সরাইলে নারী নির্যাতন মামলা নিয়ে বিব্রত পুলিশ প্রকৃত ভূক্তভোগীরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল::
ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সাম্প্রতিক সময়ে নারী নির্যাতন মামলা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রাম্য রাজনীতি, আতিপত্য বিস্তার, গোষ্ঠিগত দ্বন্দ্ব, ব্যক্তিগত কেশ ইত্যাদি কাজে প্রতিপকে ঘায়েল করার জন্য নারী নির্যাতন মামলা একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশের ধারনাও স্বচ্ছ। আইনি জটিলতার কারণে মামলা নিতে বাধ্য পুলিশ। বর্তমানে থানায় অন্যান্য মামলার চেয়ে নারী নির্যাতন ঘটনার মামলার সংখ্যাই অধিক। এসব মামলা নিয়ে এখন বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছেন পুলিশ। হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার চাপে প্রকৃত ঘটনার শিকার ভূক্তভোগীরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হরহামেশা। বর্তমানে সরাইল থানায় অনেক মামলা ফাইল বন্দি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তদন্ত চলছে ধীর গতিতে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত দুই বছর যাবত সরাইল থানায় নারী নির্যাতন মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। থানায় প্রতিমাসে গড়ে শুধু নারী নির্যাতন মামলা দায়ের হচ্ছে ২০/২৫টি। অধিক মামলার চাপে তদন্তকাজে বিঘœ ঘটছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারাও দায়সারা গোচের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে প্রেরণ করছেন। এতে প্রকৃত অনেক ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। অপরাধীরাও সহজে পার পেয়ে যাচ্ছে। একাধিকসূত্র জানায়, আগে নারী নির্যাতন ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হলে স্থানীয়ভাবে পুলিশ প্রশাসনে শুরু হতো তোলপাড়। সরেজমিনে তদন্ত করতে জেলা থেকে ছুটে আসতেন পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা। ঘটনাস্থল এলাকায় জনমনে সৃষ্টি হতো আতঙ্ক। কিন্তু বর্তমানে এর কিছুই নেই। থানা সূত্রে জানা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে সরাইল থানায় নারী নির্যাতন মামলা রুজু হয়েছে ২৩টি। চলতি মাসের ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত মামলা সংখ্যা ৬টি। স্থানীয় একাধিকসূত্রে প্রকাশ, এসব মামলা নিয়ে একশ্রেণীর টাউট-বাটপার প্রকৃতির লোকজন দেদারছে বাণিজ্য করে যাচ্ছে। এ সুযোগে পুলিশও কামিয়ে যাচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা। এসব ঘটনা নিয়ে গ্রাম্য সালিশের নামে চলছে প্রহসন। পক্ষ বিপক্ষের কাছ থেকে আদায় করা জরিমানার টাকা ভাগভাটোয়ারা করছে প্রভাবশালীরা।
এ ব্যাপারে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন থানায় অধিক নারী নির্যাতন মামলার কথা স্বীকার করে বলেন, যেকোন ঘটনায় প্রতিপকে ঘায়েল করতে নারী নির্যাতন মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে একশ্রেণীর লোক। থানায় মামলা না নিলে বাদী চলে যায় আদালতে। আদালত মামলা নিয়ে থানায় প্রেরণ করেন। কিছু কিছু মামলায় সত্যতা পাওয়া গেলেও অধিকাংশ মামলাই মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply