চৌদ্দগ্রামে প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ! এক ছাত্রকে কুপিয়ে আহত ॥ প্রতিবাদে নির্বাচনী পরীক্ষা বর্জন

স্টাফ রিপোর্টার:::
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের তারাশাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে পরিচালনা কমিটির একাংশের সাথে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সৃষ্ট বিরোধের ঘটনায় প্রতিপক্ষরা হামলা চালিয়ে এক মেধাবী ছাত্রকে কুপিয়ে আহত করেছে। গত দুই দিন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এঘটনার প্রতিবাদে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে। নতুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বিরোধীতাসহ ঘটনার সুষ্ঠু সুরাহার দাবীতে গতকাল সোমবার দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা নির্বাচনী পরীক্ষা বর্জন করেছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের তারাশাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য হয়। সহ-প্রধান শিক্ষক এনামুল হক মিলন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত ২০ জুলাই প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ১১ টি আবেদন জমা পড়ে। নিয়ম অনুযায়ী স্কুলের অফিস কে নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও রহস্যজনক কারণে সে পরীক্ষা গত ১৪ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কোটবাড়িস্থ ল্যাবটরী হাইস্কুলে অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় ১১ জনের মধ্যে ৫ জন অংশ নেন। এদের মধ্যে নিয়োগ কমিটি কামরুজ্জামানকে প্রথম ও এনামুল হক মিলনকে দ্বিতীয় উল্লেখ করে পরিচালনা কমিটিকে সুপারিশ করেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদনের লক্ষে গত রোববার (৯ অক্টোবর) বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষর একটি জরুরী সভা আহবান করা হয়। সভায় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম মজুমদারসহ ৩ জন কামরুজ্জামানের পক্ষে এবং অপর ৫ জন এনামুল হকের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেন। এনিয়ে দু’পক্ষের কথা কাটাকাটি ও বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়লে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম চাপ সৃষ্টি করে পুলিশের উপস্থিতিতে জোরপূর্বক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এনামুল হকের কাছ থেকে রেজুলেশান ও নোটিশ বই ছিনিয়ে নেয়। জানা গেছে, রেজুলেশান বইতে তিনজন স্বাক্ষর প্রদান করলেও অপর সদস্যদের থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায়ের চেষ্টা চলছে। এঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল করে। রোববার রাতে প্রতিপক্ষের হামলায় দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র মোকতার আহমেদ চৌধুরী ধারালো ছোরার আঘাতে আহত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে নতুন প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান কর্মস্থলে যোগ দিতে গেলে বিক্ষুদ্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা নতুন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এবং ওই ছাত্রকে আহত করার প্রতিবাদে শ্রেণী কক্ষে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। এছাড়াও দশম শ্রেণীর ১’শ ১৭ জন শিক্ষার্থী বাংলা প্রথম পত্রের নির্বাচনী পরীক্ষা বর্জন করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, সভাপতি মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করে কামরুজ্জামানকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়।
এব্যাপারে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বলেন, পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম মজুমদার চাপ সৃষ্টি করে জোরপূর্বক তার কাছ রেজুলেশান ও নোটিশ বই ছিনিয়ে নেয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটির অধিকাংশ সদস্য আমার পক্ষে থাকলেও সভাপতি তা মানতে নারাজ।
নতুন নিয়োগ প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান মোবাইল ফোনে জানান, নিয়োগ সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমি সমস্ত নিয়ম মেনেই কর্মস্থলে যোগদান করি। তবে তিনি বিক্ষোভ ও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বর্জনের বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি।
পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম মজুমদারের মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply