চৌধুরী আলমের ব্যবসায়ীক পার্টনার মমতাজ বেগমের বর্তমান ক্ষমতার উৎস কোথায়?

বিশেষ প্রতিনিধি :
নিখোজ হওয়া বিএনপি নেতা ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলমের ব্যবসায়িক পার্টনার রওশন ডেভেলাপমেন্ট লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস মমতাজ বেগমের ক্ষমতা এখনও অনেক ভারী। বিএনপি সরকারের সময় ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন চৌধুরী আলমের উপর ভর করে। তবে বর্তমানে কার উপর ভর করে ক্ষমতা প্রয়োগ করেন সে রহস্যজনক পুরুষের খবর এখানো আবিষ্কার করা যায়নি। কিন্তু পুলিশ বিভাগে তার যে ব্যাপক হাত রয়েছে সেটা কথা বার্তায় বুঝা যায়।

সারা দেশের পুলিশের ওসি থেকে শুরু করে আইজিপি পর্যন্ত সকলের মোবাইল নাম্বার তার হাতে রয়েছে। রাজধানীর আওলাদ হোসেন মার্কেটের ৪র্থ তলায় রওশন ডেভেলপমেন্ট এর অফিস, ইন্দ্রা রোডের বাসা চৌধুরী আলম প্রায় অফিস করতেন। রওশন ডেভেলপমেন্টের অফিসে এবং অফিস শেষে বাসায় ফিরতেন ইন্দিরা রোডের মমতাজ বেগম এর বাসায়। এ বাসা থেকে অপহরন বা নিখোঁজ হন চৌধুরী আলম। কোন গোয়েন্দা এ পর্যন্ত আলমের সন্ধান দিতে পারেনি।

কিন্তু একবারের জন্য কখনো তার ব্যবসায়ীক পার্টনার রাওশন ডেভেলপমেন্ট লিঃ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস মমতাজ বেগমকে জিজ্ঞাসা করেছে। এ সুত্রে জানা গেছে চৌধুরী আলমের নিকট মমতাজ বেগমের ছোট বোনকে বিয়ে দিয়ে তার থেকে ৬ (ছয়) কোটি ব্যবসার জন্য নিয়েছে এবং তাকে মৌলিক ভাবে রওশন ডেভেলপমেন্ট ও রওশন রিয়েল এস্টেটের চেয়ারম্যান পদে পদায়ন করেছেন। অপহরন বা নিখোজ হওয়ার আগ পর্যন্ত চৌধুরী আলম মমতাজ বেগমের আওলাদ হোসেনের মার্কেটে নিয়মিত অফিস করতেন এবং বিভিন্ন ক্লায়েন্টদের সাথে কথাবার্তা বলতেন। যারা চৌধুরী আলমকে ওই অফিসে দেখেছেন তাদের ধারনা মমতাজ বেগমই ৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে ছোট বোনকে বিয়ের নাটক সাজিয়ে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলেছেন। এখন মমতাজ বেগমকে জিজ্ঞাসা করলে হয়ত চৌধুরী আলমের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।

এদিকে মমতাজ বেগম রাজধানীতে ব্যাপক আলোচিত হয়ে উঠেছেন। ডেভেলাপ ব্যবসা নামে ফ্ল্যাট ক্রেতাদের সাথে প্রতারনা করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়েছেন। তাদের প্রথম প্রজেক্ট শ্যমলীর কাজী অফিস এলাকা ১৫২/ক-১০ পশ্চিম আগার গাঁও, শ্যামলী ২নং রোডের ‘রোওশন জাহানারা গার্ডেন’ বর্তমানে পুলিশ পাহারায় আছেন। জানা গেছে, এ ভবনের সম্পত্তির মালিক ইনছান হোসেন চৌধুরী ও জিয়াউর রহমান সনেট। এদের আমমোক্তার নাম নিয়ে জিয়া ভবন নির্মান শেষ করে মমতাজ বেগম সম্পত্তির মালিক অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে মালিক বানিয়ে পুনরায় নিজের নামে সাফ কবলা দেখান। ইনছান চৌধুরী অসুস্থতার সুযোগে এ অপকর্ম করেন।

এক পর্যায়ে ভবনের সকল ফ্ল্যাট নিজেই বিক্রি করা শুরু করেন এবং প্রতি ফ্ল্যাট দু’ থেকে তিন বার পর্যন্ত বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইনছান চৌধুরী ও সনেট তাদের রেশিও অনুযায়ী ফ্ল্যাট দখলে গেলে মমতাজ বেগম একদিনের মধ্যে পুলিশ হেড কোয়াটার থেকে স্পেশাল অর্ডারে একদল পুলিশ নিয়ে তাদের উচ্ছেদ করে নিজে নিয়ন্ত্রনে নেয়। বর্তমানেও বাড়ীটি পুলিশের পাহারায় আছে। মমতাজ বেগম পুলিশের আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকারের দোহাই দেয়। বাস্তবে সেটার প্রমান করলেন পুলিশ নিয়ে বাড়ী দখল ও পাহারায়। অন্য এক সুত্রে জানা যায়, আইজিপির চাচাত ভাইয়ের নামে রওশন জাহানারা গার্ডেনের দুইটি ফ্ল্যাট দিয়েছেন পুলিশের সহায়তা নেয়ার জন্য।

এর আগে চট্টগ্রামে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন মমতাজ বেগম। ভুয়া দলিল তৈরি করে সরকারী জায়গা দখল করার অপচেষ্টায় সেখানে গ্রেফতার হন। সাতদিন জেল হাজতে থাকার পর জামিনে মুক্তি হন। বাসায় তার বিশেষ রুম রয়েছে সেখানে জমিজমা সংক্রান্ত সকল রকম সীলমহর স্ট্যাম্প ভূমি সকল সরঞ্জাম, সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সরঞ্জাম সহ জাল দলিল সৃষ্টি, রামজায়ী, পচা, খতিয়ান, সাফকবলা সকল রকম কার্য সম্পাদন করে। এসকল ভূয়া জাল দলিল দিয়ে বিভিন্ন লিজিং কোম্পানী থেকে লোন নেয়, তারমধ্যে তার সাথে বেশী হট লাইন ফাস্ট লিজ ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেষ্টমেন্ট লি: জাহাঙ্গীর টাওয়ার কাওরান বাজার। এখানে দারোয়ান পিয়ন থেকে শুরু বড় কর্মকর্তাসহ ইট বালু পর্যন্ত দহরম মহরম সম্পর্ক।

মমতাজ বেগমের স্বাক্ষরিত কোন কাগজপত্র দখলে সেটা যাচাই বাছাই করার প্রয়োজন মনে করে না। বর্তমানে চৌধুরী আলমের জায়গায় আছে সু-স্বাস্থ্যের অধিকারী মিরপুর কল্যান পুরের ফারুখ নামের জনৈক ব্যক্তি। তার পরিনতি চৌধুরী আলমের মত হয় কিনা এ নিয়ে সন্দেহ করছে অনেকেই। স্বামী বিহীন মমতাজ বেগম মধ্যবিত্ত ঘরে জন্ম নিলেও বর্তমানে ঘন্টায় গুনছেন কোটি কোটি টাকা আর চলাচলের জন্য বিলাস বহুল দু’খানি প্রাইভেট কার। বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করেও মমতাজ বেগমের সাক্ষাত মিলানো যায়নি। ভূক্ত ভোগীরা তার বর্তমান ক্ষমতার উৎস জানতে চায়। তবে বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে বহুল আলোচিত পুলিশ অফিসার তেজগাঁও জোনের এডিসি হারুন প্রকাশ্য সহযোগিতা করছেন। বিএনপি চীফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুখকে শারীরিক নির্যাতন করে আলোচিত হন। প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় তার দম্ভোক্তি বেড়ে যায়।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply