মনোহরগঞ্জের রাস্তাগুলোর বেহাল দশা

জামাল উদ্দিন স্বপন: কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা গঠিত হওয়ার ৭ বছর পরও রাস্তাগুলোর তেমন কোন উন্নয়ন না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ফলে উপজেলার সর্বত্রই যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। পাকা রাস্তাগুলোর কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় অসংখ্য খানা-খন্দকের সৃষ্টি হওয়ায় এলাকাবাসীকে যাতায়াতে বছরের পর বছর চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে যান চলাচলে বিঘন্ন সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিনিয়ত গঠছে দূর্ঘটনা। দূর থেকে মালামাল আনতে ব্যবসায়ীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে, বিরূপ প্রভাব পড়ছে ব্যবসা বানিজ্যে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা হাসনাবাদ-নাথেরপেটুয়া পাকা রাস্তার বেহাল দশা। কার্পেটিং উঠে ছোট বড় অনেক গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহনগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে হেলে-দূলে রাস্তাটি পার হতে হয়। এই রাস্তায় চলতে গিয়ে কয়েকটি গাড়ি ইতিমধ্যে বিকল হয়েছে। তুগুরিয়া-মুন্সিরহাট রাস্তাটি যাতায়াতের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দিনে যানবাহন চলাচল করলেও খানা খন্দকে ভরা এই রাস্তায় সন্ধার পর যানবাহনগুলোকে অধিক ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। আরেকটি প্রধান রাস্তা খিলা-মনোহরগঞ্জ রাস্তায় কার্পেটিং উঠে মাঝে মাঝে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সিকচাইল দোকানের পূর্ব পাশে রাস্তায়, তাহেরপুর মসজিদের পশ্চিম কোনায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে ও হাতিয়ামুড়ী ব্রীজের এপ্রোচটি অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বাস, সিএনজি কোনটাই চলাচল না করায় জন দুর্ভোগ চরমে। উপজেলা সদর থেকে শান্তির বাজার পর্যন্ত রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিপুলাসার-লক্ষনপুর, মনোহরগঞ্জ রাস্তাটি উপজেলা সদরের সাথে সরাসরি যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা। বিপুলাসার থেকে সাইকচাইল, বানঘর, লক্ষনপুর হয়েই বিপুলাসার ইউনিয়নের জনসাধারন উপজেলা সদরে আসার কথা, কিন্তু বিপুলাসার থেকে লক্ষনপুর পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা হওয়ায় বর্ষাকালে রাস্তার এ অংশটি সম্পূর্ন চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়ায় বিপুলাসার ইউনিয়নের জনগন ১৮ কিঃ মিঃ ঘুরে উপজেলা সদরে আসতে হয়। জনা যায়, উপজেলা সদরের সাথে এই ইউনিয়নের দুরত্ব অনেক বেশী হওয়ায় উপজেলা গঠনের পূর্বে ২০০৪ সালে ২৬ আগষ্ট প্রশাসন পূনবির্ন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি নিকার ৯০তম সভায় এ ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়েই ইউনিয়নটিকে উপজেলার অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু উপজেলা গঠনের ৭ বছরেও উল্লেখযোগ্য কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এই রাস্তায়। উপজেলা সদর থেকে জেলার সাথে যোগাযোগের একটি মাত্র মাধ্যম মনোহরগঞ্জ – লাকসাম রাস্তা। এ রাস্তায় উপজেলা সদর থেকে বেরুলেই মনোহরগঞ্জ বাজারের ভিতরে প্রধান গলিতে মূল রাস্তায় পানি নিষ্কাষনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই পানি জমে রাস্তার মাঝখানে পুকুরের মত বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় বাজারের ভিতরে ৪‘শ ফুট জায়গা পার হতে রিক্সা ভাড়া দিতে হয় ১০ টাকা। উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তারা নিয়মিত এ রাস্তায় এসেই অফিস করেন। রাস্তাটি আশিরপাড় বাজারের অংশটিতেও একই অবস্থা, গাজিরপাড় মোবাইল টাওয়ারের পাশে রাস্তার কিছু অংশ দেবে গেছে। রাস্তাটির বেশী ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম হিরুর বাড়ীর সামনে। এখানে যে কোন মূহুর্তে ঘটতে পারে দূর্ঘটনা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রামীণ রাস্তাগুলোর অবস্থা আরো ভয়াবহ। রাস্তাগুলো হচ্ছে হাটিরপাড়, চিখুটিয়া, মৈশাতুয়া, আমতলী, হাজীপুরা হয়ে ইসলামপুর রাস্তা। ঝলম (দঃ) ইউনিয়নে বচইড় বাজার থেকে যাদবপুর-লাউলহরি- দৈয়ারা- ধিকচাঁন্দা, ঝলম-ভাটগাঁও, সংযোগ রাস্তা। ঝলম (উঃ) ইউনিয়নে হাড়িয়া হোসেনপুর-দৈয়ারা বাজার সংযোগ, বড় কেশতলা-ধিকচান্দা, লালচাঁদপুর-নোয়াগাঁও, বাংলাইশ-চিখুটিয়া সংযোগ রাস্তা। লক্ষনপুর ইউনিয়নে মান্দুয়ারা, শোয়ারী-লক্ষণপুর সংযোগ রাস্তা, কান্দিরপাড় থেকে নারায়ানপুর হয়ে একতাবাজার রাস্তা। হাসনাবাদ ইউনিয়নে তালতলা-নরপাইয়া নূরাণী মাদ্রাসা রাস্তা, ছোট বাদূয়াড়া-রক্তমন্দার হাট রাস্তা, নাওতলা- নিশাচরা, কালিরহাট-বক্সগঞ্জ, আনন্দমার্কেট-কমলপুর ক্যান্সার হাসপাতাল, আশিয়াদারী ব্রীজ থেকে সাতঘরিয়া সংযোগ রাস্তা।বাইশগাঁও ইউনিয়নে বাইশগাঁও-চিলুয়া, বুরপৃষ্ট-নোয়াগাঁও, বাঘচাতাল, আতাকরা, শাকতলা-বাইশগাঁও সংযোগ রাস্তা। চড্ডা-ডাবুরিয়া রাস্তা, সরসপুর ইউনিয়নে কোম্পানী বাজার থেকে লক্ষপুর বাতাবাড়িয়া সংযোগ রাস্তা। উত্তরহাওলা ইউনিয়নে উত্তরহাওলা, হাতিমারা, কাটুনিপাড়া হয়ে উত্তর উলুপাড়া, চালতাতলা, ফেনুয়া সংযোগ রাস্তা। মুন্সিরহাট, কাটুনিপাড়া, বরল্লা, হাজরামুড়ি-উত্তরহাওলা রাস্তা। খিলা ইউনিয়নে লৎসর বেতিয়াপাড়া সংযোগ রাস্তা, কাশিপুর বাজার থেকে বেতিয়াপাড়া সংযোগ রাস্তাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দিশাবন্দে বগু রোড নামক জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি বর্ষার পানিতে ডুবে যাওয়ায় এটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। তাহেরপুর- দাড়াচোঁ, ভরনীখন্ড, কাশিপুর, সংযোগ রাস্তা। সাতেশ্বর-উল্লাপাড়া রাস্তা, বান্দুয়াইন-মুন্সিরহাট রাস্তা। নাথের পেটুয়া ইউনিয়নে ভোগই খাসের বাড়ি থেকে বিনয়ঘর সংযোগ রাস্তা। নারারপাড়-কান্দি হয়ে ভোগই রাস্তার সংযোগ। বিপুলাসার ইউনিয়নে বাকরা সাইচকাইল রাস্তা, বিপুলাসার, খারিজা- রৌদ্রপুর সংযোগ রাস্তা, বিহড়া-সাইকচাইল সংযোগ রাস্তা। উপজেলার উল্ল্যেখিত রাস্তাগুলোর বেহাল অবস্থার কারণে এ রাস্তাগুলো দিয়ে এলাকাবাসিকে প্রতিনিয়ত চরম দূর্ভোগের শিকার হতে হয়। এর সত্যতা স্কীকার করে উপজেলা প্রকৌশলী তাহাজ্জুত হোসেন জানান, জন দুর্ভোগ লাগবে গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা চিন্তা করে উপজেলার ও গ্রামীণ রাস্তা গুলো মেরামতের প্রক্রিয়া চলছে। তবে অপেক্ষাকৃত বেশী ক্ষতিগ্রস্থ রাস্থা গুলো মোরামতে অগ্রাধিকার পাবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply