সরাইলে স্কুল ছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও চিত্র ইন্টারনেটে

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি॥
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বখাটেদের একের পর এক ব্ল্যাকমেইলের শিকার হচ্ছে স্কুল ছাত্রীরা। প্রেমের ফাঁদে ফেলে ও বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে স্কুল ছাত্রীদের আপত্তিকর ভিডিও চিত্র ধারন করে তা ইন্টারনেটে ছেড়ে দিচ্ছে বখাটেরা। এসব বিষয় নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন নড়ে চড়ে উঠেছে। গতকাল সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা সদরের হাসপাতাল মোড়ে শপার্স গ্যালারিতে অভিযান চালান। এসময় শিমুল কম্পিউটারস নামক প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটারের হার্ড ডিক্সে আপত্তিজনক ছবি পাওয়ায় তা জব্দ করেন। প্রতিষ্ঠান মালিককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অতি সম্প্রতি উপজেলার ৭/৮টি কম্পিউটারের দোকোনে অভিযান চালিয়ে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ছবি ধারণসহ বিক্রির অভিযোগে জরিমানা আদায় করেছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২ মাসের ব্যবধানে সরাইলে এই ধরনের ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছে দুই স্কুল ছাত্রী। একের পর এক বখাটে কর্তৃক বিদ্যালয়গামী ছাত্রীর সম্ভ্রমহানির ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন অভিভাবকরা। সর্বশেষ বখাটেদের ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছে উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের চুন্টা এসি একাডেমীর ৮ম শ্রেনীর এক ছাত্রী। বখাটেরা ওই ছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও চিত্র ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। ওই সব আপত্তিকর চিত্র এখন সরাইলের উঠতি বয়সের যুবকদের মোবাইলের মেমোরি কার্ডে।
এলাকাবাসী জানান, উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের জয়ধরকান্দি গ্রামের ওই ছাত্রী চুন্টা গ্রামে তার নানার বাড়িতে থেকে চুন্টা এসি একাডেমিতে পড়াশুনা করে। সে ওই বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী। তাকে স্কুলে আসা যাওয়ার পথে নানাভাবে উত্যক্ত করত চুন্টা পূর্ব পাড়ার কালন মিয়ার বখাটে পুত্র শওকত। সম্প্রতি শওকত ছাত্রীটিকে ফুঁসলিয়ে চুন্টা বাজারের একটি ষ্টুডিওতে নিয়ে তার আপত্তিকর ভিডিও চিত্র ধারন করে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনার পর থেকে স্কুল ছাত্রীর বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।এ ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে এলাকার অভিভাবকরা। স্কুল ছাত্রীর নানা সুরুজ আলী বখাটে শওকতসহ ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবী করেন।
এ ব্যাপারে চুন্টা এসি একাডেমির প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান (নান্নু) বলেন, বিষয়টি ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে বিষয়টি আমি জেনেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও চুন্টা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে অবহিত করেছেন। এ ঘটনার বিচার করা না গেলে সমাজে এসব ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
এ ব্যাপারে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়েত মোঃ শাহেদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি অবগত আছি, আপত্তিকর ভিডিওচিত্র আমাকে দেখানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়েছি। ঘটনার জন্য বখাটের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা হবে।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply