কুমিল্লার মুরাদনগর ও দেবিদ্বারে অনুমোদনহীন ব্যঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে ফসলি জমিতে ইটভাটা: হুমকির সম্মুখিন পরিবেশ ! প্রশাসনের কোন দৃষ্টি নেই

ফসলী জমিতে অনুমোদনহীন ব্যঙের ছাতার মতো নতুন নতুন গড়ে উঠেছে ইটভাটা।
মোঃ ফখরুল ইসলাম সাগর,ষ্টাফরিপোর্টার দেবিদ্বার::
কুমিল্লার মুরাদনগর ও দেবিদ্বারে বেপরোয়া ভাবে গড়ে উঠছে একের পর এক অনুমোদনহীন ব্যঙের ছাতার মতো ইটভাটা। এসব ইটভাটা গিলে খাচ্ছে হাজার হাজার বিঘা উর্বর আবাদি ফসলি শষ্য জমি। প্রতিবছর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে প্রায় ৫ কোটি টাকার ফল ও ফসল। হুমকির সম্মুখিন খাদ্য নিরাপত্তা চরম বিপর্যয়ের সম্মুখিন সবুজ বৃক্ষরাজি প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র।
স্থানীয়রা জানায়, ইতিপুর্বে নতুন করে গড়ে উঠা ২৫টি ইটভাটার কবলে পরেছে প্রায় ৮শ’ বিঘা জমি। এর আগে পুরোনো ইটভাটা রয়েছে প্রায় ২৫টি। এবং এবছর আরো ২০/৩০টি নতুন করে ইটভাটা স্থাপনের কাজ বেশ জুরে সুরে এগিয়ে চলছে। ফলে এবছরেই ইটভাটা গিলে খাচ্ছে আরো প্রায় ৬/৭ শত বিঘা ফসলি জমি। যে সমস্ত জমিতে কোন প্রকার ফসল কিংবা ফল মুল হয়না মুলত সে সমস্ত অনাবাদি দেড়একর (সাড়ে চার বিঘা) জমিতে ইটভাটা স্থাপনের নিয়ম থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দপ্তরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তিন ফসলি জমিতেই গড়ে উঠছে এসব নতুন নতুন ইটভাটা। পরিবেশ আইনে ইটভাটা এলাকায় ইটের কাচামাল হিসেবে মাটি কেটে পুকুরে রূপান্তরিত করার কথা থাকলেও তা না করে এলাকার উর্বর ফসলি জমির উপরের অংশ টপ সয়েল মাটি কেটে নিয়ে ব্যাবহার করা হচ্ছে ইট ভাটায়। এর ফলে জমি তার উর্বরা শক্তি হারিয়ে পতিত অনাবাদি জমিতে পরিনত হচ্ছে। অপেক্ষাকৃত অস্বচ্ছল জমির মালিকদের নানা ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে তাদের জমি পত্তন নিয়ে করা হচ্ছে এ ধবনের সর্বনাশা কারবার। জমি পত্তন নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাবহার করা হয় এলাকার কিছু প্রভাবশালী সন্ত্রাস ও মাস্তানদের। কেউ সেচ্ছায় জমি দিতে না চাইলে বিভিন্ন কৌশলে তাদেরকে মামলা মোকদ্দমার ভয় দেখিয়ে জমি পত্তন দিতে বাধ্য করা হয়। মুরাদনগরের প্রায় প্রতিটি ইটভাটার আশপাশেই রয়েছে আবাসিক এলাকা সহ শিশুদের স্কুল ফলের বাগান ও কৃষি জমি।
ইট পুড়ানোর কালো ধোয়ায় পরিবেশ হুমকির মুখে।
গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ আইনে তিন কিলোমিটার এলাকার মধ্যে জনবসতি থাকলে ইটভাটা স্থাপন করা নিষেধ রয়েছে। অথচ সরকারের এই গুরত্বপুর্ন আইনটিকে মোটেও তোয়াক্কা করছেনা এই এলাকার ভাটা মালিকরা। বিশেষ করে কোম্পানীগঞ্জ এলাকার আশপাশে ব্যাপক হারে গড়ে উঠছে অনুমোদনহীন ইটভাটা। এই এলাকায় রয়েছে অনেক স্কুল কলেজ ও উপজেলার সবচেয়ে বড় আবাসিক এলাকাটি। অত্র এলাকার রাস্তা ঘাটে মাটির ট্রাক্টরের উৎপাতের কারনে অতিষ্ট সাধারন জনগন এবং কোম্পানী গঞ্জের যানযটের প্রদান কারন হচ্ছে এই মাটির ট্রাক্টর। জানা গেছে থানা প্রশাষন ও উপজেলা প্রশাষন সহ স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতাদের ম্যানেজ করেই ট্রাক্টর মালিকরা রুটে এই মাটির ট্রাক্টর গুলো চালায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইটভাটা মালিক জানান , এবিষয়ে তদারকির জন্য এলাকায় কোন দপ্তরের লোকজন আসে না। গত ১৫বছর ধরে ইটভাটা চালাই এপর্যন্ত সরকারী কোন দপ্তরের লোকজন খোজ খবরও নিতে আসতে দেখিনি। পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে টাকা দিলেই সব কাজ হয়ে যায়। এদিকে ইট চাই না, ভাত চাই। গোলাভরা ধান চাই-এ শ্লোগান নিয়ে ফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে মুরাদনগর এলাকার তিনটি গ্রামের লোকজন। কয়েকমাস ধরে উপজেলার যাত্রাপুর ও টনকি ইউনিয়নের যাত্রাপুর ও চৈনপুর গ্রামের বাসিন্দরা ওই দাবীতে একহয়ে প্রশাষনের কাছে কয়েকদফা স্মারক লিপি দিয়েছেন। প্রশাষনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্তেও যাত্রাপুর গ্রামের এক প্রভাবশালী এক ব্যাক্তি কৃষি জমিতে একটি ইটভাটা নিমার্ন কাজ করছেন। এলাকাবাসী জানান , চলতি বছরের মার্চ মাসে যাত্রাপুর গ্রামের সালাউদ্দিন মোচাগড়া যাত্রাপুরের মধ্যবর্তী স্থানে মেসার্স হক ব্রিকস নামে একটি ইটভাটার নির্মান কাজ শুরু করলে এলাকাবাসী ব্রিকস নির্মান কাজ বন্ধ করার জন্য উপজেলা ও জেলা প্রশাষনের কাছে আবেদন করেন। পরে প্রশাষনের লোকজন সরজমিনে তদন্তে আসলে সালাউদ্দিন ইটভাটা নির্মানের কোন অনুমতি পত্র দেখাতে পারেনি। এদিকে উপজেলার সবচেয়ে বড় ফসলি হাওর বইদ্দার বিলের আশপাশে নতুন করে কয়েকটি ইটভাটা নির্মান প্রায় শেষ পর্যায়ে , এলাবাসীর ধারনা কালের সাক্ষী এবিলটি ও রাঘব বোয়ালদের হাতে বিলিন হয়ে যেতে পারে।
এব্যাপারে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা বেগম , কুমিল্লাওয়েব কে জানান, মুরাদনগরে অবৈধ ভাবে যত ইটভাটা নির্মান হচ্ছে সকল ইটভাটা মালিকদেরকে আমরা চিঠি দিয়েছি তাদের নির্মান কাজ বন্ধ করার জন্য তার পরেও কাজ বন্ধ না করলে আইনত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আমরা অবৈধ ইটভাটা গুলোকে বন্ধ করার জন্য মোবাইল কোর্টের ব্যবস্থা করেছি।
এলাকাবাসী অবিলম্বে পরিবেশ ধ্বংষ কারী নির্মানাধীন ও বর্তমানে চালিত বৈধ অবৈধ সকল ইটভাটা অন্যত্র অকৃষি জমিতে স্থানান্তর করে খাদ্য নিরাপত্তা সহ পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে এলাকাটিকে রক্ষা করার দাবী জানান।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply