কৃষক সাহেব আলী হত্যা মামলা :সাত মাসেও চার্জসীট জমা দেয়নি পুলিশ

মাসুমুর রহমান মাসুদ, স্টাফ রিপোর্টার :
চান্দিনা উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে কৃষক সাহেব আলী (৪২) হত্যা মামলার চার্জসীট জমাদান নিয়ে টালবাহানা করছে পুলিশ। হত্যার সাত মাস অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি আদালতে চার্জসীট জমা দেওয়া হয়নি। এদিকে বাদি মো. কবির হোসেন অভিযোগ করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চান্দিনা থানার ওসি (তদন্ত) সৈয়দ মোহাম্মদ নূর তার কাছে চার্জসীট প্রস্তুতের জন্য দশ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তার সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন তিনি। এদিকে নিহতের পরিবার ও বাদি পক্ষ সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচার দাবি করেছে। নিহতের স্ত্রী শাহিনা আক্তার জানান, হত্যা মামলা দায়েরের পর নিরাপত্তা হীনতায় রয়েছেন তারা। নিহতের ছয় ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে গঠিত ওই পরিবারের বড় ছেলে রকিব একটি গ্যারেজে বিনা বেতনে কাজ শিখছে। ফলে উপার্জন কারী না থাকায় বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি।

এব্যাপারে মামলার বাদী মো. কবির হোসেন অভিযোগ করেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চান্দিনা থানার ওসি (তদন্ত) সৈয়দ মোহাম্মদ নূর আমার কাছে দশ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি বললাম ভাই আমি দশ হাজার টাকা দিতে পারব না। তখন তিনি আমার কোন কথা শুনেননি। তিনি বলেন, প্রতিদিন চুলকাইতে আইসেননা। চুলকাইতে আসলে চুলকানি বাড়বে। যদি টাকা না দেন তাহলে আমি এমন লিখা লিখব পাইছি পাইছি করে বাড়িতে যেতে হবে। এই কথা বলে আমাকে তাড়িয়ে দেন।

এব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ নূর মোবাইল ফোনে জানান, আমি দুই মাস আগে মামলাটি পেয়েছি, এর আগে অন্য অফিসাররা তদন্ত করেছেন। তদন্ত সমাপ্ত হলে চার্জসীট জমা দেওয়া হবে। ঘোষ দাবির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, আপনি তারে স্বাক্ষী প্রমাণ নিয়ে আসতে বলেন। আপনি ভাল করে তদন্ত করেন। সে কোন কোন লোক নিয়ে আসছিল ? কাদের সামনে আমি টাকা দাবি করেছি ? আপনি ভাল করে তদন্ত করেন। অসদাচরণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি আর কোন কথা বলতে রাজি হননি। একপর্যায়ে তিনি মোবাইল সংযোগটি কেটে দেন।

এব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইন চার্জ (সার্বিক) গোলাম মোর্সেদ জানান, মামলাটি আগের ওসি তদন্ত করেছেন। ওসি’র বদলির পর নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলাটি আবারও তদন্ত করছেন। ঘুষ দাবির বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্র“য়ারী একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র একই গ্রামের আব্দুস ছামাদ এর ছেলে মো. আক্কেল আলী তার স্বামী কৃষক মো. সাহেব আলীকে গলায় গামছা দিয়ে ধরে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে উপুর্যপুরি আঘাত করে মাথা থেঁতলে দেয়। মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়ে সাহেব আলী সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লেও আক্কেল আলী ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর করতে থাকে। পরিবারে সদস্যরা মারধরে বাঁধা দিলে তাদেরকেও বেধরক মারধর করা হয়। পরবর্তীতে এলাকাবাসী কৃষক মো. সাহেব আলীকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ২৫ ফেব্র“য়ারী সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। ওই দিন সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় সে নিহত হয়। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন সকালে তার লাশ নিয়ে স্বজনরা চান্দিনা থানায় মামলা করতে আসেন। এসময় কর্তব্যরত এস.আই রমজান তাদেরকে লাশ দাফন করে পরে মামলা দিতে বলেন। বহু চেষ্টার পর থানায় মামলা দায়েরে ব্যর্থ হয়ে তারা ২৮ ফেব্র“য়ারী কুমিল্লা আদালতে হত্যার সাথে জিড়ত আক্কেল আলীসহ এগার জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply