কচুয়ায় মাদ্রাসার নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ॥ ৪ পরীক্ষর্থী আটক

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আটককৃত ৪ শিক্ষার্থী।
কিশোর কুমার:: কচুয়া পৌরসভাধীন আল-ফাতেহা দাখিল মাদ্রাসার ১০ম শ্রেণীর কতিপয় পরীক্ষার্থী দ্বারা (দাখিল) নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করার অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পুলিশ ওই মাদ্রাসার ৪ নির্বাচনী পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে। আটককৃতরা হচ্ছে- দাউদকান্দি উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের তাহসিম, কচুয়া উপজেলার কোমরকাশা গ্রামের রাফি মোহাম্মদ, করইশ গ্রামের এনামুল হোসেন ও গোহট গ্রামের আল-রাহাদ।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়- গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আটককৃত ৪ পরীক্ষার্থী কচুয়া থানায় এসে পুলিশের নিকট অভিযোগ করে যে, আল-ফাতেহা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আঃ হাই প্রশ্ন পত্র ফাঁস করে দিয়েছে। তাদের অভিযোগের স্বপে আজ ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য কোরআন মাজীদ ও ১৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য সামাজিক বিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নের ফটোকপি পুলিশ কর্মকর্তাদের নিকট প্রদর্শন করে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সন্দেহ হলে ৪ পরীক্ষার্থীকে আটক রেখে ওই মাদ্রাসার সুপার আঃ হাই ও সহ-সুপার গোলাম মোস্তফাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে নিয়ে আসে।
এ ব্যাপারে সুপার আঃ হাই জানান- সহ-সুপার গোলাম মোস্তফা কেন্দ্র সচিব থেকে প্রশ্ন গ্রহণ করে তার হেফাজতে রাখে। কিভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে তা তিনি কিছুই জানেন না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সাথে জড়িতদের পর পর দু’দিন বেতরাঘাতসহ বিভিন্ন শাস্তি প্রদান করে তথ্য উৎঘাটনের চেষ্টা করেন। ওদেরকে শাস্তি বিধান করায় তারা উল্টো আমি প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দিয়েছি মর্মে থানা পুলিশের নিকট এসে অভিযোগ উত্থাপন করে। অপরদিকে সহ-সুপার গোলাম মোস্তফা দাবী করছেন- প্রশ্নপত্র তার বাসায় তার হেফাজতে সঠিকভাবে রতি আছে। পুলিশের নিকট দেওয়া ফটোকপির সাথে বোর্ড কর্তৃক সরবরাহকৃত প্রশ্নের হুবহু মিল রয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি আরো দাবী করেন- কচুয়ার কেন্দ্র সচিব ফখরুদ্দিনের নিকট থেকে ৯ অক্টোবর পিনআপ করা প্রশ্নের প্যাকেট যেভাবে গ্রহণ করেছেন ঠিক সেভাবেই প্রশ্নের প্যাকেট তার বাসায় রতি আছে। তিনি আরো দাবী করেন- আটককৃত পরীক্ষার্থীরা কোন ব্যক্তি বিশেষের প্ররোচনায় অন্য কোথাও থেকে এ প্রশ্ন উদ্ধার করে সুপার ও সহ-সুপারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে তাদেরকে হয়রানী করার পথ বেছে নিয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের এ ঘটনার তথ্য উৎঘাটনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপম বড়–য়াসহ পুলিশ প্রশাসন জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে কেন্দ্র সচিব ফখরুদ্দিন জানান- বোর্ড থেকে পিনআপ করা প্রশ্নপত্রের প্যাকেট সরবরাহ করা হয়। তিনি আরো জানান- ৯ অক্টোবর রাত ৮ টার দিকে জনৈক ছাত্র তাকে ফোন করে জানায় যে, কচুয়ার আল-ফাতেহা মাদ্রাসার কতিপয় পরীক্ষার্থী কচুয়া বাজারে প্রশ্নপত্র ফটোকপি করছে। তিনি তাৎণিক বিষয়টি মাদ্রাসার সুপার আঃ হাইকে জানালে তিনি কুমিল্লা রয়েছেন জানিয়ে সহ-সুপারকে বিষয়টি অবগত করার জন্য অনুরোধ করেন। প্রশ্নপত্রের ফাঁসের এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আটককৃত ৪ শিক্ষার্থী।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply