সরাইলে রাতভর হামলা লুটপাট ভাংচুর আহত ৫০:খোলা আকাশের নীচে সাত পরিবার

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ॥

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামে ফের হামলা-সংঘর্ষ, লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে দু’গোষ্ঠির মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং সোমবার রাতভর হামলা, লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনায় দু’দলের অন্তত ৫০ ব্যক্তি আহতসহ বাড়ি-ঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে সাতটি পরিবার গৃহহীন হয়ে বর্তমানে খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছেন। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিরা সরাইল ও জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

গতকাল দুপুরে সরেজমিন গ্রাম ঘুরে জানা যায়, দেওড়া গ্রামের কালা মিয়া ও ধন মিয়ার গোষ্ঠির মধ্যে পূর্ব শত্র“ুতার জের ধরে গত ক’মাসে এ পর্যন্ত আট বার হামলা-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় দুই পক্ষেরই দায়ের করা হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। কিছু দিন থেমে থেমে দু’পক্ষ ফের সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। গ্রামবাসী জানান, সালিশের মাধ্যমে দু’পক্ষের বিরোধ নিস্পত্তি করা হলেও তুচ্ছ ঘটনায় আবার সংঘর্ষ বেঁধে যাচ্ছে। সংঘর্ষের খবরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দিলেও বিষয়টি স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ প্রশাসন নিচ্ছেন না। এ প্রসঙ্গে শাহজাদাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, গ্রামের দুই গোষ্ঠির বিরোধটি বর্তমানে আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। দুই গোষ্ঠিতে পরিষদের দুইজন নির্বাচিত মেম্বার রয়েছেন। চেয়ারম্যান হিসেবে আমি বিষয়টি নিস্পত্তির উদ্যোগ নিলেও তাদের অসহযোগিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। দুই গোষ্ঠির কিছু বিষয় আমি নিস্পত্তি করে দিলেও একটি মহলের ইন্দনে তারা ফের সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। চেয়ারম্যান বলেন, গ্রামের এই সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন। গ্রামের নিরপেক্ষ শান্তিপ্রিয় একাধিক ব্যক্তি জানান, কালা মিয়ার গোষ্ঠির মেম্বার তকদীর হোসেন এবং ধন মিয়ার গোষ্ঠির মেম্বার সাব্বির মিয়া। দুই গোষ্ঠির পূর্ব শত্র“তা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী ওই দুই মেম্বার। তারা দু’জনে গ্রামের আরমান মিয়া, দুলা মিয়া, আনার মিয়া, করম মিয়া, আ. মান্নান, হেলাল মিয়া, শাহজাহান মিয়া, মিন্টু মিয়া ও রশিদ মিয়ার শলাপরামর্শে একে অপরকে ঘায়েল এবং গ্রামে আধিপত্য বিস্তার করতে দু’গোষ্ঠির নিরীহ লোকদের বার বার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অপর একটি মহল তাদের এই বিরোধকে পুঁজি করে সুযোগে গ্রামের অশান্তি লাগিয়ে ফায়দা লুটে যাচ্ছেন।

সোমবার রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন গ্রামের আব্দুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুটপাট ও ভাংচুর করে। কিছুক্ষণ পর আব্দুর রহমানের লোকজন প্রতিবেশী চন্দু মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। দুই গ্র“পের লোকজন রাতভর হামলা-পাল্টা হামলা ও পরদিন সকালে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষচলাকালে গুরুতর আহত মিন্টু মিয়া ও নাসির মিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আব্দুর রহমানের স্ত্রী শামসুননাহার জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১টা পর্যন্ত চলে ভাংচুর ও লুটপাট। রাত দেড় টায় পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। সকালে ফের সংঘর্ষ বাঁধে।

এ ব্যাপারে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, এলাকার চিহ্নিত কিছু সমাজপতির ইন্দনে বার বার এ সংঘর্ষ বাঁধছে। সোমবার রাতের ঘটনা স্বীকার করে তিনি বলেন, ওই রাতেই গ্রামে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। কেউ গ্রেফতার হয়নি। পরদিন সকালে তারা ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে কেউই থানায় মামলা দেয়নি।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply