মহাজোট নেতার তদবীরে সড়ক দূর্ঘটনার ঘটনায় থানায় গনধর্ষন মামলা আশুগঞ্জে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ৫ দরীদ্র সিএনজি চালক

লিটন চৌধুরী.ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ-
পূর্ব শুত্রতার জের ধরে প্রতি পক্ষকে ফাসাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে এক সড়ক দূর্ঘটনার ঘটনায় থানায় করেছে গনধর্ষন মামলা। পালিয়ে বেড়াচ্ছে ভবানীপুর গ্রামের দরীদ্র ৫ জন সিএনজি চালক। এক মাত্র উপার্জনকারী এই ৫ যুবক পালিয়ে থাকার কারণে প্রতিটি পরিবার গত ২ মাস যাবত অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে। গনধর্ষনের ঘটনাটি মিথ্যা প্রমানিত হলেও স্থানীয় মহাজোটের শরীকদলের জৈনক নেতা ও প্রভাবশালীদের তদবীরের কারণে সঠিক পথে মামলার তদন্ত এগিয়ে নিতে পারছে না পুলিশ ।
সরেজমিনে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শিদের সাথে কথা বলে জানাযায়, গত ১৮ জুলাই সন্ধায় ভবানীপুর গ্রামের মোঃ সিরাজ মিয়ার স্ত্রী ৫ সন্তানের জননী হোসনা বেগম ও তার মেয়ে ঝিমি প্রতিবেশী রহমত আলী শান্তর সিএনজি দিয়ে আড়াইসিধা বাজার থেকে বাড়ীতে আসছিল। সিএনজিটি ভবানীপুর ব্রীজের কাছে এসে ভাঙ্গা রাস্তায় ধাক্কা খেলে হোসনা বেগম খাদে পড়ে যায়।এতে সে মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হয়।এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় যুবক মোঃ হুমায়ুন ও মোশারফ জানান তাৎক্ষণিক মোঃ সিরাজ মিয়াকে খবর দিয়ে তাকে সহ হোসনা বেগমকে একই সিএনজি দিয়ে শহরের নূর মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে আসা হয়। নূর মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডাঃ শাহান আরা বেগম তার মাথায় আঘাত প্রাপ্ত দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্থানীয় ওয়ার্ড †g¤^vi মোঃ জায়েদ মিয়া জানান ঘটনার পরদিন তিনি সদর হাসপাতালে হোসনা বেগমকে দেখতে যান এবং চিকিৎসার জন্য দেড় হাজার টাকা দিয়ে আসেন।
উক্ত ঘটনাকে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোক প্ররোচনা দিয়ে ঘটনার এক মাস পর গত ১৮ আগষ্ট হোসনা বেগমের ¯^vgx মোঃ সিরাজ মিয়া বাদী হয়ে থানায় সিএনজি চালক রহমত আলা শান্তকে প্রধান আসামীসহ একই গ্রামের অপর ৪ সিএনজি চালককে আসামী করে থানায় গণধর্ষনের মামলা রুজু করে। মামলার অভিযোগে বলা হয় গত ১৮ জুলাই হোসনা বেগম ও তার মেয়ে ঝিমি আড়াইসিধা বাজারের পরিমল ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়ী ফেরার পথে পূর্ব থেকে উৎ পেতে থাকা সিএনজি চালক রহমত আলী,বাছির মিয়া,আবু বকর,মনির মিয়া ও বাইতুলাহ তাকে রাস্তা থেকে জোড়পূর্বক সিএনজিতে উঠিয়ে নেয় এবং অজ্ঞান করে তালশহর কলেজ মাঠে নিয়ে কুপ্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হলে তাকে ব্যাপক মারপিঠ করে এবং পালাক্রমে ধর্ষন করে। পরে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে বাড়ীর পাশে ফেলে যায়।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মমিন মিয়া জানান মামলার বাদী মোঃ সিরাজ মিয়া ২টি বিয়ে করেছে। সে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর প্রথম স্ত্রী হোসনা বেগমের (ঘটনার ভিকটিম) কোন খোজ খবর রাখে না। কারো পরোচনায় বা কুপরামর্শে সড়ক দূঘর্টনার ঘটনাটি নিয়ে ধর্ষন মামলা করেছে। থানা পুলিশকে আমি এই ঘটনা সর্ম্পকে অবগত করেছি।
এ ব্যাপারে মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আক্তারুজ্জামান জানান প্রাথমিক তদন্তে গন ধর্ষনের ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। সিএনজি থেকে পড়ে আহত হওয়ার বিষয়টি স্থানীয় ইউপি নির্বাচন নিয়ে শত্রুতার জের হিসাবে পরাজিত এক প্রার্থীর প্ররোচনায় থানায় এই ধর্ষন মামলা দায়ের করেছে। থানার পরিদর্শক তদন্ত মোঃ জামসেদ আলম জানান আমি বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করেছি। অভিযোগের সাথে বক্তব্যের মিল খুজে পাওয়া যায়নি। মামলা রুজুর পর পরই ভিকটিমকে জিঞ্জাসাবাদ ও মেডিকেল করার জন্য বার বার বলা হলেও মামলার বাদী মোঃ সিরাজ মিয়া তাকে হাজির করেনি। তদন্তে ঘটনাটি মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে।বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পরবর্তি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply