সরাইলের পল্লী অঞ্চলের ত্রাস ছাত্রলীগ ক্যাডার শফিক: এলাকায় চলছে শফিক বাহিনীর অস্ত্রের মহড়া

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের প্রত্যন্ত অঞ্চল অরুয়াইল ও পাকশিমুল ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ছাত্রলীগ ক্যাডার শফিক বাহিনীর দাপটে এখন ভীত সন্ত্রস্থ। উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শফিক ও তার বাহিনীর তাণ্ডবে ওই দুই ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ রয়েছেন আতঙ্কে। গত সোমবার দুপুরে প্রকাশ্যে অরুয়াইল বাজারের এক ব্যবসায়ীকে অপহরন করে দাঁত ও মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেয়ার পর বর্তমানে এলাকায় চলছে শফিক বাহিনীর অস্ত্রের মহড়া। সর্বত্র বিরাজ করছে আতঙ্ক। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অস্ত্রের মুখে ব্যবসায়ী জুলহাস মিয়াকে অপহরন করে ছাত্রলীগ নেতা শফিক ও তার বাহিনী। মূমূর্ষ অবস্থায় ব্যবসায়ী জুলহাস এখন হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
লোমহর্ষক এ ঘটনার প্রতিবাদে অরুয়াইল ও পাকশিমুল ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ ফুঁসে উঠেছে। গত বুধবার অরুয়াইল বাজারের ব্যবসায়ীরা অর্ধবেলা হরতাল কর্মসূচি পালন করেন। ছাত্রলীগের ক্যাডার শফিক ও তার বাহিনীর দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বুধবার বিকেলে অরুয়াইল বাজারে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। অরুয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন, পাকশিমুল ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মোজাম্মেল হক, ডা. আবু তালেব, আ’লীগ নেতা কুতুব উদ্দিন, গোপাল গোপ, নোয়াব মিয়া, হাজী আউয়াল উদ্দিন, রেহান উদ্দিন প্রমূখ। বক্তারা বলেন, ছাত্রলীগ নেতা শফিক এখন এলাকার ত্রাস। সে অরুয়াইল বাজারে এ পর্যন্ত ৩/৪টি লোমহর্ষক ঘটনার নায়ক। শফিক অস্ত্রের বাহাদুরি ও তার লালিত বাহিনীর দাপট দেখিয়ে এলাকায় সরকারী খাস ভূমিসহ স্কুল-কলেজের জায়গা দখলে নিয়েছিল। পরে প্রশাসন ও এলাকাবাসীর চাপে ওইসব জায়গা ছাড়তে বাধ্য হয়। সন্ত্রাসী শফিক অরুয়াইল বাজারের ব্যবসায়ী সজল বাবুর দোকানে অস্ত্র ঠেকিয়ে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ধরা পড়ে জেল খেটেছে। গত সোমবার ফতেহপুর গ্রামের হাজী তাহের মিয়ার পুত্র ব্যবসায়ী জুলহাসকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়েছে শফিক বাহিনী। এ ঘটনার পর থেকে শফিক ও তার বাহিনীর সদস্যরা ধামাউড়া গ্রামে ও নদীতে নৌকা নিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে গত মঙ্গলবার সন্ত্রাসী শফিককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার বাহিনীর অস্ত্রের তাণ্ডবের কাছে গ্রামবাসী ভিড়তেই পারেনি শফিকের বাড়ির সীমানায়। গ্রামবাসী সন্ত্রাসী শফিক বাহিনীকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান। আহত ব্যবসায়ী জুলহাসের বড় ভাই জিয়াউর রহমান বাদী হয়ে শফিক ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাইল থানায় মামলা দায়ের করেন।
অরুয়াইল বাজারের প্রত্যদর্শী লোকজন জানান, সোমবার দুপুরে বাজারের ‘জিয়া-১’ নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শফিকের নেতৃত্বে হামলা চালায় তার বাহিনী। মূহুর্তের মধ্যে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে ব্যবসায়ী জুলহাসকে। তার গলায় শিকল পেছিয়ে প্রকাশ্যে টেনে হিঁছড়ে নিয়ে যায় নির্জন স্থানে। এসময় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শফিক বাহিনীর তাণ্ডবে সন্ত্রস্থ হয়ে পড়ে বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা। তারা জুলহাসকে নির্জন স্থানে নিয়ে কান কেটে দেয়ার পর হাতুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে দাঁত ও মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেয়। পরে পুলিশ ও এলাকার লোকজনের সহায়তায় অজ্ঞান ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় জুলহাসকে উদ্ধার করে প্রথমে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সরেজমিনে জানা যায়, এ ঘটনায় বিচারের দাবিতে অরুয়াইল ও পাকশিমুল ইউনিয়নের জনগণ ক্ষেপে উঠেছেন। সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে ব্যবসায়ীসহ এলাকার লোকজন এখন ঐক্যবদ্ধ। অরুয়াইল বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান ও রাসেল মাহমুদ বলেন, সোমবার দুপুরে ছাত্রলীগ নেতা শফিকের নেতৃত্বে ১৪/১৫ জন সশস্ত্র যুবক ব্যবসায়ী জুলহাসকে ফিল্মি ষ্টাইলে অপহরন করে। তাদের হাতে পিস্তল, রামদা, চাপাতি ও কিরিছ ছিল। প্রথমে তারা বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। অরুয়াইল বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব ও আ’লীগ সভাপতি মফিজ মিয়া বলেন, বাজারে প্রকাশ্যে শফিক তার বাহিনী নিয়ে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ব্যবসায়ী জুলহাসকে তুলে নিয়ে প্রথমে কান কেটে দেয়। পরে হাতুড়ি দিয়ে দাঁত ও মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেয়। এ ঘটনা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। আমরা সন্ত্রাসী শফিকের বিচার দাবি করছি। এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ী জুলহাস ও তার ভাইয়েরা আমার দায়ের করা মামলার আসামি। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। আমাকে মেরে দাঁত ভেঙ্গে দিয়েছিল। সালিশের রায়ের ৫০ হাজার টাকা তারা দেয়নি। তাই আমার লোকজন পাল্টা জুলহাসের দাঁত ভেঙ্গে দিয়েছে। অস্ত্রের মহড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের সাথে লড়তে আমার অস্ত্রের প্রয়োজন নেই। আমি এলাকায়ই আছি।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, শফিকের রেকর্ড ভাল না। থানায় তার বিরুদ্ধে আরো তিনটি মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য অরুয়াইলে একজন এসআই নিয়োগ দিয়েছি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply