রাংশ খালাস করে আশুগঞ্জ উপজেলার সোনারামপুর এলাকায় এবিসি কোম্পানীর নিজস্ব ৩টি ডিপুতে রাখা হয়েছে।বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ৯০টি কন্টিনারে আনা ভারী যন্ত্রাংশের ওজন প্রায় সাড়ে ৮ হাজার টন।এসব যন্ত্রাংশ আনার ক্ষেত্রে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিদের্শ মোতাবেক কোন বার্দিং চার্জ বা এন্টি ফি নেয়া হয়নি।এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গালফ ্ওরিয়েন্ট কোম্পানীর স্থানীয় কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান জানান ৯০টি কন্টিনারের মধ্যে ৪৭টি কন্টিনার আগরতলায় পাঠানো হয়েছে।বাকী ৪৩টি কন্টিনার পাঠানোর পক্রিয়া চলছে। বর্ষার পানিতে ডাইভারসন সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় এখন কন্টিনার খুলে মডিউটর গুলো ্ একাধীক টেইলরে ডাইভারসন ব্যবহার না করেই নেয়া শুরু হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, আশুগঞ্জ-আখাউড়া সড়কের ব্রিজ ও কালভার্টের পাশ দিয়ে ডাইভারশন এবং সুলতানপুর-চিনাইর আখাউড়া সড়ক প্রশস্ত করার কাজ করেই ১৩০ টেইলর দিয়ে ভারী যন্ত্রাংশ নেয়া হচ্ছে। যে কারনে সড়কের ওপর তেমন কোন চাপ পড়বেনা। তবে ব্রীজের ওপর একসঙ্গে পুরো গাড়ির চাপ পড়বে বলে ডাইভারশন নির্মাণ করা হয়েছে ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল ইসলাম জানান. মালামাল পরীক্ষা করে কাগজ পত্র অনুযায়ী সব মালামাল ঠিক পাওয়া গেছে। মালামাল গুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি ৭০ টন ্ওজনের মডিউটর ওয়াটার টিউব বয়লার,প্রতিটি ৭৫টন ওজনের রি-এ্যাক্টর ট্যাংক ও উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রানসফরমার রয়েছে। কাষ্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেই মালামাল খালাস করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।তবে এসব মাল থেকে কোন শুল্ক নেয়া হচ্ছে না।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply